শিরোনাম

গোপালগঞ্জ, ২১ জুলাই, ২০২৬ (বাসস) : পানি নিষ্কাশনের ভূগর্ভস্থ কালভার্টের মুখ ভরাট করায় দীর্ঘ ৩ বছর ধরে বর্ষা মৌসুমে জলাবদ্ধতায় ভুগছিলেন গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়া উপজেলার বর্ণি ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দারা।
এতে শিক্ষার্থীসহ হাজারো মানুষের স্বাভাবিক চলাফেরা, কৃষিকাজ এবং গবাদিপশু পালনে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়।
অবশেষে গোপালগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য এস এম জিলানীর হস্তক্ষেপে সেই দুর্ভোগ থেকে মুক্তি পেয়েছেন প্রায় ৩শ’ পরিবারের মানুষ। সংসদ সদস্যের নির্দেশে কালভার্টের মুখ উন্মুক্ত করায় এলাকায় নেমে এসেছে স্বস্তি।
স্থানীয়রা জানান, উপজেলার বর্ণি ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের নাসির সড়কের নিচে একটি কালভার্ট ছিল। যা দিয়ে বৃষ্টির পানি সরাসরি নদীতে চলে যেত। কিন্তু প্রায় তিন বছর আগে পার্শ্ববর্তী গ্রামের বাবুল শেখ নামে এক
ব্যক্তি সরকারি জায়গা দখলের উদ্দেশ্যে মাটি ও বালি ভরাট করে কালভার্টের মুখ বন্ধ করে দেন। এরপর থেকে প্রতি বছর বর্ষা মৌসুমে ওই এলাকায় স্থায়ী জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়। স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের বিষয়টি জানিয়েও কোনো প্রতিকার মেলেনি।
স্থানীয় এক যুবক জলাবদ্ধতা ও মানুষের ভোগান্তির চিত্র তুলে ধরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে একটি ভিডিও পোস্ট করেন। ভিডিওটি গোপালগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য এস এম জিলানীর দৃষ্টিগোচর হলে তিনি দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন। তাঁর নির্দেশে গতকাল সোমবার দিনব্যাপী অভিযান চালিয়ে কালভার্টের মুখ থেকে মাটি ও বালি অপসারণ করে পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করেন বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন টুঙ্গিপাড়া উপজেলা বিএনপির সভাপতি শেখ সালাহউদ্দিন আহমেদ, সাংগঠনিক সম্পাদক মোক্তার হোসেন, উপজেলা যুবদলের সদস্য সচিব আমিনুল ইসলাম, বর্ণি ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি জাহাঙ্গীর কবির, সাধারণ সম্পাদক ওলিউর রহমান খানসহ স্থানীয় নেতাকর্মীরা। দীর্ঘদিনের এ ভোগান্তি থেকে মুক্তি পেয়ে স্বস্তি প্রকাশ করেছেন ওই এলাকার বাসিন্দারা।
স্থানীয় বাসিন্দা বাঁকা খাঁ ও রুনা আক্তার জানান, ‘গত তিন বছর ধরে সামান্য বৃষ্টিতেই আমাদের জীবনযাত্রা অচল হয়ে পড়ত। ছেলেমেয়েরা স্কুল-কলেজে যেতে পারতো না। গবাদিপশু নিয়ে পড়তে হতো বিপাকে। জনপ্রতিনিধিদের দ্বারে দ্বারে ঘুরেও সমাধান মেলেনি। সংসদ সদস্যের এ উদ্যোগে আমরা চিরকৃতজ্ঞ।’
পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী নূরজাহান উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে বলেন, ‘বাড়ির সামনে পানি জমে থাকায় আমরা স্কুলে যেতে পারতাম না। পোকা-মাকড় ঘরে ঢুকে যেত। এখন পানি নেমে যাওয়ায় আমরা আবার নিয়মিত স্কুলে যেতে পারব।’
এ বিষয়ে টুঙ্গিপাড়া উপজেলা যুবদলের সদস্য সচিব আমিনুল ইসলাম বাসস’কে বলেন,‘সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিডিওটি সংসদ সদস্য এস এম জিলানী ভাইয়ের নজরে আসার পরই তিনি তা সমাধানের নির্দেশ দেন। আমরা নেতা-কর্মীদের সাথে নিয়ে সারাদিন কাজ করে পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করেছি। ব্যক্তি স্বার্থের জন্য সাধারণ মানুষের ক্ষতি হয়। এমন কাজ করা যাবে না। এ ধরণের কাজ থেকে সবাইকে বিরত থাকতে হবে।’