বাসস
  ১২ এপ্রিল ২০২৬, ১৬:০০

চিড়িয়াখানায় আসছে চিতাবাঘসহ নতুন ৩ প্রাণী

ছবি : সংগৃহীত

ঢাকা, ১২ এপ্রিল, ২০২৬ (বাসস): প্রকৃতিপ্রেমীদের জন্য সুখবর! আগামী মাসের মধ্যে রাজধানীর মিরপুর জাতীয় চিড়িয়াখানার প্রাণীদের সঙ্গে যোগ হচ্ছে আরও নতুন তিন অতিথি। এগুলো হল: চিতাবাঘ, ওয়াইল্ড বিস্ট ও ওয়াটার বার্ড। প্রাণীগুলো বিভিন্ন দেশ থেকে আনতে ইতোমধ্যে ওয়ার্ক অর্ডারও পাঠানো হয়েছে।

মিরপুর জাতীয় চিড়িয়াখানার পরিচালক ড. মোহাম্মাদ রফিকুল ইসলাম তালুকদার বাসস’কে এ তথ্য জানান। 

তিনি বলেন, ‘ওয়ার্ক অর্ডার দেওয়া হয়েছে। বন অধিদপ্তরের অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। আশা করছি দ্রুত পাওয়া যাবে। মে মাসের মধ্যে প্রাণীগুলো দেশে আসবে বলে আশা করছি।’

জাতীয় চিড়িয়াখানা কর্তৃপক্ষ জানায়, বর্তমানে ১৩৫ প্রজাতির মোট ৩ হাজার ১শ’র মত প্রাণী রয়েছে। ১৯৭৪ সালে ১৮৬ একর জায়গার ওপর গড়ে ওঠা দেশের সবচেয়ে বড় এই জাতীয় চিড়িয়াখানা রাজধানীর মিরপুরে অবস্থিত।

কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, প্রজাতির দিক থেকে চিড়িয়াখানায় সবচেয়ে বেশি রয়েছে পাখি। উটপাখি, ইমু, হাড়গিলাসহ ৬১ প্রজাতির পাখি রয়েছে এখানে। 

এছাড়াও এশীয় হাতি, জিরাফ, আফ্রিকান গন্ডার, জলহস্তীর মত বড় প্রাণী আছে ১৯ প্রজাতির। আর রয়েল বেঙ্গল টাইগার, সাদা সিংহ, এশীয় কালো ভালুকের মত মাংসাশী প্রাণী আছে ৯ প্রজাতির। 

তবে সংখ্যায় সবচেয়ে বেশি রয়েছে নিশিবক বা ওয়াক, কানিবক ও চিত্রা হরিণ। এর মধ্যে নিশিবক রয়েছে ৫২৪টি, কানিবক ৩৮৫টি এবং চিত্রা হরিণের সংখ্যা ২৯৩টি।

কর্মকর্তারা জানান, জাতীয় চিড়িয়াখানার এখানে ৪৮ প্রজাতির ৬৩১টি প্রাণী রয়েছে। দর্শনার্থীদের অন্যতম প্রধান আকর্ষণ মাংসাশী ও তৃণভোজী প্রাণী। এখানে ৯টি প্রজাতির ৩৮টি মাংসাশী প্রাণী রয়েছে। এর মধ্যে রয়েল বেঙ্গল টাইগার আছে ১৬টি। সম্প্রতি বাঘ দম্পতি বেলি ও টগর চারটি বাচ্চার জন্ম দেয়; যার মধ্যে ৩টিই সাদা (অ্যালবিনো)। 

এছাড়াও রয়েছে ১টি আফ্রিকান সাদা সিংহ, ৩টি আফ্রিকান সিংহ, ৬টি শেয়াল, ৪টি এশীয় কালো ভালুক, ১টি চিত্রা হায়েনা ও ২টি ডোরাকাটা হায়েনা। আছে ৩টি মেছো বিড়াল এবং ১টি বনবিড়াল।

তৃণভোজী প্রাণী রয়েছে ১৯ প্রজাতির, যাদের মোট সংখ্যা ৩৮৭। এর মধ্যে এশীয় হাতি ৫টি এবং জলহস্তী আছে ১২টি। 

দর্শনার্থীদের অন্যতম প্রধান আকর্ষণ জিরাফ রয়েছে ৭টি, যার মধ্যে সম্প্রতি একটির জন্ম হয়েছে। বিপন্ন হওয়ার ঝুঁকিতে থাকা দেশী গয়াল আছে ২টি।

চিড়িয়াখানায় নানা প্রজাতির বানরও রয়েছে। সবচেয়ে বেশি রয়েছে রেসাস বানর, সংখ্যায় মোট ৬৫টি। কুলু বানর, উল্লুক ও হামাদ্রিয়াস বেবুন রয়েছে একটি করে। 

দুই বছরের বেশি বয়সী দর্শনার্থীদের প্রত্যেককে ৫০ টাকার টিকিট কেটে চিড়িয়াখানায় ভেতরে প্রবেশ করতে হয়।