বাসস
  ২৯ জানুয়ারি ২০২৬, ২০:১১

সংখ্যালঘুসহ সকল নিপীড়িতের জন্য ইসলামই পরীক্ষিত শাসনব্যবস্থা : চরমোনাই পীর

ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করীম। ফাইল ছবি

ঢাকা, ২৯ জানুয়ারি, ২০২৬ (বাসস) : ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করীম (চরমোনাই পীর) বলেছেন, সংখ্যালঘুসহ সকল নিপীড়িত ও দুর্বলের জন্য ইসলাম একটি পরীক্ষিত শাসনব্যবস্থা। স্বাধীনতার পর ৫৪ বছরের বেশি সময় ধরে বিদ্যমান আইন ও বন্দোবস্তে পরিচালিত রাষ্ট্র সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারেনি, বরং তাদের রাজনৈতিক হাতিয়ারে পরিণত করেছে।

বৃহস্পতিবার উত্তরবঙ্গের লালমনিরহাট ও রংপুরের বিভিন্ন আসনে পথসভা ও নির্বাচনী জনসভায় বক্তব্যকালে তিনি এসব কথা বলেন।

চরমোনাই পীর বলেন, বিদ্যমান রাষ্ট্রীয় বন্দোবস্ত ও আইন নিপীড়িত ও দুর্বল জনগোষ্ঠীকে রক্ষা করার পরিবর্তে রাষ্ট্রকেই নিপীড়নের উপকরণে পরিণত করেছে। দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি, মুদ্রাস্ফীতি ও আর্থিক অব্যবস্থাপনার মাধ্যমে সাধারণ মানুষকে আরও দুর্বল করা হয়েছে। তিনি অভিযোগ করেন, মানুষের রক্ত-ঘামে উপার্জিত আয় থেকে কর আদায় করে সেই অর্থ বিদেশে পাচার করা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, বর্তমান ব্যবস্থা বাংলাদেশকে একটি প্রকৃত নাগরিক রাষ্ট্রের বদলে গুটিকয়েক মানুষের মুনাফার উৎসে পরিণত করেছে। চব্বিশের জুলাইয়ে ছাত্র-জনতা এই পুরোনো বন্দোবস্ত উৎখাত করতেই জীবন দিয়েছে, রক্ত দিয়েছে এবং অনেকে পঙ্গুত্ব ও অন্ধত্ব বরণ করেছে। সেই চেতনার বাস্তবায়ন ঘটাতেই ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ইসলামকে বিকল্প রাষ্ট্রব্যবস্থা হিসেবে উপস্থাপন করছে।

চরমোনাই পীর বলেন, ৫৪ বছরের ব্যর্থতাকে মুছে স্বপ্নের বাংলাদেশ গড়তে হাতপাখা প্রতীকে ভোট দিন। আমরা কথা দিচ্ছি, আপনাদের আর হতাশ হতে হবে না।

তিনি আরও বলেন, ৯০ শতাংশ মুসলমানের দেশে যারা ইসলামকে রাষ্ট্র পরিচালনার নীতি হিসেবে উপস্থাপন করতে ভয় পায়, তাদের জন্য ইসলামী রাজনীতি মানায় না। তার মতে, বাংলাদেশে একমাত্র ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশই স্পষ্টভাবে ইসলামকে রাষ্ট্র পরিচালনার নীতি হিসেবে তুলে ধরছে। তাই যারা ইসলামকে ভালোবাসেন, দেশকে ভালোবাসেন এবং দীর্ঘদিনের ব্যর্থতা থেকে মুক্তি চান, তাদের হাতপাখা প্রতীকে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

পথসভা ও নির্বাচনী জনসভাগুলোতে আরও বক্তব্য রাখেন দলের প্রেসিডিয়াম সদস্য ও কেন্দ্রীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটির আহ্বায়ক অধ্যাপক মাহবুবুর রহমান, ছাত্র আন্দোলনের কেন্দ্রীয় সেক্রেটারি জেনারেল সুলতান আহমেদসহ কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।