বাসস
  ০৯ এপ্রিল ২০২৬, ১৯:৩০

পাহাড় ও টিলা কাটা বন্ধে প্রতিমন্ত্রীর কঠোর নির্দেশ

পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম আজ সকালে সচিবালয়ে মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে ‘পাহাড় ও টিলা কাটা বন্ধে করণীয় নিরূপণ’ শীর্ষক এক সভায় সভাপতির বক্তব্যে রাখেন। ছবি: পিআইডি

ঢাকা, ৯ এপ্রিল, ২০২৬ (বাসস) : পাহাড় ও টিলা কাটা বন্ধে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম কঠোর নির্দেশ দিয়েছেন। এছাড়া চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনারকে তদন্ত কমিটি গঠনেরও নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। 

আজ সকালে সচিবালয়ে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে ‘পাহাড় ও টিলা কাটা বন্ধে করণীয় নিরূপণ’ শীর্ষক এক সভায় সভাপতির বক্তব্যে এ নির্দেশ দেন প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম।

সভায় প্রতিমন্ত্রী বলেন, একটি দৈনিক পত্রিকায় গত ৮ এপ্রিল তারিখে প্রকাশিত ‘খাগড়াছড়িতে তিন মাসে আট পাহাড় বিলীন’ শিরোনামের সংবাদের পরিপ্রেক্ষিতে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। আগামী ৭ কার্যদিবসের মধ্যে এ কমিটিকে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তদন্তে পরিবেশ অধিদপ্তর বা অন্য কোনো সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীর সংশ্লিষ্টতা প্রমাণিত হলে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

সভায় জানানো হয়, খাগড়াছড়ি জেলা সদরে মোবাইল কোর্ট পরিচালনার মাধ্যমে সদর উপজেলার খাড়িছড়া মাস্টারপাড়া এলাকা থেকে ২টি এক্সকেভেটর জব্দ করা হয়েছে। এছাড়া, মানিকছড়ি উপজেলার তিনটহরী এলাকায় ১ লক্ষ টাকা জরিমানা আদায় করা হয়েছে এবং উপজেলার যোগ্যাছোলা ইউনিয়নের ও বাটনাটলীতে নিয়মিত মামলা দায়ের করা হয়েছে।

অন্যদিকে, সম্প্রতি সিলেট জেলার কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার ভোলাগঞ্জ শাহ-আরেফিন টিলায় পরিচালিত অভিযানে ১০টি পাথর উত্তোলন যন্ত্রের বিভিন্ন অংশ ধ্বংস এবং তিনটি পাথরবোঝাই ট্রাক জব্দ করে অকেজো করে দেওয়া হয়েছে। পাথর উত্তোলন কাজে থাকা ৩ জনকে আটক করে বিচারে সোপর্দ করা হয়।


পাহাড় কাটায় এক্সকেভেটর ব্যবহার বন্ধে কঠোর নজরদারি জোরদারের নির্দেশ দেন প্রতিমন্ত্রী।

তিনি বলেন, এক্সকেভেটর ব্যবহারের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট কারণ উল্লেখপূর্বক স্থানীয় প্রশাসনের (জেলা ও উপজেলা) পূর্বানুমতি বাধ্যতামূলক করা হবে। ইটভাটায় ব্যবহৃত মাটির উৎস যাচাই ছাড়া কোনো অনুমতি দেওয়া যাবে না। ইটভাটায় কৃষি জমির মাটি ব্যবহার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। পরিবেশ অধিদপ্তরের দায়েরকৃত মামলাগুলোর তদন্তপূর্বক দ্রুত নিষ্পত্তি করে এবং আসামিদের গ্রেফতার নিশ্চিত করা হবে।

প্রতিমন্ত্রী সংশ্লিষ্ট সকল বিভাগ ও প্রশাসনকে সমন্বিতভাবে কাজ করে পাহাড় ও পরিবেশ রক্ষায় কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানান।

সভায় পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের সচিব, মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, সংশ্লিষ্ট জেলার জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এবং পরিবেশ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।