শিরোনাম

//বাবুল আখতার রানা//
নওগাঁ, ১৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ (বাসস) : নওগাঁ-৩ (মহাদেবপুর ও বদলগাছী) আসনের বিএনপির মনোনীত প্রার্থী ফজলে হুদা বাবুল বিপুল ভোটে ধানের শীষে বিজয়ী হয়েছেন। তিনি প্রথমে তার নির্বাচনী এলাকার সকল জনসাধানের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন। এছাড়া অবাধ, সুষ্ঠ ও শান্তিপূর্ণনির্বাচনের জন্য প্রশাসনের প্রতিও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন। তিনি বদলগাছী উপজেলা বিএনপির সভাপতি ও কেন্দ্রীয় কৃষকদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করছেন।
ফজলে হুদা বাবুল বলেন, তার এলাকার রয়েছে প্রাচীন সভ্যতার জ্ঞান চর্চার ঐতিহাসিক নিদশর্ন পাহাড়পুর বৌদ্ধবিহার। এখানে শুধু ধর্ম চর্চা নয়, জ্যোতিবিজ্ঞান, গণিত, চিকিৎসা ও দশর্নের চর্চা হতো সেই সময়। এটি বৌদ্ধদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ স্থান। পূর্ব এশিয়ার দেশগুলো যেমন চীন, সিঙ্গাপুর, জাপান, ভিয়েতনাম, কম্বোডিয়া, লাওস, মায়ানমার এসব দেশগুলোর সামনে যদি আমরা এর গুরুত্ব তুলে ধরতে পারি তাহলে বিশাল পর্যটন খাত হিসাবে কাজ হবে। বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সবার আগে বাংলাদেশ কে সামনে রেখে দেশের উন্নয়নে প্রধান ৯টি পরিকল্পনা বাস্তবায়ন ছাড়াও নিজ এলাকার জন্য উন্নয়নের নানা কথা বলেছেন তিনি।
মহাদেবপুর ও বদলগাছী উপজেলা হলো শস্যভান্ডার। এ এলাকার মাটিতে সোনালী ধান, জিআই স্বৃকীত নাক ফজলী আমসহ নানা ফসল ও সবজি উৎপাদিত হয়। আমাদের কৃষকেরা দেশের খাদ্য নিরাপত্তায় ব্যাপক ভুমিকা পালন করে আসলেও এখনো সেই কৃষকের ভাগ্যের উন্নয়ন ঘটেনি। তাই কৃষকের উন্নয়নে কৃষি উৎপাদিত পণ্যের করমুক্ত বাজার স্থাপন, জমিতে সেচের ফি কমানো, উৎপাদিত ফসল সংরক্ষণের জন্য কোল্ড স্টোরেজ নির্মাণ, কৃষিপণ্য বিপণনের জন্য স্থানীয় হাট-বাজার আধুনিকায়নকরণ ও ডিজিটাল মার্কেটিং সুবিধাসহ সরকারি ক্রয় কেন্দ্র স্থাপন, কৃষককে সহনীয় মুল্যে সার ও সেচ সুবিধা প্রদানের নিশ্চয়তার জন্য কৃষিবান্ধব সার ও সেচ নীতির কথা বলেন তিনি।
তিনি আরো বলেন, এই এলাকার উৎপাদিত নাক ফজলী আম শুধু নওগাঁ জেলাতে নয়, বিশ্ব বাজারেও বিক্রি হয়। নওগাঁর উৎপাদিত আম দিয়ে এলাকায় জুসের ফ্যাক্টরি গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। বেকার সমস্যার সমাধানে আন্তর্জাতিক মানের প্রশিক্ষণ কেন্দ্র গড়ে তোলা হবে। ঐতিহাসিক পাহাড়পুর বৌদ্ধবিহারকে কেন্দ্র করে এখানে একটি কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন করা চেষ্টা করবেন। তরুণদের জন্য আইটি সেক্টরে দক্ষ করার পাশাপশি ডিজিটাল ট্রেনিং সেন্টারের ব্যবস্থা করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
এলাকার সকল মানুষের স্বাস্থ্য শিক্ষা ও মৌলিক অধিকারগুলো নিশ্চিতসহ স্বাস্থ্যসেবাকে মানুষের কাছে নিয়ে যেতে মোবাইল হেলথ ইউনিট চালু করবেন। আর স্থানীয় আদিবাসীদের ভাষা ও সংস্কৃতি রক্ষায় নানামুখী গবেষণা ও সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার অঙ্গিকার করেন।
বদলগাছী ও মহাদেবপুর উপজেলায় মাদক রয়েছে। আমি নির্বাচিত হয়েছি। এই মাদক থেকে যুব সমাজকে রক্ষা করতে বিশেষ করে ফুটবল, ক্রিকেট খেলা হলেও পুরাতন যেসব খেলা রয়েছে যেমন গাদল খেলা, হা-ডু-ডু খেলা, মেয়েদের গোল্লাসুট খেলা রয়েছে সেগুলো আবার ফিরে নিয়ে আনা হবে। সেই সঙ্গে প্রতিটি ইউনিয়নে একটি করে খেলার মাঠ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। যাতে করে যুব সমাজ মাদক থেকে দুরে থাকবে। বিশেষ করে আমাদের এলাকায় আদিবাসীর বসবাস রয়েছে। তাদের কোন বিনোদন নাই। তাদের যদি সান্ধ্যকালীন স্কুল ও সাংস্কৃতিক কর্মকান্ডের সঙ্গে জড়িত করতে পারি তাহলে তারা নেশা থেকে অনেকটা সরে আসবে।
তিনি আরো বলেন, সমাজের প্রতিটি সেক্টরে সুশাসন, দলীয় প্রভাব মুক্ত, দুর্নীতিমুক্ত, নিয়োগ বাণিজ্য বন্ধ, প্রতি হিংসামুক্ত রাজনীতি ও সামাজিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা গড়ে তোলা হবে। নারীদেরকে শুধু ঘরে বন্ধ করে রাখলেই হবে না, নারীর ক্ষমতায়ন, শিক্ষা ও অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করে গড়ে তুলতে হবে। এক্ষেত্রে নারীর অর্থনৈতিক স্বনির্ভরতা হাতের কাজকে সম্পদে রূপান্তর করতে হবে। হস্তশিল্প, কুটির শিল্প স্থাপন করে নারীদের বেশি বেশি প্রশিক্ষণের মাধ্যমে তাদের দক্ষ করে গড়ে তুলতে হবে। ক্ষুদ্র ঋণ, প্রারম্ভিক তহবিল প্রদান করে নারীদের উদ্যোক্তা তৈরীতে সহযোগিতা করা হবে।
মহাদেবপুরের আত্রাই নদী আমাদের সম্পদ। এই সম্পদটাকে আমরা যদি কাজে লাগাতে পারি তাহলে আমাদের দেশীয় মাছের চাহিদা মিটবে। অর্থনীতিতে এটা কাজে দিবে।
এটা যদি সংস্কার করতে পারি তাহলে নদী দিয়ে বিভিন্ন পন্য সরবরাহ করবো। তাহলে পন্যগুলোর খরচ কমবে। পাশাপাশি দুই পাশে সংস্কার করাসহ অবৈধ দখলদারদের হাত থেকে নদী রক্ষা করবো।
ফজলে হুদা বাবুল শেষে এলাকার মানুষের উদ্দেশ্য বলেন, তার দেয়া সমস্ত পরিকল্পনা ও উন্নয়নের রূপরেখা অক্ষরে অক্ষরে বাস্তবায়ন করবো ইনশাআল্লাহ।