বাসস
  ২৯ জানুয়ারি ২০২৬, ২০:১৫

রেজাউল হত্যার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জামায়াতে ইসলামীর

ছবি: বাসস

ঢাকা, ২৯ জানুয়ারি, ২০২৬ (বাসস) : বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী শহীদ রেজাউল করিমের হত্যার সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের গ্রেফতার করে সর্বোচ্চ শাস্তির আওতায় নিয়ে আসার দাবি জানিয়েছে। এছাড়া, ঝিনাইগাতি উপজেলা প্রশাসনের ব্যর্থতা নিয়ে তদন্তপূর্বক তাদের বিরুদ্ধে জরুরি ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানানো হয়েছে।

আজ বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে শেরপুরসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে সহিংস ঘটনার প্রতিবাদে অনুষ্ঠিত জরুরি সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য উপস্থাপন করেন এডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের।

তিনি বলেন, আমরা অবিলম্বে শহীদ রেজাউল করিমের হত্যার সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের গ্রেফতার করে সর্বোচ্চ শাস্তির আওতায় নিয়ে আসার দাবি জানাচ্ছি। সেই সাথে ঝিনাইগাতি উপজেলা প্রশাসনের ব্যর্থতা তদন্তপূর্বক তাদের বিরুদ্ধে জরুরি ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানাচ্ছি।

তিনি উল্লেখ করেন, প্রথম মারামারির সময় পুলিশ সহযোগিতা করলে ঘটনাপ্রবাহ এতদূর আসত না। কিন্তু পুলিশ প্রশাসন নিষ্ক্রিয় দর্শকের ভূমিকা পালন করেছে, এরপর সেনাবাহিনী এসে সংঘর্ষ থামানোর চেষ্টা করে। 

তিনি বলেন, ‘আমরা বাংলাদেশ সেনাবাহিনীকে ধন্যবাদ জানাচ্ছি এবং সেনাবাহিনীর একজন সদস্য আহত হওয়ায় তার প্রতি সমবেদনা জ্ঞাপন করছি এবং তার দ্রুত সুস্থতা কামনা করছি।’ 

এডভোকেট জুবায়ের আরও বলেন, ‘গত কয়েকদিনে সারা দেশে জামায়াত ও ১১ দলীয় জোটের প্রার্থীদের প্রচারণায় বাধা দেয়া হয়েছে এবং জামায়াতের নারী কর্মীদের ওপর হামলা ও নিপীড়ন অব্যাহত রাখা হয়েছে। প্রশাসনকে বারবার জানানো হলেও এখন পর্যন্ত তারা কোনো দৃশ্যমান পদক্ষেপ নেয়নি। আমরা প্রশাসনের এই একপাক্ষিক আচরণের প্রতিবাদ জানাই।’

জরুরি সংবাদ সম্মেলনে জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা আবদুল হালিম, এডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা তোফাজ্জল হোসেন মিয়াজী, এলডিপির সাংগঠনিক সম্পাদক এইচ এম নূরে আলম, যুব বিষয়ক সম্পাদক আমান সুবহান, খেলাফত মজলিসের প্রচার সম্পাদক আবদুল আজিজ খসরু, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির (জাগপা) প্রকাশনা বিষয়ক সম্পাদক এইচ এম জিয়াউল আনোয়ার, গণসংযোগ ও মিডিয়া বিষয়ক সম্পাদক নজরুল ইসলাম বাবলু, বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টির দফতর সম্পাদক শহিদুল আলম, ইসলামী ছাত্রশিবিরের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি জামায়াত নেতা জাহিদুর রহমান এবং বিশিষ্ট সাংবাদিক অলিউল্লাহ নোমান উপস্থিত ছিলেন।

এ সময় তারা আগামী ১৭তম জাতীয় নির্বাচন শান্তিপূর্ণ পরিবেশে সম্পন্ন করার আহ্বান জানান এবং নির্বাচনী পরিবেশ নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেন। এডভোকেট জুবায়ের বলেন, ‌‘জুলাই বিপ্লবের পর দেশের রাজনৈতিক কাঠামো ও সংস্কৃতির পরিবর্তনের মাধ্যমে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ, সহমর্মিতা এবং সহযোগিতার পরিবেশ বজায় থাকার কথা ছিল। কিন্তু গতকাল (২৮ জানুয়ারি) শেরপুরের ঝিনাইগাতি উপজেলায় ঘটে যাওয়া ঘটনা সেই উৎসবমুখর পরিবেশকে ম্লান করে দিয়েছে।’