বাসস
  ১৮ এপ্রিল ২০২৬, ১৫:৩২
আপডেট : ১৮ এপ্রিল ২০২৬, ১৬:২৪

মোহাম্মদপুরে আসাদুল হত্যাকাণ্ডে জড়িত মূল হোতাসহ গ্রেফতার ৪

শনিবার ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ব্রিফ করেন ডিএমপির তেজগাঁও বিভাগের উপ পুলিশ কমিশনার (ডিসি) মো. ইবনে মিজান। ছবি: বাসস

ঢাকা, ১৮ এপ্রিল, ২০২৬ (বাসস) : রাজধানীর মোহাম্মদপুরে চাঞ্চল্যকর আসাদুল হত্যাকাণ্ডের ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই মূল হোতাসহ চারজনকে গ্রেফতার করেছে মোহাম্মদপুর থানা পুলিশ। 

আজ (শনিবার) ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে একথা জানান ডিএমপির তেজগাঁও বিভাগের উপ পুলিশ কমিশনার (ডিসি) মো. ইবনে মিজান। 

গ্রেফতারকৃতরা হল: মো. মুন্না (২৪), মো. আকতার হোসেন (৪৫), মো. মিরাজ ফকির (২২) ও মো. নয়ন ওরফে খোকন (২৪)।

মো. ইবনে মিজান বলেন, গত বুধবার রাতে মোহাম্মদপুর থানার রায়েরবাজারের সাদেক খানের ইটখোলা এলাকায় রিপনের ওয়ার্কশপের সামনের রাস্তায় আসাদুল ওরফে লম্বু আসাদুলের ওপর অতর্কিত হামলা করা হয়। এ ঘটনার পর পুলিশ ভিকটিমকে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠায়। পরবর্তীতে সে মারা যায়। ওই ঘটনার পরপরই মোহাম্মদপুর থানা পুলিশ এবং বাহিনীর ঊর্ধ্বতন জোনাল এসি ও এডিসি সকলে মিলে ঘটনাটি ডিটেক্ট করার জন্য চেষ্টা করে। প্রথমে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় আমরা জড়িতদের শনাক্ত করার চেষ্টা করি। পরে মোহাম্মদপুর এবং মোহাম্মদপুরের আশেপাশের এলাকায় অভিযান শুরু করি। 

তিনি আরও বলেন, ঘটনার ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই সংশ্লিষ্ট চার অভিযুক্তকে ঢাকার কেরানীগঞ্জ থেকে আটক করতে সক্ষম হই। পরবর্তীতে তাদের জিজ্ঞাসাবাদে পর আলামত হিসেবে একটি মোটরসাইকেল এবং একটি সুইস গিয়ার চাকু জব্দ করি। 
ডিসি বলেন, জিজ্ঞাসাবাদে প্রাথমিকভাবে জানতে পারি আকতার ও ভিকটিম আসাদুলের মধ্যে বেশ কিছুদিন আগে মারামারি হয়। যার প্রেক্ষিতে আকতার আসাদুলকে আসামি করে একটি মামলাও করে। 

পরবর্তীতে এই মামলায় আসাদুল গ্রেফতার হয়ে জেল খাটে। কিছুদিন আগে জামিনে বের হয়। ওই ঘটনা এবং আকতারের সঙ্গে পূর্বের টাকা-পয়সা সংক্রান্ত বিরোধের জেরে প্রতিশোধস্বরূপ বন্ধুদের সহযোগিতায় আসাদুলকে ডেকে অতর্কিত হামলা চালায় আকতার। এসময় ভিকটিমকে বেশ কয়েকবার ছুরিকাঘাত করা হয় এবং ইট দিয়েও আঘাত করা হয়।

তিনি বলেন, এই ঘটনায় আমরা আরও কয়েকজনের নাম পেয়েছি। তদন্তের স্বার্থে এখন তা প্রকাশ করছি না। তবে তাদের ধরার জন্য অভিযান অব্যাহত রেখেছি। আশা করছি অচিরেই বাকিদের আইনের আওতায় আনতে সক্ষম হব।

ডিসি আরও বলেন, এ ঘটনায় ভিকটিমের চাচাতো বোন বাদী হয়ে মামলা করেছে। আসামিদের আদালতে সোপর্দ করে রিমান্ডে নেওয়ার আবেদন জানব। গ্রেফতার চারজনের নামে একাধিক মামলা রয়েছে। বাকি আসামিদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করা হবে।