বাসস
  ০৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১১:৩৭

পুরান ঢাকায় জলাবদ্ধতা, গ্যাস সংকট ও মাদক নির্মূলের অঙ্গীকার ইশরাক হোসেনের

ইঞ্জিনিয়ার ইশরাক হোসেন। ছবি: ফেসবুক

ঢাকা, ৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ (বাসস): পুরান ঢাকার সংসদীয় এলাকা ঢাকা-৬ থেকে জলাবদ্ধতা, গ্যাস সংকট ও মাদক নির্মূলের অঙ্গীকার করেছেন বিএনপি মনোনীত ধানের শীষের প্রার্থী ইঞ্জিনিয়ার ইশরাক হোসেন।

ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের ৩৪, ৩৭, ৩৮, ৩৯, ৪০, ৪১, ৪২, ৪৩, ৪৪, ৪৫ ও ৪৬ নম্বর ওয়ার্ড নিয়ে গঠিত ঢাকা-৬ আসনের অন্তর্ভুক্ত থানাগুলো হলো-সূত্রাপুর, ওয়ারী, গেন্ডারিয়া ও কোতোয়ালি (আংশিক)। এ আসনের পূর্বে গেন্ডারিয়া, পশ্চিমে সিদ্দিকবাজার, উত্তরে ফুলবাড়িয়া এবং দক্ষিণে নাজিরাবাজার অবস্থিত।

আজ পুরান ঢাকার বলদা গার্ডেন এলাকায় নিজ নির্বাচনী ক্যাম্পে বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (বাসস)’কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ইঞ্জিনিয়ার ইশরাক হোসেন তার নির্বাচনী ভাবনা, এলাকার সমস্যা ও উন্নয়ন পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন। একই সঙ্গে তিনি বিএনপি চেয়ারপার্সন তারেক রহমানের নেতৃত্বের প্রশংসা করেন।

তিনি জানান, তার পিতা অবিভক্ত ঢাকা সিটি কর্পোরেশনের মেয়র প্রয়াত সাদেক হোসেন খোকার মৃত্যুর পর বিএনপি চেয়ারপার্সন তারেক রহমানের হাত ধরেই তিনি সক্রিয় রাজনীতিতে প্রবেশ করেন।

ইঞ্জিনিয়ার ইশরাক হোসেন বলেন, ‘পুরান ঢাকার প্রাণকেন্দ্র হচ্ছে ঢাকা-৬ আসন। এখানে দীর্ঘদিনের পুরোনো অবকাঠামো ও নানাবিধ নাগরিক সমস্যা রয়েছে। নির্বাচিত হলে এসব সমস্যা সমাধানই হবে আমার অগ্রাধিকার।’

তিনি বলেন, বর্তমানে এ এলাকার সবচেয়ে বড় সমস্যা তীব্র গ্যাস সংকট। গৃহিণীরা বিষয়টি নিয়ে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তির কথা জানাচ্ছেন। গ্যাস কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে জানতে পেরেছি, অনেক এলাকায় পাইপলাইন সংস্কার ও উন্নয়ন জরুরি। পাশাপাশি জাতীয় পর্যায়ের জ্বালানি সংকটও রয়েছে, যার সমাধান জাতীয়ভাবে হওয়া দরকার।

ইশরাক হোসেন জানান, স্থানীয় পাইপলাইন অবকাঠামো উন্নয়নের মাধ্যমে যেখানে গ্যাসের চাপ কম, সেখানে স্বাভাবিক চাপ নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়া হবে। 

তিনি বলেন, অনেক এলাকায় ৭০ বছরের পুরোনো পাইপলাইন এখনো ব্যবহৃত হচ্ছে। অথচ বহুতল ভবন নির্মাণ বাড়লেও ইউটিলিটি অবকাঠামো সেই অনুযায়ী উন্নত হয়নি। আমরা এটাকে এক নম্বর প্রায়োরিটি হিসেবে রাখছি।

যানজট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, অপরিকল্পিত নগরায়ণ এবং মাস্টারপ্ল্যান ও বিল্ডিং কোড অনুসরণ না করায় রোড ক্যাপাসিটি বাড়েনি, তাই পুরান ঢাকায় ভয়াবহ যানজট তৈরি হয়েছে। এ সমস্যা সমাধানে তার পরিকল্পনা রয়েছে তিন ধাপে—স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি।

তিনি বলেন, স্বল্পমেয়াদির মধ্যে থাকবে, যেগুলো আমরা এক বছরের মধ্যে বাস্তবায়ন করতে পারবো। সেটা হলো অন-রোড পার্কিং। অনেকক্ষেত্রে দেখা যায় গণপরিবহনগুলা পার্কিং করে ৫০ থেকে ৬০ ভাগ পর্যন্ত রাস্তা বন্ধ করে রাখে। নির্দিষ্ট স্থানে গণপরিবহণ এবং অন্যান্য যানবাহনের পার্কিংয়ের ব্যবস্থা করার মাধ্যমে আমরা এটার সমাধান করতে চাই। পাশাপাশি ফুটপাথ দখলমুক্ত করে সাধারণ মানুষের চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করা হবে।

মধ্যমেয়াদে যেখানে সম্ভব সড়ক প্রশস্ত করা ও বিকল্প সড়ক নির্মাণ করা হবে। 

তিনি বলেন, ‘দীর্ঘমেয়াদে পুরোপুরি গণপরিবহণ ব্যবস্থার আধুনিকায়ন এবং মেট্রোরেল, মনোরেল বা সাবওয়ের মতো প্রকল্প বাস্তবায়নের দাবি আমি আমার জায়গা থেকে জাতীয় সংসদে ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে তুলে ধরব।’

ইশরাক হোসেন বলেন, পুরান ঢাকায় জলাবদ্ধতা একটি বড় সমস্যা। আসন্ন বর্ষা মৌসুমের আগেই বিদ্যমান ড্রেনেজ ব্যবস্থা পরিষ্কার ও উন্মুক্ত করে জলাবদ্ধতা কিছুটা হলেও কমানোর উদ্যোগ নেওয়া হবে। সলিড ওয়েস্ট ডাম্পিংয়ের কারণে ড্রেনগুলো বন্ধ হয়ে যাওয়ায় এ সমস্যার সৃষ্টি হচ্ছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

তিনি আরও বলেন, বায়ু, শব্দ ও পানিদূষণসহ সব ধরনের দূষণের মাত্রা কমিয়ে পুরান ঢাকাকে একটি বাসযোগ্য নগরী হিসেবে গড়ে তুলতে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

আইন-শৃঙ্খলা প্রসঙ্গে বিএনপির এই প্রার্থী বলেন, ‘নারী ও শিশুদের নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করা হবে। একই সঙ্গে ব্যবসায়ীরা যেন কোনো ধরনের অন্যায্য দাবির মুখে না পড়ে নির্বিঘ্নে ব্যবসা পরিচালনা করতে পারেন, সেজন্য আমরা আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতিরও উন্নতি ঘটাবো।’

ইশরাক হোসেন বলেন, ‘বিএনপি চেয়ারপার্সন তারেক রহমান ঘোষিত রাষ্ট্রকাঠামো মেরামতের ৩১ দফা বাস্তবায়নের মাধ্যমে শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও বেকারত্ব দূরীকরণে নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা হবে।’

তিনি অভিযোগ করেন, দীর্ঘদিন ধরে পুরান ঢাকা অবহেলিত। বিগত টার্মে যে মেয়র ছিল তার এ এলাকা নিয়ে কোন ধরনেরই মাথা ব্যথা ছিল না। আগে যারা এমপি ছিল তাদেরকে এলাকার মানুষরা একদিনের জন্যও কাছে পায়নি। এমনকি ঈদের দিনেও তারা তাদের সংসদীয় এলাকায় নামাজ পড়তে আসে নাই। তাই আমরা এখানে নজর দিতে চাই।

তিনি বলেন, নতুন বিনিয়োগ এনে পুরান ঢাকাকে পুনর্জীবিত (রি-জেনারেট) করার পরিকল্পনাও রয়েছে।

এক প্রশ্নের জবাবে ইঞ্জিনিয়ার ইশরাক হোসেন বলেন, তারেক রহমান এখন দেশের সর্বস্তরের, বিশেষ করে কিশোর থেকে শুরু করে ছাত্র-যুবক, শ্রমজীবী, কৃষক ও মা-বোনদের প্রতিনিধি হয়ে উঠেছেন। তরুণদের কাছে তিনি একজন অনুপ্রেরণার প্রতীক।

নিজ রাজনীতিতে আসার পেছনের গল্প তুলে ধরে তিনি বলেন, ২০১৮ সালের জাতীয় নির্বাচনের সময় তিনি পুরোপুরি রাজনীতিতে সক্রিয় হন। এরপর নানা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হয়েছে। সে সময় তারেক রহমান তাকে রাজনৈতিকভাবে জায়গা করে দেওয়ার সুযোগ দিয়েছেন।

পিতা প্রয়াত সাদেক হোসেন খোকার স্মৃতিচারণ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আমি একজন গর্বিত বীর মুক্তিযোদ্ধার সন্তান- এটাই আমার কাছে সবচেয়ে বড় পরিচয়। আমার বাবা একজন সফল রাজনীতিবিদ ছিলেন এবং মুক্তিযুদ্ধে ঢাকায় গেরিলা অপারেশনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিলেন। তিনি একাধারে মন্ত্রী, এমপি, মেয়র এবং অবিভক্ত ঢাকা মহানগরীর সর্বশেষ এবং সবচেয়ে দীর্ঘ সময়ের জন্য নির্বাচিত মেয়র ছিলেন।

তিনি বলেন, সাদেক হোসেন খোকার উন্নয়নের ছোঁয়া আজও পুরান ঢাকার মসজিদ, মন্দির, মাদ্রাসা, এতিমখানা ও সড়কসহ বিভিন্ন স্থাপনায় রয়েছে। পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের আবাসনের ব্যবস্থা করাসহ অবহেলিত জনগোষ্ঠীর জন্য তার বিশেষ উদ্যোগ আমাকে অনুপ্রাণিত করে।

সাক্ষাৎকারে আগামী নির্বাচনে এলাকাবাসীর উন্নয়নের জন্য দোয়া চান ইশরাক হোসেন।