শিরোনাম

সিলেট, ৬ এপ্রিল, ২০২৬ (বাসস): জেলায় হাম রোগের প্রকোপ মোকাবেলায় এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ১০ শয্যার নতুন একটি আইসোলেশন ইউনিট চালু করা হয়েছে।
এর আগে গত ২৬ মার্চ থেকে সিলেট শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালের ৪ নম্বর ওয়ার্ডকে আইসোলেশন ইউনিট ঘোষণা করে চিকিৎসা দিয়ে আসছিল স্বাস্থ্য বিভাগ। যেখানে বর্তমানে ৬২ জন শিশু-কিশোর হামের উপসর্গ নিয়ে ভর্তি রয়েছেন।
হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল উমর রাশেদ মুনির আজ সোমবার দুপুরে জানান, সম্প্রতি শিশুদের মধ্যে হাম রোগের সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ায় ১০ শয্যার নতুন আইসোলেশন সেন্টার চালু করা হয়েছে। আক্রান্ত রোগীদের আলাদা রেখে যথাযথ চিকিৎসা দেওয়ার জন্য বিশেষ এই উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।
তিনি বলেন, আইসোলেশন ইউনিট চালুর ফলে সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করবে এবং অন্যান্য রোগীদের নিরাপত্তাও নিশ্চিত করা সম্ভব হবে। পাশাপাশি রোগীদের নিবিড় পর্যবেক্ষণ ও প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেওয়ার জন্য চিকিৎসক ও নার্সদের বিশেষভাবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
এদিকে, বর্তমানে সিলেট বিভাগের বিভিন্ন হাসপাতালে মোট ১০১ জন হাম ও রুবেলার উপসর্গ নিয়ে চিকিৎসাধীন রয়েছেন বলে স্বাস্থ্য বিভাগের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ৬ জনের শরীরে ল্যাব পরীক্ষায় রোগটি শনাক্ত হয়েছে। এই নিয়ে চলতি বছরে শনাক্তের সংখ্যা ৩৭। এর মধ্যে হবিগঞ্জ জেলায় ৬ জন (এর মধ্যে ২ জন রুবেলা), মৌলভীবাজারে ১০ জন, সুনামগঞ্জে ১১ জন এবং সিলেটে ১০ জন রয়েছেন।
গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ৪৪ জন রোগী এ উপসর্গ নিয়ে বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এর মধ্যে সর্বোচ্চ ১৯ জন ভর্তি হয়েছেন শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালে।
এছাড়া নর্থ ইস্ট হাসপাতাল, রাগীব রাবেয়া হাসপাতাল, ওসমানী মেডিকেল হাসপাতাল, ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, দক্ষিণ সুরমা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, গোয়াইঘাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স একজন করে রোগী ভর্তি আছেন।
বাহুবল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ৫ জন ,মাধবপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে একজন ও শান্তিগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ৪ জন রোগী রয়েছেন।
জগন্নাথপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, তাহিরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, সুনামগঞ্জ জেলা সদর হাসপাতাল, জামালগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স একজন করে ও মৌলভীবাজার জেলা সদর হাসপাতাল ৫ জন রোগী চিকিৎসা নিচ্ছেন।
বর্তমানে সিলেট বিভাগের বিভিন্ন হাসপাতালে মোট ১০১ জন হাম ও রুবেলার উপসর্গের রোগী ভর্তি রয়েছেন। এর মধ্যে সর্বোচ্চ ৬২ জন শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। এছাড়া ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৪ জন, রাগীব-রাবেয়া হাসপাতালে ১ জন, সিলেট উইমেন্স মেডিকেল হাসপাতালে ১ জন, মাউন্ট এডোরা হাসপাতালে ১ জন, নর্থ ইস্ট হাসপাতালে ১ জন এবং পার্কভিউ হাসপাতালে ১ জন ভর্তি রয়েছেন।
উপজেলা পর্যায়ে জৈন্তাপুর ও ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ১ জন করে, শান্তিগঞ্জে ৪ জন, সুনামগঞ্জ জেলা সদর হাসপাতালে ২ জন, বাহুবল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ৫ জন, মাধবপুর ও লাখাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ১ জন করে এবং মৌলভীবাজার জেলা সদর হাসপাতালে ১৫ জন রোগী চিকিৎসাধীন আছেন।