বাসস
  ১৩ এপ্রিল ২০২৬, ২২:৫৯

বাংলাদেশ ফিলিপাইন বাণিজ্য জোরদারে ‘ব্রিজিং নেশনস, বিল্ডিং প্রসপারিটি’ রোডম্যাপ উন্মোচন

ছবি : সংগৃহীত

ঢাকা, ১৩ এপ্রিল ২০২৬ (বাসস) : বাংলাদেশ ও ফিলিপাইনের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য সম্প্রসারণে কৌশলগত উদ্যোগের অংশ হিসেবে ‘ব্রিজিং নেশনস, বিল্ডিং প্রসপারিটি’ শীর্ষক একটি রোডম্যাপ উপস্থাপন করেছে বাংলাদেশ-ফিলিপাইন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (বিপিসিসিআই)। রাজধানীর বারিধারার একটি হোটেলে আয়োজিত উচ্চপর্যায়ের এক সম্মেলনে এ রোডম্যাপ উপস্থাপন করা হয়।

বিপিসিসিআইয়ের উপদেষ্টা হুমায়ুন রশিদ রোডম্যাপটি উপস্থাপন করেন। এতে কৃষি প্রক্রিয়াজাতকরণ, পর্যটন ও স্বাস্থ্যসেবা খাতে সহযোগিতা জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। এসব খাতে প্রাতিষ্ঠানিক সমন্বয় বৃদ্ধি করে দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও এগিয়ে নেওয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

রোডম্যাপে সম্ভাবনাময় কয়েকটি খাত চিহ্নিত করে হুমায়ুন রশিদ বলেন, এসব খাতে সহযোগিতা বাড়লে দক্ষতা বিনিময়, যৌথ বিনিয়োগ এবং টেকসই প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিত হবে।

প্রস্তাবিত অর্থনৈতিক করিডরের জন্য তিনটি খাতকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। এগুলো হলো-কৃষি প্রক্রিয়াজাতকরণ, পর্যটন ও সংযোগ, এবং স্বাস্থ্যসেবা ও দক্ষতা উন্নয়ন।

এসব খাতকে কেন্দ্র করে দুই দেশের মধ্যে অংশীদারিত্ব জোরদার, প্রযুক্তি বিনিময় এবং যৌথ উদ্যোগ বৃদ্ধির কথা বলা হয়েছে। এতে উভয় দেশের ব্যবসায়িক সম্প্রদায় ও সাধারণ মানুষ উপকৃত হবে বলে আশা প্রকাশ করা হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঢাকায় নিযুক্ত ফিলিপাইনের রাষ্ট্রদূত নিনা পি. কাইনলেট। 

তিনি বাংলাদেশ ও ফিলিপাইনের ক্রমবর্ধমান বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক এবং বিস্তৃত অংশীদারিত্বের কথা তুলে ধরেন। 

আগামী বছর দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কের ৫৫ বছর পূর্তি উপলক্ষ্যে বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও উন্নয়ন সহযোগিতা আরও জোরদারের প্রত্যয় পুনর্ব্যক্ত করেন তিনি। 

অনুষ্ঠান বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের (দ্বিপক্ষীয়) সচিব ড. মো. নজরুল ইসলাম।

 তিনি বলেন, দুই দেশের মধ্যে বেশ কিছু সম্ভাবনাময় অর্থনৈতিক খাত রয়েছে, যেগুলোর পূর্ণ সম্ভাবনা এখনো কাজে লাগানো যায়নি। তিনি সাম্প্রতিক বৈদেশিক নীতি সংলাপের ভিত্তিতে নাবিকদের সনদের পারস্পরিক স্বীকৃতি, চুক্তি স্বাক্ষর এবং নার্সিং শিক্ষা ও সক্ষমতা উন্নয়ন বিষয়ে আসন্ন চুক্তিকে স্বাগত জানান।

সম্মেলনে উভয় পক্ষ কূটনৈতিক সম্পর্ককে কাজে লাগিয়ে অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জনের প্রত্যয় ব্যক্ত করে। এতে দুই দেশের মানুষের মধ্যে যোগাযোগ ও বাণিজ্যের পরিসর বৃদ্ধি পাবে এবং কৌশলগত খাতে যৌথ প্রবৃদ্ধির নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।