শিরোনাম

বান্দরবান, ১৩ আগস্ট, ২০২৬, (বাসস) : বান্দরবানের দুর্গম ও প্রত্যন্ত পাহাড়ি এলাকায় গর্ভবতী নারী, প্রসূতি মা ও নবজাতকের প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে বিভিন্ন পাড়ার ১৯ জন শিক্ষার্থীকে দুই সপ্তাহব্যাপী প্রাথমিক চিকিৎসা প্রশিক্ষণ দিয়েছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী।
বান্দরবান ৭ ফিল্ড অ্যাম্বুলেন্স হাসপাতালে আয়োজিত এ প্রশিক্ষণে গর্ভাবস্থার ঝুঁকি ও বিপদচিহ্ন শনাক্তকরণ, প্রসবকালীন প্রাথমিক সহায়তা, নবজাতকের পরিচর্যা, বুকের দুধ খাওয়ানো, টিকাদান, সিপিআর, ক্যানুলা প্রয়োগ, স্বাস্থ্য কাউন্সেলিং ও পরিবার পরিকল্পনাসহ বিভিন্ন বিষয়ে তাত্ত্বিক ও ব্যবহারিক প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়।
দুর্গম পাহাড়ি এলাকার শিক্ষার্থীরা স্বাস্থ্যসেবা বিষয়ে এমন প্রশিক্ষণ পেয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেন। তারা জানান, প্রশিক্ষণের মাধ্যমে অর্জিত জ্ঞান নিজ নিজ পাড়া ও গ্রামের মানুষের প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবায় কাজে লাগাতে পারবেন।
আজ বৃহস্পতিবার প্রশিক্ষণের সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে প্রশিক্ষণার্থীদের হাতে সনদপত্র ও বিভিন্ন স্বাস্থ্য সুরক্ষা সামগ্রী তুলে দেন সেনাবাহিনীর বান্দরবান রিজিয়ন কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ আরিফুল ইসলাম।
এ সময় তিনি প্রশিক্ষণটি সুষ্ঠু ও সুন্দরভাবে সম্পন্ন করায় সংশ্লিষ্টদের ধন্যবাদ জানান। একই সঙ্গে প্রশিক্ষণপ্রাপ্তদের দুর্গম এলাকায় প্রশিক্ষণলব্ধ জ্ঞান কাজে লাগিয়ে মা ও শিশুর প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবায় ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠানে বান্দরবানের সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ শাহীন হোসাইন চৌধুরী, ৭ ফিল্ড অ্যাম্বুলেন্সের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল সরফরাজসহ সেনাবাহিনীর বিভিন্ন পদমর্যাদার কর্মকর্তা, চিকিৎসক, প্রশিক্ষক ও প্রশিক্ষণার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।
সেনাবাহিনীর কর্মকর্তারা জানান, দুর্গম পাহাড়ি এলাকার ভৌগোলিক বাস্তবতায় জরুরি স্বাস্থ্যসেবা দ্রুত পৌঁছে দেওয়া অনেক সময় কঠিন হয়ে পড়ে। এ অবস্থায় পাড়াভিত্তিক প্রশিক্ষিত জনবল তৈরি করা গেলে প্রত্যন্ত এলাকার মা ও শিশুদের প্রাথমিক চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করা আরও সহজ হবে।
তারা আরও জানান, পার্বত্য এলাকায় নিরাপত্তার পাশাপাশি শান্তি, সম্প্রীতি ও উন্নয়নে সেনাবাহিনী কাজ করে যাচ্ছে। দুর্গম এলাকার বাসিন্দাদের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে এ ধরনের প্রশিক্ষণ কার্যক্রম ভবিষ্যতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।