শিরোনাম

ঢাকা, ১৪ এপ্রিল, ২০২৬ (বাসস) : বাংলা একাডেমি নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে বাংলা নববর্ষ ১৪৩৩ উদযাপন করেছে।
এদিন একাডেমির নজরুল মঞ্চে বর্ষবরণ সংগীত, নববর্ষ বক্তৃতা এবং সকাল ৯ টায় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
সুমন মজুমদারের পরিচালনায় সঙ্গীতমঞ্জরী শিল্পীগোষ্ঠীর পরিবেশনায় বর্ষবরণ সংগীতের মধ্য দিয়ে নববর্ষের অনুষ্ঠানমালা শুরু হয়।
বাংলা একাডেমিতে সমবেত জারি গান পরিবেশন করেন শিল্পী সাইদুর রহমান বয়াতি ও তার দল। সংগীত পরিবেশন করেন এ টি এম আশরাফ হোসেন, আশরাফুজ্জামান, জি এম জাকির হোসেন, মো. মাহমুদুল হাসান, রহিমা খাতুন, আশরাফ মাহমুদ, শারমিন সুলতানা, মৌসুমী ইকবাল।
যন্ত্রাণুষঙ্গে ছিলেন প্রিয়ব্রত চৌধুরী (তবলা), এফ এম আলমগীর কবীর (বাঁশি), আনোয়ার সাহদাত রবিন (কী-বোর্ড), দীপঙ্কর রায় (অক্টোপ্যাড) এবং মেহেদী হাসান রনি (বাংলা ঢোল)।
বর্ষবরণ অনুষ্ঠান সঞ্চালনায় ছিলেন বাংলা একাডেমির উপপরিচালক সায়েরা হাবীব এবং ইমরুল ইউসুফ।
বাংলা নববর্ষ ১৪৩৩ উদযাপন উপলক্ষ্যে একাডেমি প্রাঙ্গণে আজ পহেলা বৈশাখ থেকে শুরু হয়ে ৭ বৈশাখ পর্যন্ত সপ্তাহব্যাপী বিভিন্ন ছাড়ে বাংলা একাডেমি প্রকাশিত বইয়ের আড়ং (বিক্রয় উৎসব) চলবে।
বাংলা নববর্ষ উদযাপন উপলক্ষ্যে বাংলা একাডেমি এবং বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প কর্পোরেশন (বিসিক)-এর যৌথ উদ্যোগে একাডেমি প্রাঙ্গণে পহেলা বৈশাখ থেকে ৭ বৈশাখ পর্যন্ত সপ্তাহব্যাপী বৈশাখী মেলার আয়োজন করা হয়েছে।
এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে মেলা উদ্বোধন করেন সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী, বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শিল্পমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির, অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন শিল্পসচিব মো. ওবায়দুর রহমান, সংস্কৃতি সচিব কানিজ মওলা এবং বাংলা একাডেমির সভাপতি অধ্যাপক আবুল কাসেম ফজলুল হক। এতে সভাপতিত্ব করেন বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক অধ্যাপক মোহাম্মদ আজম।
উদ্বোধন অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন বিসিক চেয়ারম্যান মো. সাইফুল ইসলাম।
একাডেমির সভাপতি অধ্যাপক আবুল কাসেম ফজলুল হকের সভাপতিত্বে আলোচনা অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তৃতা করেন বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক অধ্যাপক মোহাম্মদ আজম এবং নববর্ষ বক্তৃতা করেন ড. ওয়াকিল আহমদ।
অধ্যাপক মোহাম্মদ আজম বলেন, নববর্ষে আমাদের প্রত্যয় হোক চির নতুনের অর্থপূর্ণ আবাহন। আমাদের নিজস্ব সাংস্কৃতিক সত্তার প্রকাশ-বিকাশে বাংলা নববর্ষ উৎসবের ভূমিকা তাৎপর্যপূর্ণ।
ড. ওয়াকিল আহমদ বলেন, জাতীয় জীবনের নানা কাজে জ্ঞাতসারে হোক, অজ্ঞাতসারে হোক তিনটি ক্যালেন্ডার বা বর্ষপঞ্জি অনুসরণ করে থাকি— বঙ্গাব্দ, খ্রিস্টাব্দ ও হিজরি অব্দ। বাংলা মাসকে স্মরণ করার মুখ্য একটি দিন হলো পহেলা বৈশাখ, যা নববর্ষরূপে উদযাপিত হয়।
অধ্যাপক আবুল কাসেম ফজলুল হক বলেন, বাংলা নববর্ষ উৎসব আমাদের জাতিসত্তার নিজস্বতার শক্তি ও সৌন্দর্য তুলে ধরে। জীর্ণ-পুরাতনের পথ পরিহার করে জাতীয় ঐক্য ও সমৃদ্ধির নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণই হোক এবারের নববর্ষ উৎসবের প্রত্যয়।