বাসস
  ০৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ২১:৫৫

ঢাকা-৬ আসনে জামায়াত প্রার্থী মান্নানের আধুনিক হাসপাতাল নির্মাণ ও বুড়িগঙ্গা রক্ষার অঙ্গীকার 

ঢাকা-৬ আসনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী ডা. মুহাম্মদ আবদুল মান্নান। ছবি: সংগৃহীত

ঢাকা, ৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ (বাসস): ঢাকা-৬ আসনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী ডা. মুহাম্মদ আবদুল মান্নান নির্বাচিত হলে চাঁদাবাজি, অবৈধ দখল ও মাদকমুক্ত করে এই এলাকাকে নিরাপদ, বাসযোগ্য ও অর্থনৈতিকভাবে প্রাণবন্ত নগরাঞ্চলে রূপান্তরের অঙ্গীকার করেছেন।

সম্প্রতি বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা’কে (বাসস) দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ‘ঢাকা-৬ আসনের মানুষ দীর্ঘদিন ধরে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে, যার ফলে ব্যবসা-বাণিজ্য ও স্বাভাবিক নগরজীবন ব্যাহত হচ্ছে।’

ডা. মান্নান বলেন, ঢাকা-৬ মূলত একটি ব্যবসায়িক এলাকা। বছরের পর বছর এখানকার মানুষ চাঁদাবাজি, অবৈধ দখল ও মাদকে জর্জরিত। 

তিনি বলেন, ‘আমরা স্পষ্টভাবে বলতে চাই, নির্বাচিত হলে এই আসনকে চাঁদাবাজিমুক্ত, মাদকমুক্ত ও নিরাপদ ব্যবসায়িক পরিবেশে রূপান্তর করা হবে।’

তিনি বলেন, তার লক্ষ্য শুধু অর্থনৈতিক উন্নয়ন নয়, বরং মানুষের দৈনন্দিন জীবনে নিরাপত্তা ফিরিয়ে আনা। এখানকার মানুষ সংসদ সদস্যের কাছ থেকে সুবিধা চায় না। তারা নিরাপদে ব্যবসা করতে, শান্তিতে ঘুমাতে এবং সন্ত্রাস ও দুর্নীতিমুক্তভাবে জীবনযাপন করতে চায়।

ডা. মান্নান অভিযোগ করে বলেন, গত ৫৪ বছর ধরে এই এলাকা বিপুল পরিমাণ রাজস্ব প্রদানে অবদান রাখলেও উন্নয়ন থেকে বঞ্চিত রয়েছে। এর প্রধান কারণ হিসেবে তিনি জবাবদিহিমূলক নেতৃত্বের অভাবকে দায়ী করেন।

তিনি বলেন, ‘প্রতিবছর এই এলাকা সরকারকে বিপুল রাজস্ব দেয়, অথচ জনগণ তেমন কিছুই পায়নি।’

তিনি আরও বলেন, এখনো এই এলাকায় বৃষ্টি ছাড়াই রাস্তায় নোংরা পানি জমে যায়। মানুষ এসব থেকে মুক্তি চাই।

তিনি বলেন, পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থা ভেঙে পড়া, পানির সংকট ও গ্যাস সরবরাহে ঘাটতি ঢাকা-৬ এর নাগরিক ও ব্যবসায়ীদের প্রধান সমস্যা। এসব সমস্যা সিটি করপোরেশন ও সংশ্লিষ্ট সংস্থার সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে সমাধান করা হবে।

ডা. মান্নান বলেন, খেলাধুলার মাঠ ও স্বাস্থ্যকর পরিবেশের অভাবে এলাকার জীবনমান ক্রমেই অবনতি ঘটছে। টেকসই উন্নয়নের জন্য ধারাবাহিক তদারকি ও দায়িত্বশীল নেতৃত্ব প্রয়োজন বলেও তিনি মনে করেন। 

তিনি জানান, তার নির্বাচনী প্রতিশ্রুতির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো বুড়িগঙ্গা রক্ষা করা। দূষণ ও অবৈধ দখলমুক্ত হলে পর্যটন বিকাশ, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড বৃদ্ধি পাবে বলে তিনি আশা ব্যক্ত করেন।

পাশাপাশি তরুণদের কর্মসংস্থানের জন্য একটি আইটি পার্ক স্থাপনের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হবে। 

স্বাস্থ্যসেবা প্রসঙ্গে ডা. মান্নান বলেন, বিপুল সংখ্যক মানুষের এই এলাকায় একটি আধুনিক সরকারি হাসপাতাল নেই। বিদ্যমান স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলোতেও পর্যাপ্ত চিকিৎসক ও যন্ত্রপাতির অভাব রয়েছে।

তিনি বলেন, শ্রমজীবী ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা চিকিৎসাসেবার অভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। এ জন্য তিনি একটি আধুনিক সরকারি হাসপাতাল নির্মাণ ও বিদ্যমান কেন্দ্রগুলোতে আধুনিক সরঞ্জাম আনার প্রতিশ্রুতি দেন।

আইনশৃঙ্খলা বিষয়ে তিনি বলেন, প্রশাসনিক ব্যবস্থার পাশাপাশি সামাজিক উদ্যোগ প্রয়োজন। তিনি মসজিদ ও মন্দিরভিত্তিক কমিটি গঠনের প্রস্তাব দেন, যেখানে ধর্মীয় নেতা, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা যুক্ত থাকবেন।

শিক্ষা বিষয়ে কবি নজরুল সরকারি কলেজ ও শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজ অবকাঠামোগত সমস্যায় ভুগছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

লক্ষ্মীবাজারকে শিক্ষা কেন্দ্র হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, অবৈধ দখল ও চাঁদাবাজির কারণে এর পরিবেশ নষ্ট হয়েছে। ফুটপাতের ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের বিকল্প স্থানে পুনর্বাসনের উদ্যোগ নেওয়া হবে।

নির্বাচনী আচরণবিধি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, তার প্রচারণা দল নিয়ম মেনেই কাজ করছে। তবে কিছু এলাকায় নারী ভোটারদের ভয়ভীতি প্রদর্শন ও ক্যাম্প ভাঙচুরের ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেন তিনি। এসব বিষয়ে প্রশাসন ও নির্বাচন কমিশনকে লিখিতভাবে জানানো হলেও দৃশ্যমান ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ করেন ডা. মান্নান। 

গণভোট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘গণতান্ত্রিক ভারসাম্য রক্ষায় এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নির্বাচনের চেয়েও গণভোট বেশি গুরুত্বপূর্ণ।’

ভোটারদের সাড়া সম্পর্কে তিনি বলেন, জনসমর্থনে তিনি আশাবাদী হলেও কালো টাকা, অস্ত্র ও পেশিশক্তির ব্যবহার নিয়ে শঙ্কা রয়েছে।