শিরোনাম

ঢাকা, ১৫ এপ্রিল, ২০২৬ (বাসস) : ভূমি মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব এ এস এম সালেহ আহমেদ বলেছেন, ভূমি অধিগ্রহণের স্বচ্ছতা নিশ্চিতকরণে সরকার বদ্ধপরিকর। এছাড়াও ভূমি অধিগ্রহণ প্রক্রিয়ায় দক্ষতার পাশাপাশি জবাবদিহিতা এবং মানবিকতা নিশ্চিত করা সরকারের একটি মৌলিক নীতিগত অঙ্গীকার।
আজ বুধবার রাজধানীর প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে ভূমি মন্ত্রণালয় এবং বিশ্ব ব্যাংকের যৌথ আয়োজনে বাংলাদেশে ভূমিসেবা ও ভূমি ব্যবস্থাপনা আধুনিকায়ন বিষয়ক অংশীজনদের সঙ্গে মতবিনিময় কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এ কথা বলেন।
সালেহ আহমেদ বলেন, ভূমি অধিগ্রহণ প্রক্রিয়া এখনো অনেক ক্ষেত্রে সময়সাপেক্ষ, জটিল এবং নাগরিকদের জন্য কষ্টকর। ভূমি কেবল একটি সম্পদ হিসেবে নয়, এটি মানুষের জীবিকা, সম্মান, সামাজিক নিরাপত্তা এবং আবেগের সঙ্গে গভীরভাবে জড়িত। সেজন্য ভূমি অধিগ্রহণ প্রক্রিয়ায় দক্ষতার পাশাপাশি স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা এবং মানবিকতা নিশ্চিত করা সরকারের একটি মৌলিক নীতিগত অঙ্গীকার।
সচিব বলেন, একই সঙ্গে, ক্ষতিগ্রস্ত জনগণের প্রাপ্য ক্ষতিপূরণ দ্রুত ও হয়রানিমুক্তভাবে পৌঁছে দিতে একটি ডিজিটাল পেমেন্ট পদ্ধতি তৈরি করা হচ্ছে। এতে ক্ষতিগ্রস্তদের প্রাপ্ত অর্থ সরাসরি ব্যাংক এ্যাকাউন্টে পৌঁছে দেওয়া হবে। এর ফলে দীর্ঘসূত্রিতা, হয়রানি হ্রাস পাবে এবং পুরো ভূমি অধিগ্রহণের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা আরও শক্তিশালী হবে।
ভূমি মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র এই সচিব বলেন, সরকার এখন এডহক এপ্রোচ থেকে বেরিয়ে এসে একটি নিয়মতান্ত্রিক ডিজিটাল ভূমি অধিগ্রহণ কাঠামো প্রতিষ্ঠার দিকে অগ্রসর হচ্ছে। এর অংশ হিসেবে ভূমি মন্ত্রণালয় স্থাবর সম্পত্তি অধিগ্রহণ ও ভূমি হুকুম দখল বিধিমালার খসড়া প্রস্তুত সম্পন্ন করেছে।
বিশ্ব ব্যাংকের প্রতিনিধি শ্রী কুমার তাদিমাল্লা বলেন, বাংলাদেশ ইতোমধ্যে ভূমি আধুনিকায়নে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেছে— এটি অবশ্যই প্রশংসনীয়। এখনও অনেক কাজ বাকি, তবুও এখন পর্যন্ত যে অগ্রগতি হয়েছে তা স্বীকৃতি পাওয়ার যোগ্য।
তিনি বলেন, আমাদের লক্ষ্য শুধু প্রযুক্তি ব্যবহার নয়, বরং এমনভাবে ব্যবহার করা যাতে ভূমির মালিক, সরকার, বিনিয়োগকারী এই তিনটি পক্ষই বাস্তব উপকার পায়। বিশেষ করে প্রান্তিক জনগোষ্ঠী—যারা কম শিক্ষিত, দরিদ্র বা নারীরা—তাদের জন্য এই পরিবর্তন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তারা যদি প্রক্রিয়াটি বুঝতে পারে, তাহলে তারা সহজেই অনিয়ম চিহ্নিত করতে পারবে এবং নিজেদের অধিকার রক্ষা করতে পারবে। এতে পুরো ব্যবস্থার ওপর আস্থা ও স্থিতিশীলতা বাড়বে।
কর্মশালায় ভূমি মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (উন্নয়ন) মো. এমদাদুল হক চৌধুরীর সভাপতিত্বে বিশ্ব ব্যাংকের প্রতিনিধি হিসেবে শ্রী কুমার তাদিমাল্লা, ডং কিউ কোয়াক, মো. আক্তারুজ্জামান বক্তব্য রাখেন, অতিরিক্ত সচিব (অবসরপ্রাপ্ত) তারিক হিকমত।
এ ছাড়াও ঢাকা মাহানগরের শহরতলী ও পাশ্ববর্তী এলাকায় শিল্প ও উৎপাদনমূলক সমীক্ষার চূড়ান্ত খসড়া প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন বিশ্বব্যাংকের প্রতিনিধি ইয়ন এফ. ঝাং ও ঝিও জেরি চেন।
কর্মশালায় ভূমি অধিগ্রহণের জন্য একটি প্রমিত পরিচালন পদ্ধতি বা এসওপি উপস্থাপন করা হয় এবং অংশীজনদের মতামত গ্রহণ করা হয়। সবার মতামতের আলোকে এই এসওপি চূড়ান্ত করা হবে। কর্মশালায় অংশহগ্রহণকারীরা মতামত দিতে গিয়ে বলেন, এই এসওপি’র মাধ্যমে অধিগ্রহণ প্রক্রিয়া আরও সহজ, দ্রুত ও জনবান্ধব হবে যা দেশের উন্নয়ন ত্বরান্বিত করবে।
কর্মশালায় বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাগণ, উন্নয়ন সহযোগী সংস্থা, সুশীল সমাজ, বেসরকারি সংস্থা এবং গণমাধ্যম প্রতিনিধিবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।