শিরোনাম

নেত্রকোণা, ৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ (বাসস) : এসএসসি, দাখিল ও এসএসসি (ভোকেশনাল) পরীক্ষা-২০২৬ সালে চমৎকার ফলাফলের ভিত্তিতে নেত্রকোণায় কৃতী শিক্ষার্থী, অদম্য মেধাবী ও শীর্ষ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোকে সম্মাননা প্রদান করা হয়েছে। গতকাল রোববার বিকেলে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে নেত্রকোণা জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে ‘শিক্ষা সাফল্য সম্মাননা ও অদম্য মেধাবী শিক্ষার্থী সম্মাননা’ শীর্ষক এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি’র বক্তব্যে নেত্রকোণার জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট খন্দকার মুশফিকুর রহমান বলেন, মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করতে না পারলে রাষ্ট্রের যাবতীয় উন্নয়ন ও অর্জন বিফলে যাবে। শিক্ষা হলো জাতির মূল ভিত্তি উল্লেখ করে তিনি যে কোনো প্রশাসনিক দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে শিক্ষাকেই সবার আগে অগ্রাধিকার দেয়ার কথা পুনর্ব্যক্ত করেন।
শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের উন্নয়ন ও শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ গঠনে সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য নির্ধারণের ওপর গুরুত্বারোপ করে ভারতের সাবেক রাষ্ট্রপতি ড. এ পি জে আবদুল কালামের উদ্ধৃতি দিয়ে জেলা প্রশাসক বলেন, ‘স্বপ্ন সেটা নয় যা মানুষ ঘুমিয়ে দেখে, স্বপ্ন সেটাই যা মানুষকে ঘুমাতে দেয় না।’
তিনি আরো বলেন, শিক্ষা ব্যবস্থার অগ্রগতি একটি ‘টিমওয়ার্ক’। শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং অভিভাবকদের সমন্বয়ে কাজ করতে হবে।
ময়মনসিংহ বিভাগে এবার নেত্রকোণা প্রথম স্থান অর্জন করেছে এবং জেলায় কোনো প্রতিষ্ঠানে শতভাগ অকৃতকার্যের রেকর্ড নেই- যা একটি ইতিবাচক অর্জন।
অনুষ্ঠানে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) মুনমুন জাহান লিজা বলেন, ‘আমাদের পরবর্তী লক্ষ্য জাতীয় পর্যায়ে প্রথম হওয়া এবং জিপিএ-৫ প্রাপ্তির দিক থেকেও শীর্ষে থাকা।’ খারাপ ফল করা প্রতিষ্ঠান চিহ্নিত করার সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে এসে প্রতিটি প্রতিষ্ঠান যেন শতভাগ পাস করে সেই লক্ষ্যে কাজ করার তাগিদ দেন তিনি। একই সাথে শিক্ষার্থীদের মোবাইল আসক্তি থেকে দূরে রেখে এবং নৈতিক মূল্যবোধসম্পন্ন মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে শিক্ষকদের শাসন ও ভালোবাসার সমন্বয়ে আনন্দদায়ক পাঠদানের পরামর্শ দেন।
নেত্রকোণার জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর কবীর আহাম্মদ বিদ্যালয়গুলোতে দুর্বল শিক্ষার্থীদের চিহ্নিত করে বিশেষ ক্লাসের ব্যবস্থা নেয়ার নির্দেশনা দেন। নেত্রকোণা সদর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা মনিজা খাতুন শিক্ষার মানোন্নয়নে শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে সুসম্পর্ক তৈরির ওপর গুরুত্ব দেন এবং ডিজিটাল চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সম্মিলিত প্রচেষ্টার আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
অনুষ্ঠানে জেলার বিভিন্ন উপজেলা থেকে বাছাইকৃত ১১ জন অদম্য মেধাবী শিক্ষার্থীকে বিশেষ সম্মাননা প্রদান করা হয়। চরম দারিদ্র্য, ভূমিহীন পরিবার কিংবা শারীরিক প্রতিবন্ধকতা জয় করে তারা প্রত্যেকেই জিপিএ-৫ অর্জন করেছে।
সম্মাননা প্রাপ্ত অদম্য মেধাবীরা হলেন- দত্ত উচ্চ বিদ্যালয়, নেত্রকোণা সদরের বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন শিক্ষার্থী সালমান ফারসি; চল্লিশ কাহনীয়া হাফিজউদ্দীন উচ্চ বিদ্যালয়, বারহাট্টা-এর তৃষা রানী সূত্রধর; মদন শহীদ স্মরণিকা পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, মদন-এর মোছা. বুশরা জাহান মীম; মোহনগঞ্জ পাইলট সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়, মোহনগঞ্জ-এর মো. তাজিন আক্তার; আব্দুল জব্বার রাবেয়া খাতুন বালিকা বিদ্যালয় ও মহাবিদ্যালয়, খালিয়াজুরী-এর রায়হানা; গোপালাশ্রম ভৈরব চন্দ্র উচ্চ বিদ্যালয়, আটপাড়া-এর পাবর্ন রানী কর্মকার; কেন্দুয়া জয়হরি স্প্রাই সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়, কেন্দুয়া-এর রোমানা আক্তার শশী; কলমাকান্দা সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়, কলমাকান্দার দিব্য দাস; বিশরপাশা হরিশচন্দ্র উচ্চ বিদ্যালয়, কলমাকান্দার প্রীতম চক্রবর্তী; বাকলজোড়া নয়াপাড়া উচ্চ বিদ্যালয়, দুর্গাপুর-এর অর্পনা রানী শীল এবং দক্ষিণ কাজলা আলহাজ্ব মৌলভী আব্দুল ওয়াহেদ খান দাখিল মাদ্রাসা, পূর্বধলা-এর হুমাইর তাবাসসুম।
এছাড়াও অনুষ্ঠানে সেরা ফলাফলের ভিত্তিতে জেলার শীর্ষ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোকে সম্মাননা জানানো হয়। জেলা শিক্ষা অফিসের তালিকা অনুযায়ী, এসএসসি পরীক্ষায় সর্বোচ্চ শতভাগ পাশের হারের শীর্ষ স্থান অর্জন করেছে কেন্দুয়ার ‘শহীদ স্মৃতি বিদ্যাপিঠ’। দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে ‘নেত্রকোণা সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়’ (৯৬.৯৭%), তৃতীয় স্থানে কেন্দুয়ার ‘সাজিউড়া উচ্চ বিদ্যালয়’ (৯৩.০২%), চতুর্থ স্থানে ‘মোহনগঞ্জ পাইলট সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়’ (৯১.৫২%), পঞ্চম স্থানে পূর্বধলার ‘আগিয়া উচ্চ বিদ্যালয়’ (৯০.২০%), ষষ্ঠ স্থানে ‘কলমাকান্দা পাইলট সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়’ (৮৮.৭০%), সপ্তম স্থানে ‘দুর্গাপুর সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়’ (৮৮.৬৮%), অষ্টম স্থানে ‘দত্ত উচ্চ বিদ্যালয়’ (৮৮.৫৭%), নবম স্থানে ‘নেত্রকোণা আদর্শ বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়’ (৮৭.৫৫%) এবং দশম স্থানে রয়েছে পূর্বধলার ‘ডাঃ মোহাম্মদ আলী উচ্চ বিদ্যালয়’ (৮৬.৮৪%)।
দাখিল পরীক্ষায় সর্বোচ্চ পাশের হারে শীর্ষে রয়েছে কলমাকান্দার ‘রামনাথপুর ডি.এস দাখিল মাদ্রাসা’ (৮৫.২৯%), দ্বিতীয় স্থানে পূর্বধলার ‘তালিমাত-ই-ইসলামিয়া দাখিল মাদ্রাসা’ (৮২.১৪%) এবং তৃতীয় স্থানে রয়েছে নেত্রকোণা সদরের ‘লতিফা আব্বাছ মডেল মহিলা ফাজিল মাদ্রাসা’ (৭৯.৬৩%)।
এছাড়া এসএসসি (ভোকেশনাল) পরীক্ষায় শতভাগ পাশের হার অর্জন করে শীর্ষে অবস্থান করছে পূর্বধলার ‘ইকরা টেকনিক্যাল এন্ড বি এম কলেজ’।
অনুষ্ঠানে জেলা প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, শিক্ষা বিভাগের কর্মকর্তা, বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধান, শিক্ষক, অভিভাবক ও কৃিত শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।