শিরোনাম

ঢাকা, ৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ (বাসস): আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-৯ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী ডা. তাসনিম জারা তার নির্বাচনী এলাকায় নাগরিক সেবাকে মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়ার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন।
সম্প্রতি বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা’কে (বাসস) দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি সংসদ নির্বাচন কেবল প্রতিনিধি নির্বাচনের মাধ্যম নয়, বরং এর মাধ্যমে একটি নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণ করা হবে। যেখানে দেশের প্রতিটি নাগরিক তাদের ন্যায্য অধিকার ভোগ করতে পারবেন। নাগরিকরা সেবা গ্রহণের জন্য প্রতিষ্ঠানের দ্বারে দ্বারে ঘুরবে না, বরং এগুলোই তাদের দোরগোড়ায় পৌঁছে যাবে।
সাক্ষাৎকারজুড়ে তিনি ঢাকা-৯ আসনে নাগরিকের জীবনমানের উন্নয়নে স্বাস্থ্য, শিক্ষা ব্যবস্থার আধুনিকায়ন, মাদক নির্মূল এবং বেকারদের কর্মসংস্থান তৈরি করতে তার পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেছেন। সাক্ষাৎকারটি নিয়েছেন বাসস-এর প্রতিবেদক মাহাদী হাসান।
বাসস : এলাকার ভোটারদের জন্য আপনার প্রধান নির্বাচনী অঙ্গীকার কী কী?
ডা. তাসনিম জারা : ছয়টা সুনির্দিষ্ট বিষয় নিয়ে ইশতেহার দিয়েছি। ইশতেহারগুলো সাধারণ মানুষ দৈনন্দিন জীবনে যে সব সমস্যার সম্মুখীন হয় তার সমাধান করবে। আর এগুলো সাধারণ মানুষ আমাকে ইশতেহারে যুক্ত করার জন্য পরামর্শ দিয়েছেন। যে সেবাগুলো তারা সঠিকভাবে পান না, সেগুলোর ভিত্তিতে প্রথম ইশতেহার হচ্ছে- গ্যাস ও নাগরিক সেবা। আমার নির্বাচনী আসন যদিও শহরের প্রাণ কেন্দ্র তারপরও মানুষ যখন চুলা জ্বালায় রান্না করার জন্য গ্যাস বের হয় না। তবে মাসে মাসে বিলটা ঠিকই দিতে হয়। আমার প্রস্তাবনা হচ্ছে- সংসদে গিয়ে ‘নো সার্ভিস, নো বিল’ নীতির পক্ষে আইন প্রস্তাব আনবো। এছাড়াও পাইপলাইনে গ্যাস দিতে যদি ব্যর্থ হয় তাহলে এলাকায় যাতে ভর্তুকি বা ন্যায্য দামে এলপিজি সিলিন্ডার সরবরাহ করে। জলাবদ্ধতার সমাধান- আমাদের ড্রেনেজ ব্যবস্থা যাতে আধুনিকায়ন হয় সেজন্য ওয়াসা এবং সিটি কর্পোরেশনের উপর নজরদারি রাখব। বর্জ্য ব্যবস্থাপনা- এক্ষেত্রে সেকেন্ডারি ট্রান্সফার স্টেশন অর্থাৎ আধুনিক বর্জ্য অপসারণ ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে কাজ করব।
দ্বিতীয়, স্বাস্থ্য : প্রতিরোধ ও প্রস্তুতিতে জোর। আমার আসনে প্রায় ছয়-সাত লাখেরও বেশি মানুষ থাকে তবে এই বিপুল জনসংখ্যার জন্য মাত্র একটি সরকারি হাসপাতাল রয়েছে। আর এই মুগদা হাসপাতালে জনবলের সংকট আছে, যন্ত্রপাতি সংকট আছে, রোগীরা ভোগান্তির শিকার হয়, অব্যবস্থাপনা আছে। এই মেডিকেলে যাতে আধুনিক যন্ত্রপাতি থাকে, পর্যাপ্ত জনবল নিয়োগ হয় সেজন্য স্বাস্থ্যমন্ত্রীর সাথে আমি যোগাযোগ রাখবো। আমাদের যে পাড়ার ক্লিনিকগুলো আছে, সেগুলো যাতে আধুনিকায়ন করতে পারি সেটার জন্য বিশেষ উদ্যোগ নেব যাতে এই ক্লিনিকগুলো মিনি হাসপাতালের মত হয়ে যায়। এছাড়াও ডেঙ্গুসহ মশাবাহিত রোগ প্রতিরোধে সারা বছর কাজ করবে এমন স্থায়ী মশা নিধন স্কোয়াড গঠন করব। নারী স্বাস্থ্যসেবার অংশ হিসেবে হাসপাতাল ও সরকারি স্থাপনায় গর্ভবতী মায়েদের জন্য নিয়মিত ও সাশ্রয়ী চিকিৎসা, ব্রেস্টফিডিং স্পেস এবং নারীবান্ধব টয়লেট নিশ্চিত করা হবে।
তৃতীয়, মাদক নয়, আলো চাই : আমাদের এলাকার মাদকের প্রাদুর্ভাব আছে এবং এটা নিরাপত্তার জন্য একটা বড় চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে। যারা মাদকাসক্ত আছেন তাদের চিকিৎসার ব্যবস্থা করব। মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স। আমরা নারীদের জন্য নিরাপদ করিডোরের কথা বলছি, অর্থাৎ স্কুল, কলেজ এবং গার্মেন্টসের রাস্তায় আমরা সিসিটিভি ক্যামেরা পোস্ট বসাব। পাশাপাশি গণপরিবহনে নারীদের জন্য সংরক্ষিত আসন ও সম্মানজনক যাতায়াত নিশ্চিত করা হবে।
চতুর্থ, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ভর্তিতে কোটা থাকবে না : স্কুলে ভর্তিতে এমপির (সংসদ সদস্য) কোনো কোটা বা সুপারিশ থাকবে না; মেধা ও স্বচ্ছতাই হবে একমাত্র মানদণ্ড। এ ছাড়া স্কুলে আধুনিক বিজ্ঞান ল্যাব, কোডিং ক্লাব ও লাইব্রেরি গড়ে তোলা হবে। এ ছাড়া শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) শিক্ষার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হবে।
পঞ্চম, অর্থনীতিতে সুযোগ হবে সবার : অর্থনৈতিক কর্মসংস্থানের অংশ হিসেবে তরুণ উদ্যোক্তাদের জন্য জামানত ছাড়া সহজ শর্তে ঋণ ও স্টার্টআপ ফান্ড চালু করা হবে। অর্থনীতি সবার জন্য সমান তৈরির প্রতিশ্রুতি দিয়ে স্বতন্ত্র এই প্রার্থী আরও বলেন, স্থানীয় ব্যবসায়ীদের জন্য ই-কমার্স প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হবে, যাতে তারা অনলাইনের মাধ্যমে ব্যবসা সম্প্রসারণ করতে পারেন।
ষষ্ঠ, নো প্রটোকল : আমার সঙ্গে দেখা করতে কোনো ‘ভাই’ বা ‘নেতা’ ধরার প্রয়োজন হবে না। নির্বাচিত হলে এক মাসের মধ্যে এলাকায় একটি অফিস চালু করা হবে, যা সন্ধ্যা পর্যন্ত খোলা থাকবে। নাগরিক অভিযোগ নিষ্পত্তির অগ্রগতি জানতে একটি ডিজিটাল ওপেন ড্যাশবোর্ড চালু করব।
বাসস : নির্বাচনী আচরণবিধি প্রতিপালনে নেতা-কর্মীদের প্রতি আপনার নির্দেশনা কী?
ডা. তাসনিম জারা : আমাদের সাথে যারা প্রচারণার কাজ করছেন তাদের প্রত্যেককেই প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। ওখানে আমরা আচরণবিধি নিয়ে জানাই এবং কীভাবে ক্যাম্পেইনটা করবে, মানুষের কাছে যাবে, সেটা শিখানো হয়। আপনারা দেখবেন যে, আমরা আমাদের ক্যাম্পেইনটা খুব সচেতনভাবে করছি। কোথাও আমার একটা পোস্টার দেখবেন না। আমরা কোথাও কোন রঙিন বিলবোর্ড করিনি। কোন পিভিসি করিনি। একেবারেই আচরণবিধিতে যা আছে সেই অনুযায়ী আমরা কাজ করছি।
বাসস : জুলাই সনদ বিষয়ে গণভোট প্রসঙ্গে আপনার অবস্থান কী?
ডা. তাসনিম জারা : আমার অবস্থান ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে। আমি যখন মানুষের সাথে কথা বলছি, তখন তাদের বলছি গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট দিতে। আমাদের ভলেন্টিয়াররাও যখন যাচ্ছে তখন তাদেরকে কেউ কেউ প্রশ্ন করছে যে কেন ‘হ্যাঁ’ ভোট দেব, তখন তাদের প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার চেষ্টা করছি।
বাসস : আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে আপনার প্রত্যাশা কী?
ডা. তাসনিম জারা : আমি চাই সুষ্ঠু ও অবাধ নির্বাচন হোক। মানুষ যাতে নিরাপদে ভোট দিতে পারে, সেই পরিবেশটা তৈরি করা। কিছু ভোটারের কাছ থেকে আমরা শঙ্কার কথা শুনতে পাচ্ছি। আমরা যখন হাঁটছি তখন অনেকেই বলছেন যে, ‘ভোটটা ঠিক মতো হবে তো? ভোটাররা নিরাপদে যেতে পারবে তো। কেন্দ্রে গিয়ে আবার দেখবে না যে ভোটটা দিয়ে দেওয়া হয়ে গেছে ?’ এই জায়গাটায় মানুষের শঙ্কা আছে। এই জায়গায় অবশ্যই নির্বাচন কমিশনকে আশ্বস্ত করতে হবে জনগণকে যে ভোটটা নিরাপদে হবে।
খিলগাঁও, সবুজবাগ ও মুগদা নিয়ে ঢাকা-৯ আসন গঠিত। নির্বাচন কমিশনের তথ্যমতে, এ আসনের মোট ভোটার সংখ্যা ৪ লাখ ৬৯ হাজার ৩৬০ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ২ লাখ ৩৭ হাজার ৬৭৩ জন আর নারী ভোটারের সংখ্যা ২ লাখ ৩১ হাজার ৬৮২ জন।
স্বতন্ত্র প্রার্থী ডা. তাসনিম জারা ছাড়াও আসনটিতে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রয়েছেন— জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) মনোনীত ধানের শীষের প্রার্থী হাবিবুর রশিদ হাবিব, জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মোহাম্মদ জাবেদ মিয়া, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের শাহ ইফতেখার আহসান, জাতীয় পার্টির কাজী আবুল খায়ের, গণফোরামের নাজমা আক্তার, বাংলাদেশ কমিউনিস্ট পার্টির মো. মনিরুজ্জামান, বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দলের (মার্কসবাদী) খন্দকার মিজানুর রহমান, ন্যাশনাল পিপলস পার্টির শাহীন খান, বাংলাদেশ মুসলিম লীগের মাসুদ হোসেন, বাংলাদেশ ন্যাশনালিস্ট ফ্রন্ট-বিএনএফ মোহাম্মদ শফি উল্লাহ চৌধুরী, ইনসানিয়াত বিপ্লব, বাংলাদেশের নাহিদ হাসান চৌধুরী জুনায়েদ।