শিরোনাম

।। মহিউদ্দিন সুমন।।
টাঙ্গাইল, ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ (বাসস): দীর্ঘ প্রায় ৩৬ বছর পর টাঙ্গাইল-৫ (সদর) আসনে সুলতান সালাউদ্দিন টুকুকে প্রতিমন্ত্রী হিসেবে পেয়ে আনন্দিত ও উচ্ছ্বসিত দলীয় নেতাকর্মীসহ সাধারণ জনগণ।
গতকাল মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে মন্ত্রী সভার শপথ অনুষ্ঠানে কৃষি, খাদ্য এবং মৎস্য ও প্রাণী সম্পদ প্রতিমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন এ আসনের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য সুলতান সালাউদ্দিন টুকু। এবারই প্রথম জাতীয় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়ে প্রতিমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন তিনি।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি প্রার্থী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে ভোটের মাঠে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। ১ লাখ ৩১ হাজার ২৭৯ ভোট পেয়ে তিনি সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামীর আহসান হাবিব মাসুদ পান ৮০ হাজার ২৮৩ ভোট।
এর আগে তিনি দীর্ঘদিন কেন্দ্রীয় ছাত্রদল ও যুবদলের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। বর্তমানে তিনি বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির প্রচার সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে রাজনৈতিক আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয় থাকার কারণে তাকে প্রায় ৩৫০টি মামলার মুখোমুখি হতে হয় এবং ১২ দফা কারাভোগ করেন। এ সময় টুকুকে প্রায় পাঁচ বছর কারাগারে এবং টানা ৪৬ দিন রিমান্ডেও থাকতে হয়েছে।
সুলতান সালাউদ্দিন টুকুর বড় ভাই অ্যাডভোকেট আব্দুস সালাম পিন্টু টাঙ্গাইল-২ (ভুয়াপুর ও গোপালপুর) আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। বিএনপির রাজনীতিতে এই দুই ভাইয়ের কারাবরণ, নির্যাতন ও আওয়ামী সরকারের হয়রানির শিকার হন। দলে তাদের সর্বোচ্চ ত্যাগের কারণে দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমান সালাউদ্দিন টুকুকে মূল্যায়ন করেছেন বলে মনে করছেন দলের নেতাকর্মী ও টাঙ্গাইলবাসী।
জানা যায়, স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম মন্ত্রীসভায় স্থান পান টাঙ্গাইলের কৃতি সন্তান জননেতা আব্দুল মান্নান। এ সময় তিনি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পান। শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের মন্ত্রীসভায় স্থান পান টাঙ্গাইল সদরের ছেলে আব্দুর রহমান। তিনি গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালন করেন।
১৯৯০ সালের রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদের আমলে টাঙ্গাইল সদর থেকে মেজর জেনারেল (অব.) মাহমুদুল হাসান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেছেন। এছাড়াও ২০০১ সালে বিএনপি সরকার গঠন করলে তৎকালীন সময়ে জেলায় তিনজন মন্ত্রীর দায়িত্ব পেলেও সদরে কোন মন্ত্রী ছিলো না। প্রায় ৩৬ বছর পর টাঙ্গাইল সদর আসন থেকে সুলতান সালাউদ্দিন টুকু প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পেলেন।
এর ফলে টাঙ্গাইল চরবাসীর দীর্ঘদিনের লালিত স্বপ্ন যমুনা নদীর বেড়িবাঁধ নির্মাণ, মাহমুদনগরে ব্রিজ স্থাপন, শহরের অবকাঠামো উন্নয়ন, স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতকরণ, শিক্ষিত বেকারদের কর্মসংস্থানের সুব্যবস্থাসহ ব্যাপক উন্নয়ন হবে বলে আশা করা হচ্ছে। সংসদ নির্বাচনে প্রার্থী হয়ে সুলতান সালাউদ্দিন টুকু এ সব উন্নয়ন কর্মের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন ভোটারদের কাছে।
সুলতান সালাউদ্দিন টুকু প্রতিমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ার পরই জেলা মহিলা দলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক এ্যাডভোকেট মমতাজ করিমের নেতৃত্বে টাঙ্গাইল শহরে একটি আনন্দ মিছিল বের হয়। পরে শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে তার পক্ষ থেকে জনসাধারণের মাঝে মিষ্টি বিতরণ করা হয়।
স্থানীয় নেতাকর্মীরা জানান, দীর্ঘ ১৭ বছর ধানের শীষে ভোট দিয়েছি। সুলতান সালাউদ্দিন টুকু ভাই বিপুল ভোটে এমপি হয়েছেন। দীর্ঘ ৩৭ বছর টাঙ্গাইল সদরে আমরা মন্ত্রী পেয়েছি এজন্য আমরা আনন্দিত। সেই সঙ্গে তিনি পিছিয়ে থাকা টাঙ্গাইল সদরে উন্নয়ন অগ্রযাত্রাকে আরো গতিশীল করবে।
জেলা বিএনপির সাবেক সদস্য সচিব মাহমুদুল হক সানু জানান, আলহামদুলিল্লাহ, মহান আল্লাহতালার কাছে লাখো শুকরিয়া। দীর্ঘদিন টাঙ্গাইল-৫ (সদর) আসন কোন মন্ত্রী ছিল না। সুলতান সালাউদ্দিন টুকুকে মন্ত্রী পাওয়ায় আমরা অত্যন্ত আনন্দিত ও উচ্ছ্বসিত। এজন্য টাঙ্গাইল সদরে জনগণের পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে ধন্যবাদ জানাই।
প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু তার প্রতিক্রিয়ায় বাসসকে জানান, টাঙ্গাইলবাসী আমাকে মন্ত্রীসভায় দেখতে চেয়েছিল, তাদের সেই আশা পূরণ হয়েছে। এখন আমার ওপর যে গুরু দায়িত্ব অর্পণ করা হয়েছে, তা যথাযথভাবে পালনের মাধ্যমেই আমি জনগণের প্রত্যাশার প্রতিফলন ঘটাতে চাই। এ জন্য আমি আল্লাহর কাছে শুকরিয়া আদায় করছি এবং আমার নেতা দেশনায়ক তারেক রহমানের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। একই সঙ্গে সফলভাবে দায়িত্ব পালনের জন্য টাঙ্গাইল সদরবাসীসহ সমগ্র দেশবাসীর কাছে দোয়া কামনা করছি। আমি সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে আমার দায়িত্ব পালন করব, ইনশাল্লাহ।