বাসস
  ০৮ জানুয়ারি ২০২৬, ১৮:৩২
আপডেট : ০৮ জানুয়ারি ২০২৬, ১৮:৩৯

২৪ ঘণ্টার মধ্যে মুসাব্বিরের হত্যাকারীরা গ্রেফতার না হলে কঠোর কর্মসূচি : স্বেচ্ছাসেবক দল

নিহত স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা আজিজুর রহমান মুসাব্বির। ছবি : সংগৃহীত

ঢাকা, ৮ জানুয়ারি, ২০২৬ (বাসস) : আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা আজিজুর রহমান মুসাব্বিরের হত্যাকারীদের গ্রেফতার করা না হলে কঠোর কর্মসূচির হুঁশিয়ারি দিয়েছে জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দল।

আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে নয়া পল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে মুসাব্বিরের জানাজার আগে দলটির জ্যেষ্ঠ সহ-সভাপতি ইয়াসীন আলী ও সহ-সভাপতি ফখরুল ইসলাম রবিন কর্মসূচি ঘোষণা করেন।

ইয়াসীন আলী বলেন, ‘মুসাব্বিরের হত্যাকারী দুষ্কৃতকারীদের আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে গ্রেফতার করার দাবি জানাচ্ছি। এই গ্রেফতারের দাবিতে শনিবার ঢাকা মহানগরসহ সারাদেশে মহানগর ও জেলায় বিক্ষোভ কর্মসূচি ঘোষণা করছি। এর মধ্যে মুসাব্বিরের হত্যাকারীদের গ্রেফতার করা না হলে স্বেচ্ছাসেবক দল কঠোর কর্মসূচি দেবে।’

গতকাল বুধবার রাতে ঢাকা স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আজিজুর রহমান মুসাব্বিরকে সন্ত্রাসীরা গুলি করলে হাসপাতালে নেওয়ার পর তিনি মারা যান। বৃহস্পতিবার তার স্ত্রী সুরাইয়া বেগম অজ্ঞাতনামা আসামি করে তেজগাঁও থানায় মামলা করেছেন।

আজ বাদ জোহর নয়া পল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে নিয়ে আসা হয় মুসাব্বিরের কফিন। সেখানে বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব হাবিব উন নবী খান সোহেল, বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির স্বেচ্ছাসেবক বিষয়ক সম্পাদক মীর সরাফত আলী সপু, কেন্দ্রীয় নেতা আবদুল কাদির ভুঁইয়া জুয়েল, এসএম জাহাঙ্গীর, মোস্তাফিজুর রহমান, ঢাকা মহানগর উত্তরের আহ্বায়ক আমিনুল হক, দক্ষিণের সদস্য সচিব তানভীর আহমেদ রবিনসহ স্বেচ্ছাসেবক দলের সিনিয়র সহ-সভাপতি ইয়াসীন আলীসহ নেতা-কর্মীরা অংশ নেন।

জানাজার আগে সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব হাবিব উন নবী খান সোহেল বলেন, ‘আমি বলব, এই হত্যাকাণ্ডের পেছনে যারা জড়িত তারা যারাই হোক, অনতিবিলম্বে তাদেরকে গ্রেফতার করে বিচারের কাঠগড়ায় দাঁড় করাতে হবে। আমি সরকারকে বলতে চাই— আপনারা বলেছেন, আপনারা নির্বাচন করবেন। আমরা আপনাদের কথায় বিশ্বাস করেছি, আপনার নির্বাচনের তারিখ দিয়েছেন, আমরা সেটাকে স্বাগত জানিয়েছি।’

‘কিন্তু যখন আমরা দেখি এখন পর্যন্ত ওসমান হাদি হত্যার মূল হত্যাকারীরা গ্রেফতার হয়নি এবং এখন পর্যন্ত আমরা মুসাব্বিরের যে হত্যাকারী বা যে হত্যাকাণ্ড হয়েছে, যদিও বেশিক্ষণ হয়নি,  এখানে আমাদের সহকর্মীরা বলেছেন, ২৪ ঘণ্টা সময় দিয়েছেন। আমরা আশা করব এই সময়ের মধ্যেই হত্যাকারীদের গ্রেফতার করতে হবে।’

হাবিব উন নবী খান সোহেল বলেন, ‘এই পার্টি অফিসের সামনে দাঁড়িয়ে আজকে স্পষ্ট ভাষায় বলে দিতে চাই, আমাদের চেয়ারম্যান জননেতা জনাব তারেক রহমান সাহেবের নেতৃত্বে বাংলাদেশের জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠা করার যে লড়াই চলছে, কোনো হত্যাকাণ্ড সে লড়াইয়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়াবে না, কোনো রক্তপাত সেই লড়াইয়ের ক্ষেত্রে কোনো প্রতিবন্ধকতা তৈরি করতে পারবে না।’

‘বাংলাদেশের মাটিতে আমরা নির্ধারিত সময়েই জনগণের সরকার জনগণের ভোটের মাধ্যমেই নির্বাচিত করব, কোনো ষড়যন্ত্রই সেই পথে বাধা হতে পারবে না। ইনশাল্লাহ আমাদের নেতা জনাব তারেক রহমান এখন আমাদের মাঝেই আছেন। আমরা লড়াইকে তার যৌক্তিক পরিণতির দিকে যে কোনো ত্যাগের বিনিময়ে যদি আমাদের আরো অনেকবার মুসাফির হতে হয়, আমরা মুসাফির হব। কিন্তু আমরা আমাদের লড়াইকে যৌক্তিক দিকে নিয়ে যাব।’

স্বেচ্ছাসেবক বিষয়ক সম্পাদক মীর সরাফত আলী সপু বলেন, ‘মুসাব্বির একজন দেশপ্রেমিক সাহসী সৈনিক। অনেকবার ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনার আমলে গ্রেফতার হয়েছে। একবার তাকে গুম করা হয়েছে। আমার মনে আছে, আমাদের নেতা রুহুল কবির রিজভী রাতে সংবাদ সম্মেলন করে মুসাব্বিরকে গুম করার খবর দেশবাসীকে জানান গণমাধ্যমের মাধ্যমে।’

‘পরে গুম থেকে রক্ষা পেয়ে কারাগারে গেলে তার সাথে আমার দেখা হয়েছিল। জাতীয়তাবাদী দলের একজন সাহসী কর্মী ছিলেন তিনি। তার এই হত্যাকাণ্ড মেনে নেওয়া যায় না।’

মহানগর উত্তরের সদস্য আমিনুল হক বলেন, ‘একটি মহল নির্বাচন বানচাল করার জন্য হত্যাকাণ্ড সংঘটিত করছে। মুসাব্বির একজন সাহসী সৈনিক ছিলেন। শত শত মামলা, নিপীড়ন সহ্য করেছেন কিন্তু রাজপথ ছাড়েনি। আমরা মনে করি, মুসাব্বিরের হত্যাকাণ্ড নির্বাচন বানচালকারীদের চক্রান্তের অংশ। উদ্দেশ্য একটাই— দেশকে অস্থিতিশীল করা। আমাদেরকে অবশ্যই এ ব্যাপারে সজাগ থাকতে হবে।’

ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সদস্য সচিব তানভীর আহমেদ রবিন মুসাব্বিরেরে হত্যাকাণ্ডের নিন্দা জানিয়ে বলেন, ‘সরকার ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে বলব, আপনারা মুসাব্বিরের হত্যাকারীদের দ্রুত খুঁজে বের করুন, নইলে আমরা খুঁজে বের করব। এই হত্যা কোনোভাবে মেনে নেওয়া যায় না।’