বাসস
  ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:৫৩

বাগেরহাটে একই পরিবারের তিন খুনের রহস্য উদঘাটন

বাগেরহাটের কচুয়ায় তিন খুনের ঘটনায় ঘটনায় তিনজনকে আটক করা হয়।: বাসস

বাগেরহাট, ৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ (বাসস) : বাগেরহাটের কচুয়ায় একই পরিবারের তিনজনকে নৃশংসভাবে হত্যার রহস্য উদঘাটনের দাবি করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় তিনজনকে আটক করা হয়েছে।

গতকাল রোববার দুপুরে বাগেরহাট পুলিশ সুপার কার্যালয়ে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে পুলিশ সুপার হাসান মোহাম্মদ নাসের রিকাবদার এ তথ্য বাসস’কে জানান।

পুলিশ সুপার জানান, পরকীয়া সম্পর্ক ও পারিবারিক বিরোধের জেরে পরিকল্পিতভাবে এ হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়েছে। কচুয়া উপজেলার চান্দেরকোলা গ্রামে গত ২ আগস্ট রাত থেকে ৪ আগস্ট ভোর ৫টার মধ্যে একই পরিবারের তিনজনকে হত্যা করা হয়। গত ৪ আগস্ট বেলা ১১টা ৫০মিনিটে পুলিশ খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে নিহতদের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে। পরে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য বাগেরহাট জেলা হাসপাতালে পাঠানো হয়।

এ ঘটনায় কচুয়া থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়। পরে হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটন ও জড়িতদের আটকে বাগেরহাট জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) ও কচুয়া থানা পুলিশের যৌথ অভিযান শুরু হয়।

অভিযানে গত ১৩ আগস্ট চান্দেরকোলা গ্রামের জাহিদুল ইসলামকে আটক করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে তার কাছ থেকে হত্যাকাণ্ড সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যায় বলে জানিয়েছে পুলিশ। এরপর তথ্য-প্রযুক্তির সহায়তায় গত ৫ সেপ্টেম্বর শনিবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে নিজ বাড়ি থেকে আসাদুল শেখকে আটক করা হয়।

পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, তাকে আটকের সময় দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে নিহত আহাদের ব্যবহৃত একটি মোবাইল ফোন ও এর চার্জার আসাদুলের শয়ন কক্ষের খাটের ওপর বালিশের নীচ থেকে উদ্ধার করা হয়। পরে আসাদুলের দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে রাত ১১টার দিকে একই গ্রামের মো.আরিফ হাওলাদার বাবুকে নিজ বাড়ি থেকে আটক করা হয়।

পুলিশের দাবি, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আরিফ হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন।

জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্যের বরাত দিয়ে পুলিশ সুপার আরও জানান, নিহত আহাদের পরিবারের এক নারী সদস্যের সঙ্গে আটক হওয়া জাহিদুল ইসলামের দীর্ঘদিনের পরকীয়ার সম্পর্ক ছিল। বিষয়টি উভয় পরিবারের মধ্যে জানাজানি হলে আহাদের মা নিহত মনিরা বেগমের সঙ্গে জাহিদুলের ঝগড়াঝাটি হয়।

একই সঙ্গে জাহিদুলের স্ত্রীর সঙ্গেও তার পারিবারিক বিরোধ চলছিল। এসব বিরোধের জেরে জাহিদুল ইসলাম হত্যাকাণ্ডের পরিকল্পনা করেন এবং আটক অন্য ব্যক্তিদের সহযোগিতায় তিনজনকে হত্যা করা হয়।

আটকরা হলেন-কচুয়ার চান্দেরকোলা গ্রামের মৃত মজিদ হাওলাদারের ছেলে জাহিদুল ইসলাম, সুলতান শেখের ছেলে আসাদুল শেখ এবং বারিক হাওলাদারের ছেলে মো. আরিফ হাওলাদার বাবু।