শিরোনাম

ঢাকা, ৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ (বাসস) : ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির চরমোনাই পীর মুফতী সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করীম বলেছেন, দেশের মানুষের ভাগ্যের প্রকৃত পরিবর্তনের জন্য ইসলামের পক্ষের মার্কা হাতপাখায় ভোট দিতে হবে। পুরোনো রাজনৈতিক শক্তিগুলো নতুন মোড়কে ফিরে এসে আবারও জনগণের সঙ্গে প্রতারণা করতে চাইছে, এ বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।
আজ শুক্রবার বিকেলে পাথরঘাটা কে এম মাধ্যমিক বিদ্যালয় মাঠে বরগুনা-২ আসনে হাতপাখার নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
চরমোনাই পীর বলেন, বাংলাদেশের স্বাধীনতার বয়স ৫৪ বছর হলেও স্বাধীনতার মূল লক্ষ্য, সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও সামাজিক ন্যায়বিচার বাস্তবায়িত হয়নি। দেশের শ্রমিক, জেলে, তাঁতি, কামার-কুমার ও প্রবাসীরা কষ্টার্জিত অর্থে দেশকে সমৃদ্ধ করলেও ক্ষমতাসীনরা বছরের পর বছর সেই অর্থ বিদেশে পাচার করেছে। তাই কোনোভাবেই পুরোনো অভ্যাসে ফিরে যাওয়ার সুযোগ দেওয়া যাবে না।
তিনি বলেন, দেশের মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তনের জন্য ইসলামের পক্ষের একমাত্র বাক্স হলো হাতপাখা। আপনারা হাতপাখায় আস্থা রাখুন।
চরমোনাই পীর বলেন, অনেকে সোনার বাংলা, সবুজ বাংলা কিংবা ডিজিটাল বাংলার স্বপ্ন দেখিয়েছে। আমরা সে ভাষায় কথা না বললেও একটা কথাই বলি, আমরা জনপ্রত্যাশার বাংলাদেশ গড়ে তুলবো, ইনশাআল্লাহ।
সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, চরমোনাই এলাকায় সংখ্যালঘুরা মায়ের কোলের মতো নিরাপদ। চব্বিশের অভ্যুত্থানের পর যখন অনেকে দখলদারিত্বে লিপ্ত ছিল, তখন ইসলামী আন্দোলন সারাদেশে সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তায় পাহারাদারি করেছে। হাতপাখা বিজয়ী হলে সবাই সর্বোচ্চ নিরাপত্তা ও অধিকার ভোগ করবেন।
সভাপতির বক্তব্যে বরগুনা-২ আসনের সংসদ সদস্য প্রার্থী মুফতী মিজানুর রহমান কাসেমী বলেন, আমি শাসক নয়, জনগণের খাদেম হতে চাই। প্রতিহিংসার রাজনীতির পরিবর্তে সুস্থ ধারার রাজনীতি প্রতিষ্ঠা, মামলাবাজির অবসান এবং সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজি রোধে কাজ করার অঙ্গীকার করেন তিনি।
নির্বাচিত হলে ক্ষতিগ্রস্ত জেলেদের জন্য ১০ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ বিল উত্থাপন, উপকূলের জেলেদের জন্য হাসপাতাল নির্মাণ, তিন বছরে এক লাখ তরুণ-তরুণীর কর্মসংস্থান সৃষ্টি, প্রতিটি ইউনিয়নে কার্যকর গণশুনানি কেন্দ্র গঠন, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসার মান উন্নয়ন, রাস্তাঘাটের উন্নয়ন এবং বন্যা ও নদীভাঙন রোধে টেকসই ব্যবস্থা গ্রহণের প্রতিশ্রুতি দেন মিজানুর রহমান কাসেমী।
জনসভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় সহ-প্রচার ও দাওয়াহ সম্পাদক মাওলানা কেএম শরীয়াতুল্লাহ, সহ-অর্থ ও প্রকাশনা সম্পাদক অধ্যাপক নাসির উদ্দীন খান, কেন্দ্রীয় শুরা সদস্য মামুনুর রশীদ খান ইউসুফী, বরগুনা-১ আসনের এমপি প্রার্থী মাওলানা মাহমুদুল হোসাইন অলিউল্লাহ, কেন্দ্রীয় নির্বাচন মনিটরিং টিমের সদস্য মুফতী হাবিবুর রহমান মিছবাহ।