শিরোনাম

বগুড়া, ৫ আগস্ট, ২০২৬ (বাসস) : যথাযথ মর্যাদা, শহীদ পরিবার ও আহতদের সংবর্ধনা এবং আলোচনার মধ্য দিয়ে বগুড়ায় পালিত হয়েছে ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস-২০২৬’। দিবসটি উপলক্ষ্যে বুধবার সকাল ১০টায় শহরের শহীদ টিটু মিলনায়তনে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে জুলাই শহীদ পরিবার ও আহত জুলাই যোদ্ধাদের এক সংবর্ধনা ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে প্রশাসন ও অতিথিদের পক্ষ থেকে শহীদ পরিবার এবং আহত জুলাই যোদ্ধাদের মাঝে শুভেচ্ছা উপহার তুলে দেয়া হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বগুড়া-৬ আসনের সংসদ সদস্য মো. রেজাউল করিম বাদশা বলেন, ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন, ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ এবং ১৯৯০ সালের স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় ২০২৪ সালের আন্দোলন ছিল এক গণতান্ত্রিক, অসাম্প্রদায়িক ও বৈষম্যহীন নতুন বাংলাদেশ গড়ার ভিত্তি।
রেজাউল করিম বাদশা সতর্ক করে বলেন, ‘নিজেদের মধ্যে হানাহানি বা অহংকারবোধ লালন করলে জুলাই আন্দোলনের শহীদ ও আহত যোদ্ধাদের রক্তের সঙ্গে বেইমানি করা হবে। ফ্যাসিবাদের স্থায়ী বিলোপ ঘটিয়ে একটি স্বনির্ভর, উৎপাদনমুখী ও কর্মমুখী বাংলাদেশ গড়ে তোলাই এই আন্দোলনের মূল লক্ষ্য।’
আন্দোলনকারী শহীদদের পরিবার এবং এখনো হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আহতদের সুচিকিৎসা ও সঠিক মূল্যায়ন নিশ্চিত করতে তিনি সরকার ও প্রশাসনের প্রতি জোর দাবি জানান। একইসঙ্গে জুলাইয়ের চেতনাকে ধারণ করে ঐক্যবদ্ধভাবে নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণের আহ্বান জানান তিনি।
সভাপতির বক্তব্যে বগুড়ার জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. তৌফিকুর রহমান বলেন, ‘৫২-এর ভাষা আন্দোলন থেকে ‘২৪-এর জুলাই ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থান পর্যন্ত প্রতিটি আন্দোলনের মূল বার্তা ছিল ব্যক্তিস্বার্থের ঊর্ধ্বে উঠে দেশের সর্বস্তরের মানুষের ঐক্যবদ্ধ হওয়া। তিনি অন্যকে দোষ না দিয়ে নিজ নিজ অবস্থান থেকে আত্মসমালোচনার তাগিদ দেন। মুখে বড় কথা না বলে কাজের মাধ্যমে, পরিচ্ছন্ন থেকে এবং অন্যায়ের বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়ে প্রকৃত দেশপ্রেম ফুটিয়ে তোলার জন্য সবার প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে ৬৫টি বুলেটবিদ্ধ হয়ে আহত যোদ্ধা সামিউল ইসলাম সিয়াম তার অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন। ৪ আগস্টের সংঘর্ষের স্মৃতিচারণ করে তিনি জানান, কোনো অর্থ প্রাপ্তির আশায় নয়, বৈষম্যহীন সমাজ গঠনের জন্য সাধারণ মানুষ আন্দোলনে নেমেছিল।
সিয়াম ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন,সরকার বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে ভাতা দিলেও ভুয়া অনেকে এর সুযোগ নিয়েছে। অথচ মূল দাবি ‘জুলাই সনদ’ বাস্তবায়ন এখনো আটকে রয়েছে। অনেকেই শরীরে বুলেটের স্প্রিন্টার নিয়ে হাসপাতালে অবহেলার শিকার হচ্ছেন এবং সরকারি প্রতিশ্রুতি সত্ত্বেও বিনামূল্যে ওষুধ না পেয়ে বাইরে থেকে কিনতে বাধ্য হচ্ছেন বলে অভিযোগ করেন এই আহত যোদ্ধা।
এরআগে দিবসের কর্মসূচির অংশ হিসেবে সকাল সাড়ে ৯টায় শহরের সাতমাথায় অবস্থিত ‘জুলাই স্মৃতিস্তম্ভে’ জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে পুষ্পস্তবক অর্পণ করা হয়। দিবসটি উপলক্ষ্যে দিনব্যাপী আলোকচিত্র প্রদর্শনীসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের নানা কর্মসূচি পালিত হচ্ছে।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বগুড়া-৪ আসনের সংসদ সদস্য মোশারফ হোসেন, বগুড়া সিটি করপোরেশনের প্রশাসক এম.আর ইসলাম স্বাধীন, পুলিশ সুপার মির্জা সায়েম মাহমুদ, জেলা পরিষদের প্রশাসক এ.কে.এম. আহসানুল তৈয়ব জাকির এবং জেলা সিভিল সার্জন মো. খুরশীদ আলম প্রমুখ।