শিরোনাম

ফেনী, ১৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ (বাসস) : ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ফেনী ৩ আসন থেকে বিজয়ী প্রার্থী আবদুল আউয়াল মিন্টু নির্বাচিত প্রতিনিধি হিসেবে ফেনীবাসীর জীবন মানোন্নয়নে সর্বোচ্চ সেবা নিশ্চিত করার আশ্বাস দিয়েছেন।
ফেনী-৩ (দাগনভূঞা-সোনাগাজী) আসনে বড় ব্যবধানে জয়ী হয়েছেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল আউয়াল মিন্টু। তিার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামীর মোহাম্মদ ফখরুদ্দিন মানিককে অর্ধলক্ষাধিক ভোটে হারিয়েছেন তিনি।
বেসরকারিভাবে নির্বাচিত ঘোষণার পর প্রতিক্রিয়ায় তিনি বলেন, আমি ফেনী থেকে বিজয়ী হয়েছে সেটা বড় ইস্যু না। আমি মনে করি বাংলাদেশের ভবিষ্যতের জন্য ধানের শীষ এর জয় এবং বিএনপির রাষ্ট্র ক্ষমতায় যাওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
তিনি বলেন, অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন হয়েছে। কোনো ঝামেলা হয়নি। কাউকে বাধা দিয়েছে এমন খবরও পাওয়া যায়নি। সে প্রেক্ষিতে আমি মনে করি ফেনী-৩ সহ সারাদেশে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন হয়েছে। এ জন্য এর সাথে সংশ্লিষ্ট সবাইকে ধন্যবাদ জানাই।
তিনি এলাকার জনগণের ভালোবাসার প্রতিদান হিসেবে দাগনভূঞা ও সোনাগাজীকে চাঁদাবাজ ও মাদকমুক্ত করার আশ্বাস দেন।
আবদুল আওয়াল মিন্টু বলেন, এই এলাকায় দীর্ঘদিন নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি না থাকায় নানাবিধ সংকট ¯ু‘প হয়ে আছে। অগ্রাধিকার ভিত্তিতে নদী ভাঙন রোধ ও মুছাপুর ক্লোজার নির্মাণে কার্যকরী উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে। খেলাধুলা, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য সেবার উন্নয়ন, মেডিক্যাল কলেজ ও নার্সিং ইনস্টিটিউট স্থাপন, রাস্তাঘাট নির্মাণ, কৃষি সম্প্রসারণসহ এলাকাবাসীর জীবন মানোন্নয়নে কাজ করবো।
তিনি আরো বলেন, আমার পরিকল্পনা হলো আমার এলাকার উন্নয়ন। ফেনী জেলার উন্নয়ন। ফেনীর গর্বিত সন্তান হিসেবে আমরা ফেনীর উন্নয়ন চাই। আমাদের নেতা তারেক রহমানও ফেনীর দিকে নজর দেবেন বলে আশা করি।
জেলার উন্নয়নে সদ্য প্রয়াত বিএনপি চেয়ারপার্সন এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার গুরুত্বপূর্ণ অবদান উল্লেখ করে তিনি বলেন, ফেনীর উন্নয়নের জন্য সর্বতোভাবে চেষ্টা করবো। আমি আশা করি দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমানও ফেনীর উন্নয়নের দিকে নজর দেবেন।
দেশের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক অঙ্গনের উজ্জ্বল মুখ আবদুল আউয়াল মিন্টু। দাগনভূঞা পৌর শহরের আলাইয়ারপুরে তার পৈতৃক বাড়ি। এখানেই জন্ম এবং তার বেড়ে ওঠা। মাধ্যমিক পর্যন্ত গ্রামের বাড়িতে থেকে পড়াশোনা করেছেন। এরপর দেশ-বিদেশের বিভিন্ন কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় থেকে উচ্চতর ডিগ্রি অর্জন করেন। একজন লেখক ও গবেষক হিসেবেও তার খ্যাতি রয়েছে।
বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যানের দায়িত্বে থেকে এবছরই তিনি প্রথমবারের মতো জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নেন এবং বিজয়ী হন।
কোনো বিশেষণ ছাড়াই স্বনামে খ্যাত এই মানুষটি দেশের ব্যবসায়ী ও শিল্পপতিদের শীর্ষ সংগঠন, বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (এফবিসিসিআই) এর দুইবারের সভাপতি নির্বাচিত হন। এছাড়াও দেশে ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ের বিভিন্ন ব্যবসায়ী সংগঠনে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করেন। একজন শিল্প উদ্যোক্তা হিসেবে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বেশ কয়েকটি পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন তিনি।
এই উপজেলার প্রথম দুইবারের চেয়ারম্যান ছিলেন তার বাবা প্রয়াত হাজী সফিউল্যাহ। তার ছোট ভাই মো. আকবর হোসেন পৌরসভার প্রথম নির্বাচিত মেয়র ছিলেন। এখানে স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা, শিল্প কারখানা স্থাপনসহ এলাকার উন্নয়নে তার পরিবারের অবদান সর্বজনবিদিত। বিশেষ করে দাগনভূঞার মানুষের সুখে-দু:খে আবদুল আউয়াল মিন্টু সবসময় পাশে থেকেছেন।
স্থানীয় বিশ্লেষকদের মতে, আবদুল আউয়াল মিন্টুর এই বিজয়ে ফেনীর সার্বিক ও টেকসই উন্নয়নের পথ প্রশস্ত হয়েছে। তার পুরো পরিবার ফেনীর উন্নয়নে যেভাবে কাজ করেছেন, একজন সংসদ সদস্য মিন্টু আরো বেশি কাজ করতে পারবেন বলে তাদের বিশ্বাস।
তার এ বিজয়ে স্বাভাবিকভাবেই এলাকাবাসীর মনে আশার সঞ্চার হয়েছে। এলাকার সার্বিক উন্নয়নে তাকে পাশে পাবে বলেই জনগণ তাকে নির্বাচিত করেছে।