শিরোনাম

গাজীপুর, ২৩ জুলাই, ২০২৬ (বাসস): মহানগরের একটি আবাসিক হোটেল থেকে পোশাককর্মী শান্তা বেগমের (২৬) মরদেহ উদ্ধারের ঘটনার ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই মূলরহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। এ হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে নিহতের দ্বিতীয় স্বামী মো. সাইফুল ইসলামকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
আজ বৃহস্পতিবার সকালে ঢাকার দক্ষিণখান এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। এ সময় তার হেফাজত থেকে নিহত শান্তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়।
পিবিআই জানায়, আদালতে হাজির করা হলে আসামি সাইফুল ইসলাম ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় হত্যাকাণ্ডের দায় স্বীকার করে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।
নিহত শান্তা বেগম নাটোর জেলা সদরের বাসিন্দা এবং গাজীপুরের সফিপুর এলাকায় থেকে একটি পোশাক কারখানায় চাকরি করতেন।
তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, গত ২১ জুলাই দুপুরে সাইফুল ও শান্তা স্বামী-স্ত্রী পরিচয়ে চান্দনা চৌরাস্তার ‘ইভ্যালি আবাসিক হোটেল’-এর ৩০৭ নম্বর কক্ষে ওঠেন। একই দিন রাতে থানা পুলিশ ওই কক্ষের ভেতর থেকে শান্তার গলা ও বুক কাটা মরদেহ উদ্ধার করে। ঘটনার পর থেকেই অভিযুক্ত সাইফুল পলাতক ছিলেন।
প্রথমে নিহতের পরিচয় জানা না গেলেও পিবিআইয়ের ক্রাইমসিন টিম ফিঙ্গারপ্রিন্ট ও তথ্যপ্রযুক্তির মাধ্যমে শান্তার পরিচয় শনাক্ত করে।
এ ঘটনায় নিহতের বাবা বাসন থানায় অজ্ঞাতপরিচয় আসামিদের বিরুদ্ধে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। পরবর্তীতে পিবিআই গাজীপুর জেলা শাখা স্বপ্রণোদিত হয়ে মামলাটির তদন্তভার গ্রহণ করে।
সংবাদ সম্মেলনে পিবিআই গাজীপুর জেলার পুলিশ সুপার মো. রকিবুল আক্তার জানান, হোটেলটির সিসিটিভি ফুটেজ, নিবন্ধন খাতা এবং প্রযুক্তিনির্ভর অনুসন্ধানের মাধ্যমে আসামির অবস্থান শনাক্ত করে পিবিআই।
বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৭টার দিকে ঢাকা দক্ষিণখান থানাধীন ফায়দাবাদ ট্রান্সমিটার মোড় এলাকায় বিরামহীন অভিযান চালিয়ে সাইফুলকে গ্রেফতার করা হয়।
জিজ্ঞাসাবাদ ও জবানবন্দির বরাতে পিবিআই আরও জানায়, তিন মাস আগে সাইফুল ও শান্তার বিয়ে হয়। তবে উভয়েরই আগের সংসারের সন্তান ও পারিবারিক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে তাদের মধ্যে দাম্পত্য কলহ ও সন্দেহ তৈরি হয়।
ঘটনার দিন হোটেলে অবস্থানকালে এ নিয়ে কথা-কাটাকাটি ও হাতাহাতির একপর্যায়ে সাইফুল ধারালো ছুরি দিয়ে শান্তার গলা ও বুকে আঘাত করে হত্যা করেন। এরপর তার মোবাইল ও পরিচয়পত্র নিয়ে পালিয়ে যান।
গ্রেফতার আসামিকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। পিবিআই জানিয়েছে, হত্যায় ব্যবহৃত আলামত উদ্ধার ও পূর্ণাঙ্গ তদন্ত শেষে দ্রুত সময়ের মধ্যে আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করা হবে।