শিরোনাম

ঢাকা, ১০ এপ্রিল, ২০২৬ (বাসস) : দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের সীমান্ত এলাকায় জ্বালানি ও ভোজ্য তেলের অবৈধ মজুত ও পাচার প্রতিরোধে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) তৎপরতা জোরদার করেছে।
একই সঙ্গে আসন্ন বাংলা নববর্ষ (পহেলা বৈশাখ) ও পবিত্র ঈদুল আজহা ঘিরে সার্বিক আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।
আজ শুক্রবার বিজিবির এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বিজিবির যশোর রিজিয়ন কুষ্টিয়া, মেহেরপুর, চুয়াডাঙ্গা, ঝিনাইদহ, যশোর, সাতক্ষীরা ও খুলনা জেলার স্থলসীমান্ত এবং সুন্দরবনের গহীন অরণ্যের জলসীমান্ত মিলিয়ে প্রায় ৬০০ কিলোমিটার বিস্তৃত এলাকায় দায়িত্ব পালন করছে। ২টি সেক্টর— কুষ্টিয়া ও খুলনা সেক্টরের অধীনে ৭টি ব্যাটালিয়ন ও ১১৬টি বিওপি’র মাধ্যমে প্রতিদিন দিবারাত্রি ৪৬৪টি টহল পরিচালনার মাধ্যমে এ অঞ্চলের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হচ্ছে।
এতে আরও বলা হয়, সাম্প্রতিক সময়ে ভোজ্য ও জ্বালানি তেলের অবৈধ মজুত ও পাচার প্রতিরোধে বিশেষ নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। বেনাপোল, ভোমরা ও দর্শনা স্থলবন্দরে আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রমে কড়াকড়ি আরোপ করে বিশেষ তল্লাশি অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। সীমান্তবর্তী ও স্থলবন্দর এলাকায় অবস্থিত ২২টি তেল পাম্পে নিয়মিত নজরদারি ও বিশেষ চেকিং কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে। সম্ভাব্য পাচার রুট চিহ্নিত করে এ পর্যন্ত ২ হাজার ৩২৫টি নিয়মিত ও বিশেষ টহল পরিচালনা করা হয়েছে এবং চোরাচালানপ্রবণ এলাকাসমূহে ৮৯৯টি বিশেষ চেকপোস্ট স্থাপন করা হয়েছে।
বিজিবি জানায়, স্থানীয় জনগণের মাঝে সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে ৮৬৮টি মতবিনিময় সভা আয়োজন করা হয়েছে। স্থানীয় প্রশাসন, সেনাবাহিনী, র্যাব, পুলিশ ও শুল্ক বিভাগের সমন্বয়ে ৩১টি টাস্কফোর্স অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। এসব অভিযানে অবৈধ তেল জব্দসহ একজনকে ২ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড এবং ৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
এছাড়া বিভিন্ন সংস্থার সমন্বয়ে ৬৬টি যৌথ নজরদারি ও তল্লাশি কার্যক্রম পরিচালিত হয়েছে।
চলতি ২০২৬ সালের প্রথম তিন মাসে যশোর রিজিয়ন চোরাচালানবিরোধী অভিযানে ৮৮ জন আটক এবং প্রায় ৫৮ কোটি ৯৩ লাখ টাকার মালামাল জব্দ করেছে। জব্দকৃত মালামালের মধ্যে রয়েছে ১.২৮৯১৫ কেজি স্বর্ণ, ১৫৫.৭৬ গ্রাম ডায়মন্ড, ১০.৫ কেজি রৌপ্য, ৪২টি অস্ত্র এবং ১৫২ রাউন্ড গুলি। অপরদিকে, ২০২৫ সালে ৪২০ জন আসামিসহ প্রায় ৩৭৭ কোটি ৪৬ লাখ টাকার চোরাচালানী মালামাল আটক করা হয়, যার মধ্যে ৫৮ কেজি স্বর্ণ, ৫৩ কেজি রৌপ্য, ২৭টি অস্ত্র এবং ১৫২ রাউন্ড গুলি উল্লেখযোগ্য।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, মাদকবিরোধী অভিযানেও বিজিবি উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জন করেছে। চলতি বছরের প্রথম তিন মাসে ২ হাজার ৩২০ বোতল মদ, ১০০ গ্রাম ক্রিস্টাল মেথ, ১২২ কেজি গাঁজা, ২৬ হাজার ২৭১ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট এবং ৪ হাজার ১০০ বোতলের অধিক ফেন্সিডিলসহ প্রায় ২২ কোটি ১৩ লাখ টাকার মাদকদ্রব্য জব্দ করা হয়েছে। এছাড়া গত বছর মাদকবিরোধী অভিযানে ৩০ হাজার ৮০০ বোতল মদ, ৩৭ কেজি হিরোইন, ১ লাখ ৬১ হাজার পিস ইয়াবা, ৪৯ হাজার বোতল ফেন্সিডিল এবং ২ হাজার কেজির অধিক গাঁজাসহ প্রায় ১৯ কোটি ৫২ লাখ টাকার মাদকদ্রব্য জব্দ করা হয়।
এদিকে, আসন্ন ঈদুল আজহা উপলক্ষে সীমান্ত দিয়ে গবাদিপশুর অনুপ্রবেশ ও চামড়া পাচার রোধে বিজিবি বিশেষ নজরদারি বৃদ্ধি করেছে। সীমান্ত এলাকায় অতিরিক্ত টহল, চেকপোস্ট স্থাপন এবং সন্দেহভাজন চলাচলের ওপর কঠোর নজরদারি অব্যাহত রয়েছে। পাশাপাশি সীমান্তবর্তী জনগণের মাঝে সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনার মাধ্যমে চোরাচালানের ক্ষতিকর দিক তুলে ধরা হচ্ছে এবং আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় তাদের সহযোগিতা কামনা করা হচ্ছে।
বিজিবি জানিয়েছে, সীমান্ত সুরক্ষা, চোরাচালান দমন এবং দেশের সার্বভৌমত্ব অক্ষুণ্ন রাখতে তাদের কার্যক্রম ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে। সংশ্লিষ্ট সকল সংস্থার সমন্বিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে একটি নিরাপদ ও সুরক্ষিত সীমান্ত নিশ্চিত করা সম্ভব বলে তারা মনে করে।