বাসস
  ০৪ মার্চ ২০২৬, ১১:২৯

নাটোরে ফ্যামিলি কার্ডের বাস্তবায়ন শুরু হচ্ছে

আগামী ১০ মার্চ লালপুরে ফ্যামিলি কার্ডের বাস্তবায়ন কার্যক্রম শুরু হতে যাচ্ছে। ছবি: বাসস

\ ফারাজী আহম্মদ রফিক বাবন \

নাটোর, ৪ মার্চ, ২০২৬ (বাসস) : জেলার লালপুরে ফ্যামিলি কার্ডের বাস্তবায়ন কার্যক্রম শুরু হতে যাচ্ছে। আগামী ১০ মার্চ লালপুর উপজেলার ঈশ্বরদী ইউনিয়নের গৌরিপুর গ্রামসহ দেশের মোট ১৪টি ইউনিটে একযোগে ফ্যামিলি কার্ডের পাইলটিং কার্যক্রম আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করা হবে।

নারীর ক্ষমতায়নের মাধ্যমে নারীর অধিকার ও মর্যাদা নিশ্চিতকরণ, পরিবারের খাদ্য নিরাপত্তা এবং স্বাস্থ্য ও শিক্ষা উন্নয়নের লক্ষ্যে ফ্যামিলি কার্ড কর্মুূচি প্রবর্তনের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এই কর্মসুচির মূল দর্শন,  ‘ব্যক্তি নয়, পরিবারই উন্নয়নের মূল একক’। দেশে প্রচলিত ৯৫টিরও অধিক সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসুচির মধ্যে বিদ্যমান সমন্বয়হীনতা, একই ব্যক্তির একাধিক সুবিধা গ্রহণ এবং প্রকৃত দরিদ্রদের বাদ পড়ার মতো ত্রুটিগুলো দূর করে বৈষম্যহীন ও মানবিক কল্যাণ রাষ্ট্র গড়ে তোলাই কর্মসুচির লক্ষ্য। এই কর্মসুচির দীর্ঘমেয়াদী রুপকল্প হচ্ছে-২০৩০ সালের মধ্যে ফ্যামিলি কার্ডকে প্রতিটি নাগরিকের জন্যে ‘সর্বজনীন সোশ্যাল আইডি কার্ড’-এ রুপান্তর করা।

কার্ডের মাধ্যমে নির্বাচিত পরিবারগুলোকে মাসে আড়াই হাজার টাকার আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হবে। সরকারি কোষাগার থেকে এই অর্থ জিটুপি পদ্ধতিতে সরাসরি নারীর মোবাইল ওয়ালেট বা ব্যাংক একাউন্টে জমা হবে।

সুবিধাভোগী  নির্বাচনের ক্ষেত্রে সম্পূর্ণ রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত এবং বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি হিসেবে ‘প্রক্সি মিনস টেস্ট’ (পিএমটি) স্কোরিং ব্যবহার করা হবে। পাইলটিং পর্যায়ে শূণ্য থেকে এক হাজার স্কোরের মধ্যে প্রথম,দ্বিতীয় ও তৃতীয় কোয়ান্টাইলের অন্তর্ভূক্ত অতি দরিদ্র, দরিদ্র এবং ঝুঁকিপূর্ণ নিম্নবিত্ত পরিবারগুলোকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে তালিকায় অন্তর্ভূক্ত করা হবে। গ্রামীণ এলাকায় বসতভিটাসহ আবাদী জমির পরিমাণ ০.৫০ একর বা তার কম এবং পরিবারের মাসিক আয় ও সম্পদের ভিত্তিতে এই যোগ্যতা নির্ধারিত হবে। নারীর ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করতে এই কার্ডটি সরাসরি পরিবারের ‘মা’ বা ‘নারী প্রধান’ সদস্যের নামে ইস্যু করা হবে।

পাইলটিং কর্মসূচীতে প্রথম পর্যায়ে নাটোরের লালপুর উপজেলার ঈশ্বরদী ইউনিয়নের গৌরিপুর গ্রামসহ দেশের মোট ১৪টি ইউনিটের ১০হাজার পরিবারকে ফ্যামিলি কার্ডের আওতাভূক্ত করা হবে। ২০২৬ সালের জুন মাসের মধ্যে পর্যায়ক্রমে ৪০ হাজার পরিবারকে ফ্যামিলি কার্ডের আওতায় আনা হবে।

ফ্যামিলি কার্ড কমসুচির বাস্তবায়ন রোডম্যাপ সাতটি পর্যায়ে সম্পন্ন হচ্ছে। প্রথম পর্যায়ে কারিগরি ও প্রশাসনিক প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়। দ্বিতীয় পর্যায়ে বাড়িতে বাড়িতে যেয়ে খানা জরিপের কাজ সম্পন্ন হয়। এরপর সম্ভাব্য উপকারভোগীদের ডাটা এন্ট্রির কাজও শেষ করা হয়েছে। বর্তমানে পিএমটি স্কোরিং করে যাচাই-বাছাই কার্যক্রম চলছে। আগামীকাল থেকে সরেজমিনে লাইভ ভেরিফিকেশন পরিচালনা করা হবে। ৭ মার্চ থেকে ৯ মার্চের মধ্যে সংশ্লিষ্ট উপজেলা কমিটির মাধ্যমে উপকারভোগীর তালিকা চূড়ান্ত অনুমোদন করা হবে। ৯ মার্চ কিউআর কোর্ডযুক্ত ডিজিটাল স্মার্ট ফ্যামিলি কার্ড প্রদান করা হবে। একই সাথে তাদের মোবাইল ফোনে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের সময় ও স্থান উল্লেখ করে আমন্ত্রণের ক্ষুদে বার্তা পাঠানো হবে। ১০ মার্চ গ্রান্ড উদ্বোধন শেষে অর্থ প্রদান করা শুরু হবে। 

লালপুরে প্রস্তুতি কার্যক্রমের অগ্রগতি সরেজমিনে পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় দিক নির্দেশনা প্রদান করেছেন রাজশাহীর বিভাগীয় কমিশনার ড. আ. ন. ম. বজলুর রশীদ এবং সমাজসেবা অধিদপ্তরের পরিচালক সৈয়দ মোস্তাক হাসলালপুর উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা।

মো. নাজমুল খান জানান, উপজেলার গৌরিপুরে ফ্যামিলি কার্ড প্রদানের লক্ষ্যে ৮৩৯টি পরিবারের তথ্য সংগ্রহ করা হয়। ডাটা এন্ট্রির কাজও শেষ হয়েছে। বর্তমানে যাচাই-বাছাই কার্যক্রম চলছে।

সমাজসেবা অধিদপ্তর নাটোর জেলা কার্যালয়ের উপ-পরিচালক মো. মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ফ্যামিলি কার্ডের সুবিধাভোগীদের তালিকা প্রণয়ন এবং ডাটা এন্ট্রির কাজ সততা ও নিষ্ঠার সাথে সম্পন্ন করেছে উপজেলা কার্যালয়। অবশিষ্ট কাজও সুচারুভাবে সম্পন্ন হবে। আশাকরি নাটোরের মডেল অনুসরণ করে পরবর্তী সময়ে দেশের অন্যান্যস্থানে ফ্যামিলি কার্ডের কার্যক্রম পরিচালিত হবে।

ফ্যামিলি কার্ড বাস্তবায়ন কমিটির সভাপতি ও লালপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. জুলহাস হোসেন সৌরভ বলেন, ফ্যামিলি কার্ড কর্মসুচির পাইলটিং কার্যক্রম সফল করতে কার্যকর সকল পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। 

সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমীন আশা প্রকাশ করে বলেন, গৌরিপুরে ফ্যামিলি কার্ড কর্মসুচির পাইলটিং কার্যক্রম বাস্তবায়ন হতে যাচ্ছে। আশাকরি এটি হয়ে উঠবে অনুসরণযোগ্য নাটোর মডেল।