শিরোনাম

।। মনসুর আহম্মেদ।।
রাঙামাটি,১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ (বাসস): পার্বত্য চুক্তির আলোকে সৃষ্ট পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয় সৃষ্টির ২৮ বছর পর প্রথমবারের মতো পূর্ণাঙ্গ মন্ত্রী পেয়ে উচ্ছ্বসিত রাঙামাটির বাসিন্দারা।
পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছেন রাঙামাটি আসনে নির্বাচিত সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট দীপেন দেওয়ান। দীর্ঘসময় পর রাঙামাটি থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্য মন্ত্রিত্ব পাওয়ায় জেলা জুড়ে আনন্দের বন্যা বইছে।
১৯৯৭ সালের ২ ডিসেম্বর পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি স্বাক্ষরের পর পরের বছর ১৫ জুলাই তিন পার্বত্য জেলা নিয়ে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয় সৃষ্টি করা হয়।
শুরুতেই এই মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে ছিলেন খাগড়াছড়ি থেকে নির্বাচিত কল্পরঞ্জন চাকমা। ২০০১ সালে বিএনপি নেতৃত্বাধীন চার দলীয় জোট জয়ী হওয়ার পর রাঙামাটি জেলা থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্য মনি স্বপন দেওয়ানকে পার্বত্য উপমন্ত্রীর দায়িত্ব দেওয়া হয়।
২০০৮ সালে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন মহাজোট সরকার গঠনের পর রাঙামাটি থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্য দীপংকর তালুকদারকে পার্বত্য প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব দেওয়া হয়।
এরপর ২০১৪ সালে বান্দরবানের সংসদ সদস্য বীর বাহাদুরকে প্রতিমন্ত্রী এবং ২০১৯ সালে পুনরায় বীর বাহাদুরকে পার্বত্য মন্ত্রীর দায়িত্ব দেওয়া হয়। ২০২৪ সালে খাগড়াছড়ির সংসদ সদস্য কুজেন্দ্র লাল ত্রিপুরাকে পার্বত্য প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব প্রদান করা হয়।
খাগড়াছড়ি ও বান্দরবান জেলা থেকে পূর্ণাঙ্গ মন্ত্রিত্ব পেলেও, এই প্রথম রাঙামাটি জেলা থেকে কোনও সংসদ সদস্য পূর্ণাঙ্গ মন্ত্রীর দায়িত্ব পেয়েছেন।
নিজ জেলা থেকে পূর্ণাঙ্গ মন্ত্রী পাওয়ার পর উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন রাঙামাটি বাসিন্দারা। মঙ্গলবার থেকেই নেতাকর্মীরা একে-অপরকে মিষ্টিমুখ করাচ্ছেন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দীপেন দেওয়ানকে অভিনন্দন জানাচ্ছেন। পাশাপাশি দীপেন দেওয়ানকে রাজকীয়ভাবে বরণের প্রস্তুতি নেয়া হচ্ছে।

জেলা শহরের সিএনজি চালক কপিল উদ্দিন বাসসকে বলেন, দীপেন দেওয়ানের মত একজন ভালো মানুষকে আমরা মন্ত্রী হিসেবে পেয়েছি। এতে আমরা খুবই খুশি। একজন চালক হিসেবে আমি চাই পাহাড়ের যোগাযোগ ব্যবস্থার আরো উন্নতি হোক। তিনি দীপেন দেওয়ানের জন্য অনেক দোয়া ও শুভকামনা জানান।
রাঙামাটির নারী উদ্যোক্তা নুকু চাকমা বাসসকে বলেন, প্রথমবারের মত রাঙামাটিবাসী পার্বত্য চট্টগ্রামের মন্ত্রী পেলাম। মন্ত্রীর কাছে আমার প্রত্যাশা পার্বত্য চট্টগ্রামের সার্বিক উন্নয়ন এর সাথে সাথে নারীদের উন্নয়নের জন্যও তিনি কাজ করবেন।
তিনি শহরে নারীদের জন্য উন্নত স্বাস্থ্যসেবা, স্বাস্থ্যসম্মত ওয়াশরুম, বাজার শেড, ব্রেস্ট ফিডিং কর্নারসহ নারীবান্ধব রাঙামাটি গড়ে তোলার ব্যাপারে মন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।
দীপেন দেওয়ানকে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীর দায়িত্ব প্রদানকে স্বাগত জানিয়ে সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন)-এর সাধারণ সম্পাদক এম জিসান বখতিয়ার বাসসকে বলেন, এই প্রথমবারের মতো রাঙামাটি পার্বত্য জেলা থেকে আমরা পূর্ণ মন্ত্রী পেয়েছি। আমরা আশা করছি, তিনি ভালো করবেন। তিনি বলেন, আমরা প্রত্যাশা করছি পার্বত্য চট্টগ্রামে বসবাসরত সব সম্প্রদায়ের মধ্যে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষাসহ সবার সাথে সমন্বয় করে পাহাড়ের উন্নয়ন প্রক্রিয়া এগিয়ে যাবে।
রাঙামাটি সদর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক রনেল দেওয়ান বাসসকে বলেন, দীপেন দেওয়ান পার্বত্য মন্ত্রী হওয়ায় রাঙামাটিতে আনন্দের বন্যা বইছে।
তিনি বলেন, দীপেন দেওয়ান সরকারি চাকরি ছেড়ে বিএনপির রাজনীতিতে যোগ দেওয়ার পর ২০ বছর ধরে দুঃসময়ে দলের পাশে ছিলেন। তার এই আত্মত্যাগ দল মূল্যায়ন করেছে। রাঙামাটিবাসী দীপেন দেওয়ানকে জাঁকজমকভাবে বরণের প্রস্তুতি নিচ্ছে।
জেলা বিএনপির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির আহ্বায়ক ও সাবেক মেয়র সাইফুল ইসলাম চৌধুরী ভূট্টো বাসসকে বলেন, আমাদের নেতা তারেক জিয়া রাঙামাটিবাসীকে মূল্যায়ন করেছেন। দেশের মধ্যে সর্বোচ্চ ভোটের ব্যবধানে জয়ী দীপেন দেওয়ানকে প্রথমবারের মতো পূর্ণাঙ্গ মন্ত্রিত্ব দেওয়ায় রাঙামাটিবাসী প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কাছে কৃতজ্ঞ। দীপেন দেওয়ান এই আস্থার প্রতিদান দেবেন। শীঘ্রই দীপেন দেওয়ানকে রাঙামাটিতে রাজসিক বরণ করা হবে।
এদিকে প্রথমবারের মতো এই মন্ত্রণালয়ের দুইজনকে মন্ত্রীর দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। প্রতিমন্ত্রী হিসেবে এই মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেয়েছেন তিন পার্বত্য জেলার বাইরে চট্টগ্রাম জেলার হাটহাজারী আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার মীর হেলাল।