বাসস
  ২৮ জানুয়ারি ২০২৬, ১৯:৪৩
আপডেট : ২৮ জানুয়ারি ২০২৬, ২০:১০

ভেজাল কসমেটিকস ও হোমকেয়ার পণ্য ব্যবহারে জনস্বাস্থ্য ঝুঁকিতে: কঠোর নীতিমালার দাবি

ছবি: বাসস

ঢাকা, ২৮ জানুয়ারি, ২০২৬ (বাসস): রাজধানীর কারওয়ান বাজারে অনুষ্ঠিত আজ এক সেমিনারে বক্তারা বলেছেন, ভেজাল ও নিম্নমানের কসমেটিকস, হোমকেয়ার ও স্কিনকেয়ার পণ্যের আগ্রাসনে দেশের জনস্বাস্থ্য ভয়াবহ হুমকির মুখে পড়েছে। ত্বক, চুল ও শরীরের পরিচর্যার নামে বাজারে ছড়িয়ে পড়া এসব অনিরাপদ পণ্য দীর্ঘমেয়াদে শারীরিক ও মানসিক ক্ষতির কারণ হয়ে উঠছে। 

তারা বলেন, এ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে নিরাপদ ও মানসম্মত পণ্যের ব্যবহার নিশ্চিত করা এবং কার্যকর নীতিমালা বাস্তবায়নের কোনো বিকল্প নেই।

আজ বুধবার কারওয়ান বাজারে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের (ডিএনসিআরপি) সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত ‘ভেজাল ও নিম্নমানের পণ্যের আগ্রাসন: ভোক্তার সুরক্ষায় প্রয়োজন কঠোর নীতিমালা’ শীর্ষক সেমিনারে এসব উদ্বেগের কথা তুলে ধরেন বক্তারা। ডিএনসিআরপি ও অ্যাসোসিয়েশন অব স্কিন কেয়ার অ্যান্ড বিউটি প্রোডাক্টস ম্যানুফ্যাকচারারস অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অব বাংলাদেশ (এএসবিএমইবি)-এর যৌথ উদ্যোগে এ সেমিনার আয়োজন করা হয়।

সেমিনারের প্রধান অতিথি ডিএনসিআরপি’র মহাপরিচালক ফারুক আহম্মেদ বলেন, ভেজাল ও নিম্নমানের পণ্যের বিস্তার রোধে ব্যর্থ হলে আগামী প্রজন্ম মারাত্মক স্বাস্থ্য ঝুঁকির মুখে পড়বে। তিনি জনস্বাস্থ্যের সুরক্ষাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়ার ওপর জোর দিয়ে বলেন, মাননিয়ন্ত্রণ জোরদার না হলে ভোক্তার ক্ষতি অব্যাহত থাকবে। একই সঙ্গে তিনি হালাল পণ্যের বৈশ্বিক বাজারে দেশের কসমেটিকস শিল্পের সম্ভাবনার কথা উল্লেখ করে বলেন, সেই সুযোগ কাজে লাগাতে হলে দেশীয় শিল্পকে সুরক্ষা দিয়ে মানসম্মত উৎপাদন নিশ্চিত করতে হবে।

মূল প্রবন্ধে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আইনুল ইসলাম বলেন, কসমেটিকস কেবল সৌন্দর্যের বিষয় নয়-এটি সরাসরি জনস্বাস্থ্য, সামাজিক কল্যাণ ও আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে সম্পৃক্ত। তিনি ভেজাল ও নিম্নমানের আমদানিকৃত পণ্যের কারণে ত্বক ও স্বাস্থ্যের ক্ষতির পাশাপাশি দেশীয় শিল্পের বিকাশ বাধাগ্রস্ত হওয়ার চিত্র তুলে ধরেন। তার মতে, দুর্বল নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার সুযোগে নিম্নমানের পণ্য বাজার দখল করে নিচ্ছে, যা স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়াচ্ছে।

বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ডা. শারমিনা হক ভেজাল কসমেটিকস ব্যবহারের কারণে ভয়াবহ স্বাস্থ্যপ্রভাব তুলে ধরে বলেন, এসব পণ্যের কারণে ত্বকের স্থায়ী ক্ষতি, অ্যালার্জি, মানসিক বিপর্যয় এমনকি চরম হতাশা দেখা দিচ্ছে। কেউ কেউ মানসিক চাপে আত্মহননের পথও বেছে নিচ্ছেন, যা জনস্বাস্থ্যের জন্য অশনিসংকেত। তিনি ভোক্তা সচেতনতার পাশাপাশি নিয়ন্ত্রক সংস্থার তদারকি আরও জোরদার করার আহ্বান জানান।

এফবিসিসিআইয়ের সাবেক পরিচালক ইসহাকুল হোসেন সুইট বলেন, দেশীয় কসমেটিকস শিল্প শক্তিশালী না হলে নিরাপদ পণ্য নিশ্চিত করা কঠিন হবে। তিনি কাঁচামাল আমদানিতে উচ্চ শুল্ককে স্বাস্থ্যসম্মত স্থানীয় উৎপাদনের বড় বাধা হিসেবে উল্লেখ করেন। একই সুরে বাংলাদেশ কসমেটিকস অ্যান্ড টয়লেট্রিজ ইম্পোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের মহাসচিব সাহিদ হোসেন বলেন, কাঁচামালে শুল্ক কমালে মানসম্মত উৎপাদন বাড়বে, যা ভোক্তার স্বাস্থ্য সুরক্ষায় সহায়ক হবে।

আইবিএফবি’র সহসভাপতি এম এস সিদ্দিকী ভোক্তাদের সচেতন হওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, সচেতন ভোক্তাই ভেজাল পণ্যের বিরুদ্ধে সবচেয়ে বড় প্রতিরোধ। এসএমই ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের সভাপতি আলী জামান লাগেজ পার্টির মাধ্যমে অনিয়ন্ত্রিত পণ্য আমদানি বন্ধের দাবি জানান, যা জনস্বাস্থ্য ও দেশীয় শিল্প উভয়ের জন্যই হুমকি।

সেমিনারে আরও বক্তব্য রাখেন ডিএনসিআরপি’র পরিচালক আজিজুল ইসলাম, উপ-পরিচালক আতিয়া সুলতান, বিএসটিআই-এর উপ-পরিচালক আলাউদ্দিন হুসাইন এবং সিনিয়র সাংবাদিক মনোয়ার হোসেন। বক্তারা একমত পোষণ করে বলেন, জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় ভেজাল ও নিম্নমানের কসমেটিকসের বিরুদ্ধে এখনই কঠোর ও সমন্বিত পদক্ষেপ জরুরি।