বাসস
  ০৮ এপ্রিল ২০২৬, ১৮:৫৩

হরমুজ প্রণালির দিকে অগ্রসর হচ্ছে বিএসসি’র জাহাজ ‘বাংলার জয়যাত্রা’

ছবি : সংগৃহীত

চট্টগ্রাম, ৮ এপ্রিল, ২০২৬ (বাসস) : মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতিতে পারস্য উপসাগরে দীর্ঘ ২৮ দিন আটকে থাকার পর অবশেষে নোঙর তুলেছে বাংলাদেশি পতাকাবাহী জাহাজ ‘এমভি বাংলার জয়যাত্রা’। বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশনের (বিএসসি) মালিকানাধীন পণ্যবাহী জাহাজ ‘বাংলার জয়যাত্রা’ বর্তমানে পারস্য উপসাগর থেকে হরমুজ প্রণালির দিকে অগ্রসর হচ্ছে। জাহাজটিতে ৩১ জন বাংলাদেশি নাবিক রয়েছেন।

আজ বুধবার ভোরে যুদ্ধবিরতি ঘোষণার পর বাংলাদেশ সময় সকাল ৮টায় জাহাজটি নোঙর তুলে হরমুজ প্রণালি অতিক্রমের উদ্দেশ্যে রওনা হয়।

বাংলাদেশ শিপিং কর্পোরেশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) কমডোর মাহমুদুল মালেক বলেন, ‘আজ বাংলাদেশ সময় সকাল ৮টায় সৌদি আরবের রাস আল খাইর বন্দর থেকে প্রায় ৩৭ হাজার টন ফসফেট সার নিয়ে রওনা করেছে জাহাজটি। সেখান থেকে হরমুজ প্রণালির মুখে আসতেই ৪০ ঘণ্টা সময় লাগে। আমাদের নির্দেশনা, এটি হরমুজ প্রণালির পার হওয়ার আগে নিরাপদে অবস্থান করবে। ইরান কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করে, পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে বাংলাদেশ থেকে নির্দেশনা দিলে হরমুজ প্রণালি পার হবে। হরমুজ প্রণালি অতিক্রমের পর এর পরবর্তী গন্তব্য দক্ষিণ আফ্রিকার কেপটাউন বন্দর।’

জাহাজ চলাচল পর্যবেক্ষণকারী আন্তর্জাতিক সংস্থা ‘মেরিন ট্রাফিক’-এর তথ্য অনুযায়ী, বুধবার দুপুর ২টার দিকে জাহাজটি ৯ দশমিক ৫০ নটিক্যাল মাইল গতিতে পারস্য উপসাগর দিয়ে এগোচ্ছিল।

বিএসসি সূত্রে জানা গেছে, গত ২ ফেব্রুয়ারি ভারত থেকে পণ্য নিয়ে ‘বাংলার জয়যাত্রা’ হরমুজ প্রণালি পেরিয়ে পারস্য উপসাগরে প্রবেশ করেছিল। পরবর্তীতে কাতারের একটি বন্দর থেকে স্টিল কয়েল নিয়ে ২৭ ফেব্রুয়ারি সেটি সংযুক্ত আরব আমিরাতের জেবেল আলী বন্দরে পৌঁছায়। এর ঠিক পরদিন ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হয় সংঘাত।

গত ১১ মার্চ জেবেল আলী বন্দরে পণ্য খালাস শেষ হওয়ার পর কুয়েতের একটি বন্দরে নতুন করে পণ্য বোঝাই করার কথা ছিল। কিন্তু যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে ঝুঁকি এড়াতে বিএসসি সিদ্ধান্ত নেয় জাহাজটিকে দেশে ফিরিয়ে আনার। তবে নিরাপত্তার অভাবে সে সময় জাহাজটি মাঝপথ থেকেই আগের অবস্থানে ফিরে যেতে বাধ্য হয়। দীর্ঘ ২৮ দিনের উৎকণ্ঠা শেষে আজ আবার নিজ গন্তব্যের পথে রওনা হলো ‘বাংলার জয়যাত্রা’। 

বিএসসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক কমডোর মাহমুদুল মালেক বলেন, এখানে আন্তর্জাতিক বিমা করপোরেশনের একটি ছাড়পত্রের বিষয়ও রয়েছে। তবে এখন যেহেতু স্বাভাবিকভাবে হরমুজ খুলে দেওয়া হয়েছে এবং আমাদের জাহাজ নিয়ে ইরানের কোনো আপত্তি নেই সেহেতু স্বাভাবিকভাবে আমাদের জাহাজ চলে আসতে পারবে। বিমা সংক্রান্ত ছাড়পত্রও পেয়ে যাবো আশা করছি।