বাসস
  ০৭ এপ্রিল ২০২৬, ১৭:১০

বেবিচকের এভিয়েশন সিকিউরিটি বিভাগের বিদেশি বিমান সংস্থার প্রস্তুতি কর্মশালা

ঢাকা, ৭ এপ্রিল, ২০২৬ (বাসস) : দেশের বেসামরিক বিমান চলাচল নিরাপত্তা জোরদার এবং আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের সঙ্গে সামঞ্জস্য নিশ্চিত করার লক্ষ্যে বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক)- এর এভসেক বিভাগ তিন দিনব্যাপী ‘সাপ্লিমেন্টারি স্টেশন প্রসিডিউর (এসএসপি) প্রস্তুতি বিষয়ক’ তিনটি কর্মশালা আয়োজন করেছে।

বেবিচক সদরদপ্তরে অনুষ্ঠিত এই কর্মশালাগুলো ৫ এপ্রিল শুরু হয়ে আজ ৭ এপ্রিল শেষ হয়।

বাংলাদেশে ফ্লাইট পরিচালনা ও কার্গো পরিবহনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সকল বিদেশি বিমান সংস্থার জন্য আয়োজিত এই কর্মশালার মূল লক্ষ্য হলো আন্তর্জাতিক মানদণ্ড বজায় রেখে বেবিচক এর নিয়মানুযায়ী নিরাপত্তা কার্যক্রম নিশ্চিত করা। এর মাধ্যমে অংশগ্রহণকারী অপারেটরদের এভিয়েশন সিকিউরিটি (এভসেক) সংক্রান্ত রেগুলেটরি, প্রয়োজনীয়তা ও তদারকি সম্পর্কে সম্যক ধারণা প্রদান করা হয়।

পাশাপাশি, বেবিচক-এর 'মডেল এসএসপি'-এর প্রতিটি ধাপ বিস্তারিত ব্যাখ্যা করার মাধ্যমে বিদেশি অপারেটরদের সম্পৃক্ততা বৃদ্ধি এবং এসএসপি জমা, পর্যালোচনা ও চূড়ান্ত অনুমোদনের প্রক্রিয়াটি সহজ ও পরিষ্কারভাবে তুলে ধরাই এই উদ্যোগের প্রধান উদ্দেশ্য।

উক্ত কর্মশালায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বেবিচক-এর সদস্য (নিরাপত্তা) এয়ার কমডোর মো. আসিফ ইকবাল।

কর্মশালার মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন উপ-পরিচালক (চিফ এভসেক ইন্সপেক্টর) এবং আইসিএও অডিটর ও আইসিএও সার্টিফাইড ইন্সট্রাক্টর মোহাম্মদ আলমগীর।

কর্মশালায় আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পরিচালক (এভসেক পলিসি অ্যান্ড সার্টিফিকেশন)  ইফতেখার জাহান হোসেন, সিনিয়র কনসালটেন্ট গ্রুপ ক্যাপ্টেন (অব.) খান শাহীনুল বারি এবং নিরাপত্তা কর্মকর্তা মো. আরিফুল ইসলাম।

কর্মশালায় বাংলাদেশে পরিচালনাকারী ৩৬টি বিদেশি এয়ারলাইন্সের মোট ৬৫ জন প্রতিনিধি অংশগ্রহণ করেন।

বাংলাদেশের জাতীয় বেসামরিক বিমান চলাচল নিরাপত্তা প্রোগ্রাম (এনসিএএসপি) অনুযায়ী, দেশে পরিচালনাকারী সকল বিদেশি বিমান অপারেটরকে তাদের প্রতিটি স্টেশন বা বিমানবন্দরের জন্য লিখিত ‘সাপ্লিমেন্টারি স্টেশন প্রসিডিউর (এসএসপি) প্রণয়ন এবং তা বেবিচকের অনুমোদন গ্রহণ বাধ্যতামূলক। এই প্রক্রিয়াকে সহজতর করতে বেবিচক-এর এভসেক বিভাগ একটি মডেল এসএসপি প্রণয়ন করেছে; যা বিদেশি অপারেটরদের জন্য কার্যকর দিকনির্দেশনা প্রদান করবে।

সদস্য (নিরাপত্তা) তার বক্তব্যে উল্লেখ করেন যে এসএসপি প্রণয়নের মাধ্যমে বিদেশি এয়ারলাইন্সগুলোর অভ্যন্তরীণ মান নিয়ন্ত্রণ, জাতীয় বিধি অনুসরণ এবং বেবিচক, আইসিএও কিংবা সংশ্লিষ্ট রাষ্ট্রীয় কর্তৃপক্ষের অডিটে কমপ্লায়েন্স অর্জন আরও সহজ হবে।

উল্লেখ্য, আন্তর্জাতিক বেসামরিক বিমান চলাচল সংস্থা (আইসিএও) আগামী ২৬ অক্টোবর থেকে ৬ নভেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত বাংলাদেশে বিমান নিরাপত্তা বিষয়ক অডিট পরিচালনা করবে। ২০১৮ সালের সর্বশেষ অডিটের পর আইসিএও-এর প্রয়োজনীয়তা ও কার্যক্রমে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।

এই প্রেক্ষাপটে, আসন্ন অডিট কেবল বেবিচকের একটি মাইলফলক নয়, এটি জাতীয়ভাবে এভিয়েশন সেক্টরের উন্নয়নের একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়; যা দেশের বেসামরিক বিমান নিরাপত্তা ব্যবস্থার বৈশ্বিক অবস্থান ও সুনাম প্রতিফলিত করবে। কর্মশালার মাধ্যমে গৃহীত এই সমন্বিত উদ্যোগ বাংলাদেশকে আন্তর্জাতিক মানদণ্ড পূরণে আরও সক্ষম করে তুলবে এবং অপারেটরদের কার্যক্রমকে আরও সুরক্ষিত করবে।

কর্মশালায় অংশগ্রহণকারীদের সক্রিয় অংশগ্রহণ, সহযোগিতা ও উদ্যোগ বেসামরিক বিমান চলাচল নিরাপত্তার কার্যকর বাস্তবায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়। সকলকে নিয়ে নিরাপদ আকাশ গড়ার প্রত্যয়ে কর্মশালাটি সফল ও ফলপ্রসূ হয়েছে বলে আয়োজকরা উল্লেখ করেন।