শিরোনাম

ঢাকা, ৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ (বাসস) : আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-৯ আসনের উন্নয়নে আমূল পরিবর্তন এবং একটি বৈষম্যহীন সমাজ গড়ার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) মনোনীত ধানের শীষের প্রার্থী হাবিবুর রশিদ হাবিব।
সম্প্রতি বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা’কে (বাসস) দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ‘আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি সংসদ নির্বাচন কেবল প্রতিনিধি নির্বাচনের মাধ্যম নয়, বরং এটি ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের গণ-অভ্যুত্থানে শহীদদের রক্তে অর্জিত জনগণের মালিকানা ফিরে পাওয়ার লড়াই। তাই, এ নির্বাচনে জনগণের ভোটাধিকার প্রয়োগ শুধু নাগরিক অধিকারই নয়, এটি রাষ্ট্রীয় ও নৈতিক দায়িত্বের মধ্যেও পড়ে।’
সাক্ষাৎকারজুড়ে তিনি ঢাকা-৯ আসনে শিক্ষা, স্বাস্থ্য-চিকিৎসা ও বাসস্থানসহ দীর্ঘ ১৭ বছরের নানা বঞ্চনা দূরীকরণ, পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়ন, মাদক ও সন্ত্রাস নির্মূলে নির্বাচনী প্রতিশ্রুতির পাশাপাশি নির্বাচনের পরিবেশ, জুলাই গণ-অভ্যুত্থান পরবর্তী রাষ্ট্র সংস্কার এবং জনগণের ভোটাধিকার প্রয়োগের গুরুত্ব নিয়ে কথা বলেছেন। সাক্ষাৎকারটি নিয়েছেন বাসস-এর নিজস্ব প্রতিবেদক নাজিউর রহমান সোহেল।
ঢাকা-৯ আসনকে ১৭ বছরের অবহেলিত এলাকা উল্লেখ করে ও ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সংসদের সাবেক সাধারণ সম্পাদক হাবিবুর রশিদ হাবিব বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরে এই অঞ্চলের মানুষ নাগরিক অধিকার ও আধুনিক সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত রয়েছেন। নাগরিক হিসেবে এলাকার জনগণ যেটা প্রাপ্য ছিল, বিগত ফ্যাসিবাদী শাসনামলে সেটা তারা পায়নি। আমি সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার সুযোগ পেলে এ অঞ্চলের পিছিয়ে থাকা শিক্ষা এবং স্বাস্থ্য ও চিকিৎসা খাতের মানোন্নয়নের পাশাপাশি ব্যবস্থাপনার আধুনিকায়নে মনোযোগ দিতে চাই।’
তিনি আরও বলেন, ‘ফ্যাসিবাদী সরকারের পুরো সময়জুড়ে এ অঞ্চলের রাস্তাঘাট ও পরিকল্পিত নগরায়ন ব্যবস্থা গড়ে উঠেনি। নির্বাচিত হলে আমার অগ্রাধিকার হবে— গ্যাস সংকট দূরীকরণ, ভাঙাচোরা রাস্তা, ব্রিজ ও কালভার্ট সংস্কার এবং ভরাট হওয়া খাল পুনরুদ্ধার করে জলাবদ্ধতা দূর করা।’
হাবিব বলেন, এছাড়া জরাজীর্ণ বাঁশের সাঁকো সরিয়ে টেকসই অবকাঠামো নির্মাণ, পিছিয়ে পড়া মানুষের জীবনমান উন্নয়ন এবং টিনশেড স্কুলগুলোকে আধুনিকায়নের মাধ্যমে মানসম্মত বিজ্ঞাননির্ভর শিক্ষা নিশ্চিত করতে বাস্তবমুখী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।’
এলাকার নিরাপত্তা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘মাদক, সন্ত্রাস ও নিরাপত্তাহীনতা এই অঞ্চলের অন্যতম প্রধান সমস্যা। নির্বাচিত হলে এলাকাটিকে পুরোপুরি সহিংসতামুক্ত ও নিরাপদ হিসেবে গড়ে তুলতে চাই।’
দলীয় নেতাকর্মীদের প্রতি কঠোর বার্তা দিয়ে তিনি বলেন, ‘রাজনৈতিকভাবে আমাদের অবস্থান পরিষ্কার; দলের কেউ যদি অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত হয়, তবে তাকে ছাড় দেওয়া হবে না। সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি তাদের প্রশাসনের হাতে তুলে দেওয়া হবে। কোনো অপরাধীর রাজনৈতিক আশ্রয় এই এলাকায় হবে না।’
ঢাকা-৯ আসনের বর্তমান নির্বাচনী পরিবেশকে আদর্শ ও বন্ধুত্বপূর্ণ উল্লেখ করে হাবিব বলেন, ‘সব প্রার্থীর মধ্যে একটি সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক বিরাজ করছে। আমার কর্মীরা কঠোরভাবে নির্বাচনী আচরণবিধি মেনে চলছেন। আমরা একটি উৎসবমুখর ভোটের অপেক্ষায় আছি। জনগণ ধানের শীষ প্রতীকে ভোট দিয়ে উৎসবকে আরও প্রাণবন্ত করবেন বলে আমার প্রত্যাশা।
‘২০২৪-এর জুলাই-আগস্টের ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থান পরবর্তী রাষ্ট্র সংস্কার’ প্রসঙ্গে হাবিব বলেন, ‘আমরা সংস্কারের পক্ষে। যেহেতু সংস্কারের বিষয়টি জাতীয় ঐক্যের ওপর ভিত্তি করে ভোটারদের সিদ্ধান্তের ওপর ছেড়ে দেওয়া হয়েছে, তাই আমরা এই প্রক্রিয়ার ইতিবাচক (হ্যাঁ) পরিবর্তনের পক্ষে। বিএনপি প্রত্যাশা করছে— এ সংস্কারের মাধ্যমে দেশে বড় ধরনের গুণগত রাজনৈতিক পরিবর্তন আসবে।’
‘আসন্ন ১২ ফেব্রুয়ারি সংসদ নির্বাচনে ভোটারদের প্রতি আহ্বান’ জানিয়ে বিএনপি মনোনীত এই প্রার্থী বলেন, ‘এটি কোনো সাধারণ ভোট নয়, রক্তের বিনিময়ে অর্জিত ভোটাধিকার। দীর্ঘদিন পর মানুষ ফ্যাসিবাদী কবল থেকে মুক্ত হয়ে দেশের মালিকানা ফিরে পাচ্ছে। তাই, এবার জনগণের ভোটাধিকার প্রয়োগ শুধু নাগরিক অধিকারই নয়, এটি একটি রাষ্ট্রীয় ও নৈতিক দায়িত্বের মধ্যেও পড়ে।
তরুণদের ‘আগামী বাংলাদেশের চালিকাশক্তি’ উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘বিএনপির রাষ্ট্র সংস্কারের ৩১ দফার কেন্দ্রে রয়েছে তরুণ প্রজন্ম। বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের রূপকল্প বাস্তবায়নের মাধ্যমে আমরা শিক্ষিত বেকারমুক্ত ও কর্মমুখী বাংলাদেশ গড়তে চাই। ঢাকা-৯ আসনের তরুণদের জন্য আধুনিক প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, খেলার মাঠ ও কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করাই আমার নির্বাচনী প্রতিশ্রুতির অন্যতম প্রধান লক্ষ্য।’
প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, ‘আমি কাউকে প্রতিদ্বন্দ্বী মনে করি না, তারা আমার সহযোদ্ধা। আমরা সবাই মিলে একটি সুন্দর ঢাকা-৯ এবং সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়তে চাই।’
খিলগাঁও, সবুজবাগ ও মুগদা নিয়ে ঢাকা-৯ আসন গঠিত। নির্বাচন কমিশনের তথ্যমতে, এ আসনের মোট ভোটার সংখ্যা ৪ লাখ ৬৯ হাজার ৩৬০ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ২ লাখ ৩৭ হাজার ৬৭৩ জন আর নারী ভোটারের সংখ্যা ২ লাখ ৩১ হাজার ৬৮২ জন।
বিএনপির এই প্রার্থী ছাড়াও আসনটিতে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রয়েছেন— স্বতন্ত্র প্রার্থী ডা. তাসনিম জারা, জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মোহাম্মদ জাবেদ মিয়া, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের শাহ ইফতেখার আহসান, জাতীয় পার্টির কাজী আবুল খায়ের, গণফোরামের নাজমা আক্তার, বাংলাদেশ কমিউনিস্ট পার্টির মো. মনিরুজ্জামান, বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দলের (মার্কসবাদী) খন্দকার মিজানুর রহমান, ন্যাশনাল পিপলস পার্টিও শাহীন খান, বাংলাদেশ মুসলিম লীগের মাসুদ হোসেন, বাংলাদেশ ন্যাশনালিস্ট ফ্রন্ট-বিএনএফ মোহাম্মদ শফি উল্লাহ চৌধুরী ও ইনসানিয়াত বিপ্লব বাংলাদেশের নাহিদ হাসান চৌধুরী জুনায়েদ।