বাসস
  ০৯ এপ্রিল ২০২৬, ২১:২৪

বিমান বাহিনীর বার্ষিক মহড়া ‘আকাশ বিজয়-২০২৬’ সমাপ্ত

ছবি : আইএসপিআর

ঢাকা, ৯ এপ্রিল, ২০২৬ (বাসস) : বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর বার্ষিক মহড়া 'আকাশ বিজয়-২০২৬' আজ বৃহস্পতিবার সফলভাবে সমাপ্ত হয়েছে।

বিমান বাহিনী প্রধান এয়ার চীফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খাঁন বিমান বাহিনীর বিভিন্ন কমান্ড সেন্টার ও ঘাঁটিতে মহড়ার কার্যক্রম সরেজমিনে পরিদর্শন করেন। মহড়াটি তিনটি ধাপে পরিচালিত হয়-কমিউনিকেশন এক্সারসাইজ, লজিস্টিক এক্সারসাইজ এবং লাইভ এক্সারসাইজ। প্রতিটি ধাপে বাস্তবসম্মত পরিস্থিতি সৃষ্টির মাধ্যমে অপারেশনাল প্রস্তুতি যাচাই করা হয়।

মহড়ায় বিমান বাহিনীর বৈমানিকসহ সকল সদস্য আকাশ যুদ্ধের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ রণকৌশল অনুশীলন করেন। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য ছিল যুদ্ধ বিমানের মাধ্যমে এয়ার অ্যাটাক ও ইন্টারসেপশন, আকাশ থেকে শত্রু কবলিত এলাকা পর্যবেক্ষণ, রশদ সরবরাহ সৈন্য ও যুদ্ধাস্ত্র স্থানান্তর, স্পেশাল অপারেশন পরিচালনা, শত্রু দেশের ভূখণ্ডে ইজেক্ট হওয়া বৈমানিককে বিমান বাহিনীর কমান্ডো দলের মাধ্যমে উদ্ধার অভিযান, যা কমবেট সার্চ এন্ড রেসকিউ (সিএসএআর) নামে পরিচিত।

এছাড়া নবসংযুক্ত অ্যান্টি-ড্রোন সিস্টেমের মাধ্যমে শত্রু ড্রোন মোকাবেলার কৌশল এবং রাতের অন্ধকারে শত্রু দেশের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় এয়ারবর্ন ট্রুপস ইনসার্শন অপারেশন অনুশীলন। এই মহড়ায় বিমান বাহিনীর বিভিন্ন আকাশ প্রতিরক্ষা র‌্যাডার স্কোয়াড্রনের মাধ্যমে শত্রুপক্ষের সম্ভাব্য আক্রমণ শনাক্ত করে নিজস্ব যুদ্ধ বিমান ও মিসাইল ইউনিটের সহায়তায় তা প্রতিহত করার কৌশল অনুশীলন করা হয়। একইসাথে ঘাঁটি প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার আওতায় ভূমিভিত্তিক প্রতিরক্ষা কার্যক্রমও সফলভাবে পরিচালিত হয়।

এবারের মহড়ায় বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর যুদ্ধ বিমান, পরিবহন বিমান, হেলিকপ্টার, র‌্যাডার স্কোয়াড্রন, মিসাইল ইউনিট এবং আনম্যানড এরিয়াল সিস্টেম ইউনিটসহ সকল যুদ্ধাস্ত্র ও সদস্য সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করে। মহড়াটি বিমান বাহিনীর সকল ঘাঁটি, স্টেশন ও ইউনিট ছাড়াও সিলেট, টাঙ্গাইল, লালমনিরহাট, শমশেরনগর, বরিশাল, রসুলপুর ও সুধারামসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে গত ৫ এপ্রিল থেকে পরিচালিত হয়।

মহড়াটিকে আরো বাস্তবসম্মত ও ফলপ্রসূ করার লক্ষ্যে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী, বিজিবি, পুলিশ, সিভিল ডিফেন্স এবং বিএনসিসি (এয়ার উইং) অংশগ্রহণের মাধ্যমে আন্তঃবাহিনী সমন্বয় জোরদার করা হয়।

এই মহড়ার মাধ্যমে বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর বিদ্যমান সমরাস্ত্র ও অপারেশনাল সক্ষমতা মূল্যায়নের পাশাপাশি আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে।