শিরোনাম

ওমর ফারুক
রাজশাহী, ১৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ (বাসস) : দীর্ঘ ৪৭ বছর পর রাজশাহী মহানগর (সদর) আসন থেকে বাংলাদেশ সরকারের মন্ত্রিসভায় পূর্ণাাঙ্গ মন্ত্রী হলেন মিজানুর রহমান মিনু। তিনি ভূমি মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছেন।
মঙ্গলবার বিকেলে তিনি রাষ্ট্রপতির কাছে শপথবাক্য পাঠ করেন। রাজশাহী সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র মিনু মন্ত্রী হওয়ায় দলমত নির্বিশেষে রাজশাহীর সকল শ্রেণি পেশার মানুষ উচ্ছ্বাস প্রকাশ করছেন। তিনি মন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ার পর রাজশাহীর পাড়া-মহল্লায় মিষ্টি বিতরণ করা হয়েছে। তাকে সামাজিক যোগযোগ মাধ্যম ফেসবুকে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানানো হচ্ছে। রাজশাহী সিটি কর্পোরেশন নিয়ে গঠিত রাজশাহী-২ (সদর) আসন। এর আগে ১৯৭৯ সালে জিয়াউর রহমানের মন্ত্রীসভায় মন্ত্রী ছিলেন এমরান আলী সরকার।
অভিজ্ঞ এই রাজনীতিবিদের হাত ধরে দেশের জটিল ভূমি ব্যবস্থাপনা ও সংস্কারে বড় ধরনের পরিবর্তন আসবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। তার মন্ত্রীত্ব লাভের মধ্য দিয়ে রাজশাহীবাসীর আশা-আকাঙ্খা পূরণ হয়েছে।
মিজানুর রহমান মিনু রাজশাহী মহানগর বিএনপির সভাপতি ছিলেন। ২০০১ সালে তিনি রাজশাহী-২ সদর আসনে বিপুল ভোটে এমপি নির্বাচিত হন। একই বছর ২০০১ সালে তিনি তৃতীয়বারের মত রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের মেয়র নির্বাচিত হন। ২০১২ সালে তিনি বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির যুগ্ম মহাসচিব নির্বাচিত হন। এরপর মিজানুর রহমান মিনু প্রয়াত বেগম খালেদা জিয়ার উপদেষ্টার দায়িত্ব পান। সর্বশেষ তিনি উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। বিগত স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনে রাজপথে তার ছিল অসামান্য অবদান। মিনু পুলিশ সদস্য সিদ্ধার্থ হত্যা মামলার অন্যতম আসামী হওয়াসহ রাজশাহী মহানগরীতে বিগত সময়ে আওয়ামী লীগ এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর করা সব মামলার মূল আসামি ছিলেন।
হামলা, মামলা, নির্যাতনসহ সবকিছুর মধ্যেও তিনি রাজপথে স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনে সক্রিয় ছিলেন। রাজপথে বিরোধীদের মূল টার্গেট ছিলেন মিজানুর রহমান মিনু। এরপরও তিনি জীবনের মায়া ত্যাগ করে বিএনপির কেন্দ্র ঘোষিত সকল কর্মসূচি বাস্তবায়ন করেছেন।
ফ্যাসিস্ট হাসিনার সময় মিনু কক্সবাজারে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কঠোর নিরাপত্তা ভেদ করে নেতাকর্মীদের নিয়ে স্লোগান তুলে মিছিল করেন। তার সাহসিকতায় উজ্জীবিত হন নেতাকর্মীরা। তার নামে ৬০টিরও অধিক মামলা দেওয়া হয়েছিল। কয়েকটি ছাড়া বাকি মামলাগুলো এখনও বহাল রয়েছে।
রাজশাহীর সাবেক মেয়র এবং এমপি মিজানুর রহমান মিনুসহ পুরো মন্ত্রিসভাকে রাষ্ট্রপতি শাহাবুদ্দিন চুপ্পু শপথ বাক্য পাঠ করান। তার এই নিয়োগের মধ্য দিয়ে রাজশাহীর অভিভাবক হিসেবে পরিচিত এই নেতা জাতীয় রাজনীতিতে পুনরায় এক শক্তিশালী অবস্থানে আসীন হলেন। অভিভাবকের আসনে ফের বসলেন মিনু।
মিজানুর রহমান মিনুর রয়েছে বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক ক্যারিয়ার। ১৯৯১ সালে তিনি রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের প্রথম নির্বাচিত মেয়র হন। বিপুল ভোটে মিজানুর রহমান মিনু মেয়র নির্বাচিত হওয়ার পর উত্তরাঞ্চলের দুই বিভাগকে (রাজশাহী ও রংপুর) শক্তিশালী করার লক্ষ্যে ১৯৯৪ সালে বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদকের দায়িত্ব দেয়া হয়। দুই বছরের মাথায় ১৯৯৬ সালে মিজানুর রহমান মিনু বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক নির্বাচিত হন। একই সাথে ১৯৯৬ সালে মিজানুর রহমান মিনু রাজশাহী মহানগর বিএনপির সভাপতি নির্বাচিত হন।
রাজশাহী নগরীর রূপকার: দীর্ঘ ১৭ বছর রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের মেয়রের দায়িত্ব পালন করেছেন। তাকে বর্তমান ‘পরিচ্ছন্ন ও আধুনিক রাজশাহী’র রূপকার বলা হয়। শহরের সার্বিক উন্নয়ন তিনি নিশ্চিত করেছিলেন।
সংসদীয় অভিজ্ঞতা: ২০০১ সালে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার পর তিনি সংসদীয় নানা গুরুত্বপূর্ণ কমিটিতে দায়িত্ব পালন করেছেন।
সাধারণ মানুষের মতে, মিনু ভাই মানেই উন্নয়ন। রাজশাহীবাসী প্রত্যাশা করে যে, তিনি কেবল ভূমি মন্ত্রণালয় নয়, পুরো উত্তরাঞ্চলের উন্নয়নে বিশেষ নজর দেবেন। মন্ত্রী হওয়ার পর তিনি রাজশাহীবাসীসহ সারা দেশের মানুষের কাছে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন।