শিরোনাম

যশোর, ১৯ জানুয়ারি, ২০২৬ (বাসস): বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, দোষারোপের রাজনীতি নয়, মানুষকে ভালো রাখার রাজনীতি করতে হবে।
তিনি বলেন, ‘দোষারোপের রাজনীতি করলে মানুষের পেট ভরবে না। রাজনীতিকে শুধু স্লোগান, গান, মিছিল, মিটিংয়ে সীমাবদ্ধ করতে চাই না। মানুষের উপকারের জন্য রাজনীতি করতে হবে। সেজন্য, যে কাজ করলে মানুষের পেট ভরবে, মানুষ ভালো থাকবে, সেই কাজগুলো আমরা করতে চাই।’
যশোর সদর উপজেলার বাজুয়াডাঙ্গা গ্রামে স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি সাদা গায়ের রং (অ্যালবিনিজম রোগে আক্রান্ত) নিয়ে জন্ম নেওয়া শিশু আফিয়া ও তার মা মনিরা খাতুনকে প্রতিশ্রুত নতুন ঘর (সেমি-পাকা) হস্তান্তর উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে ভার্চুয়ালি অংশ নিয়ে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তারেক রহমান এসব কথা বলেন।
আজ সোমবার আফিয়াদের নতুন বাড়িতে এই হস্তান্তর অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
অতিরিক্ত ফর্সা রং নিয়ে জন্ম নেওয়ার পরপরই আফিয়ার বাবা সন্দেহবশত তার মাকে তালাক দিয়ে বিদেশে চলে যান। এরপর শিশু আফিয়াকে নিয়ে তার মা চরম দুর্দশার মধ্যে দিন কাটাতে থাকেন। বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হলে তা লন্ডনে থাকা অবস্থায় তারেক রহমানের দৃষ্টিগোচর হয়।
তারেক রহমান সেখান থেকে দলের কেন্দ্রীয় কমিটির খুলনা বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক অনিন্দ্য ইসলাম অমিতকে আফিয়ার পাশে দাঁড়ানোর নির্দেশ দেন ও তাদের থাকার ব্যবস্থা করতে বলেন। সে অনুযায়ী আফিয়াদের গ্রামের বাড়ি যশোর সদর উপজেলার বাজুয়াডাঙ্গা গ্রামে একটি সেমিপাকা ঘর নির্মাণ করে দেওয়া হয়। সেই ঘরটিই আজ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করা হয়।
হস্তান্তর অনুষ্ঠানে ভার্চুয়ালি ঢাকা থেকে সরাসরি যুক্ত হন তারেক রহমান। এসময় আফিয়াদের বাড়িতে বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির ভাইস চেয়ারম্যান অধ্যাপক নার্গিস বেগম, খুলনা বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক অনিন্দ্য ইসলাম অমিতসহ যশোর জেলা ও মণিরামপুর উপজেলা বিএনপির নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
প্রধান অতিথির বক্তৃতায় বিএনপি চেয়ারম্যান আরও বলেন, ‘বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকার সাংবিধানিক ও আইনগত সংস্কার প্রস্তাব নিয়ে কিছু কাজ করেছে। দেশের মানুষ, দেশ ও দেশের ভবিষ্যতের জন্য এগুলোও প্রয়োজনীয়। তবে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার বিভিন্ন সীমাবদ্ধতার কারণে অনেক কাজই হয়তো করতে পারেনি। আফিয়ার মতো যত সন্তান রয়েছে, আফিয়ার মায়ের মতো যত অসহায় মানুষ রয়েছে, তারাও এদেশেরই সন্তান। তাদের নিয়েও আমাদের চিন্তা করতে হবে।’
জনগণের ভোটে সরকার পরিচালনার দায়িত্ব পেলে বিএনপি দেশ ও দেশের মানুষকে কীভাবে এগিয়ে নেবে, এর বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেন তারেক রহমান। তিনি ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড, গ্রামের মানুষের চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করা, মসজিদের ইমাম-খতিব ও মুয়াজ্জিনসহ অন্য ধর্মাবলম্বী ও ধর্মগুরুদের জন্য সম্মানীভাতা প্রদানের পরিকল্পনাসহ বিভিন্ন পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন।
তিনি বলেন, ‘জনগণের রায় নিয়ে সরকার গঠন করতে পারলে আফিয়ার মায়ের মতো আমরা গ্রামের সব দুঃস্থ পরিবারগুলোর পাশে দাঁড়াতে চাই। সেজন্যই ফ্যামিলি কার্ডের কথা বলা হয়েছে।’
তারেক রহমান বলেন, ‘দেশের বেশিরভাগ মানুষ গ্রামে বাস করেন। তাদের বেশিরভাগই প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে কৃষিকাজের সঙ্গে জড়িত। কৃষক যদি ভালো থাকে, উৎপাদিত পণ্যের ন্যায্যমূল্য পায়, তাহলে সামগ্রিকভাবে দেশ ভালো থাকবে। তাই উৎপাদন বাড়াতে এবং কৃষককে ভালো রাখতে আমরা কৃষক কার্ড দেওয়ার প্রকল্প গ্রহণের প্রতিশ্রুতি দিয়েছি।’
শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের সময় খাল কাটা কর্মসূচির প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, ‘সেসময় এর মাধ্যমে কৃষি উৎপাদন ব্যাপকভাবে বাড়ানো সম্ভব হয়েছিল। কিন্তু পরবর্তীতে এটা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় পানি সংকটে কৃষি উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে।’ তিনি খাল কাটা কর্মসূচি আবারও শুরু করা হবে বলে জানান।
চিকিৎসা ব্যবস্থা নিয়ে পরিকল্পনা ব্যাখ্যা করতে গিয়ে তারেক রহমান বলেন, ‘দেশের গ্রামের কোটি কোটি মানুষ ন্যূনতম চিকিৎসা সেবা থেকে বঞ্চিত। এজন্য যথাযথ প্রশিক্ষণ দিয়ে এক লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ দেওয়া হবে। যাদের মাধ্যমে প্রত্যন্ত গ্রামের ঘরে ঘরে স্বাস্থ্যসুবিধা পৌঁছে দেওয়া হবে।’
তিনি বলেন, ‘বেগম খালেদা জিয়ার সরকারের সময় দেশে নারী শিক্ষার বিস্তার ঘটানো হয়েছিল। সেই শিক্ষিত নারী সমাজকে স্বাবলম্বী করে গড়ে তুলতে হবে আমাদের। দেশের অর্ধেক জনগোষ্ঠীকে স্বাবলম্বী করতে না পারলে দেশকে দ্রুত এগিয়ে নেওয়া যাবে না।’
তারেক রহমান বলেন, ‘মসজিদের ইমাম, খতিব, মুয়াজ্জিনসহ অন্য ধর্মের ধর্মগুরুদের জন্য সরকারের পক্ষ থেকে সম্মানী ভাতার ব্যবস্থা করা হবে, যাতে তারা আত্মসম্মান নিয়ে সমাজে মাথা উঁচু করে বসবাস করতে পারেন।’
তিনি বলেন, ‘বিএনপি আজ দল হিসেবে অল্প কিছু মানুষের পাশে দাঁড়াতে পারছে। আগামীতে সরকারে থাকলে আরও ভালোভাবে মানুষের পাশে থাকতে পারবো।’
সব শ্রেণি-পেশার মানুষের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘বেগম খালেদা জিয়া যেমন আপনাদের পাশে ছিলেন, তাঁর দল বিএনপি একইভাবে আগামীতে আপনাদের পাশে থাকবে।’
বিএনপির খুলনা বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ও যশোর-৩ আসনে দলের সংসদ সদস্য প্রার্থী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত যেভাবে অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ান, তার প্রশংসা করে তারেক রহমান বলেন, ‘আমরা দলের মধ্যে অমিতের মতো আরও নেতা তৈরি করতে চাই।’