শিরোনাম

সিলেট, ২৫ জানুয়ারি, ২০২৬ (বাসস): সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) সম্পাদক ও প্রধান নির্বাহী ড. বদিউল আলম মজুমদার বলেছেন, জুলাই-আগস্টের ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে কর্তৃত্ববাদী শাসনের অবসান ঘটলেও গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার লড়াই এখনো শেষ হয়নি। এই অভ্যুত্থানের মূল আকাঙ্ক্ষা পূরণে রাষ্ট্র সংস্কার এখন সময়ের দাবি।
আজ সিলেটে সুজন জেলা শাখা আয়োজিত ‘গণঅভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষা, রাষ্ট্র সংস্কার ও নির্বাচনী ইশতেহার’ শীর্ষক বিভাগীয় সংলাপ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
ড. বদিউল আলম মজুমদার বলেন, ‘সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনই গণতান্ত্রিক উত্তরণের পূর্বশর্ত। তবে শুধু নির্বাচনই যথেষ্ট নয়, গণতন্ত্রকে টেকসই করতে হলে গভীর আইনি ও প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার অপরিহার্য। অতীতের অভিজ্ঞতায় প্রমাণিত হয়েছে যে, দলীয় সরকারের অধীনে সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব নয়। এজন্য নির্বাচনকালীন নির্দলীয় সরকারের গুরুত্ব অপরিসীম।’
নির্বাচনী ব্যবস্থার প্রধান প্রতিবন্ধকতাগুলো চিহ্নিত করে তিনি বলেন, ‘রাজনীতিতে দুর্বৃত্তায়ন, টাকার অশুভ প্রভাব, নির্বাচন কমিশনের অকার্যকারিতা এবং ক্ষমতার অতিমাত্রায় কেন্দ্রীকরণ সুষ্ঠু নির্বাচনের পথে বড় বাধা। এসব দূর করতে না পারলে গণঅভ্যুত্থানের প্রকৃত উদ্দেশ্য সফল হবে না।’
সুজন সম্পাদক আরও বলেন, ‘নির্বাচন কমিশনকে শুধু শক্তিশালী করলেই হবে না, একে স্বাধীন ও দায়বদ্ধ হতে হবে। রাজনৈতিক দলগুলোর অভ্যন্তরেও গণতন্ত্র চর্চা এবং আর্থিক স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা জরুরি। একইসঙ্গে কোনো অপরাধী যেন রাজনীতিতে আশ্রয় না পায়, সে বিষয়ে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে।’
নাগরিক সমাজকে সজাগ থাকার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘নাগরিক সমাজকে ল্যাপ-ডগ (পোষণকারী) নয়, বরং ওয়াচ-ডগ (প্রহরী) হিসেবে ভূমিকা পালন করতে হবে। রাষ্ট্র সংস্কারের মাধ্যমে মানবাধিকার রক্ষা ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে সাধারণ মানুষকেও সোচ্চার থাকতে হবে।’
সিলেট জেলা সুজনের সভাপতি শিরিন আক্তারের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমানের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত এই সংলাপে সিলেট বিভাগের চার জেলা ও ব্রাহ্মণবাড়িয়ার প্রতিনিধিরা অংশ নেন।
এছাড়া অনুষ্ঠানে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা রাষ্ট্র সংস্কারের নানা প্রস্তাব তুলে ধরেন।