বাসস
  ০৯ জুলাই ২০২৬, ১২:৪৫

দিনাজপুরের নোনাখাড়ি খাল পুনঃখননে সেচ কাজে অগ্রগতি

নোনাখাড়ি খাল পুনঃখনন সম্পন্ন করে কৃষকদের সেচ ব্যবস্থায় উন্মুক্ত করায় কৃষি কাজের উন্নয়নে অগ্রগতি হচ্ছে। ছবি: বাসস

 

॥ রুস্তম আলী মন্ডল ॥

দিনাজপুর, ৯ জুলাই, ২০২৬ (বাসস) : জেলার বিরল উপজেলায় দীর্ঘ দিনের পরিত্যক্ত নোনাখাড়ি খাল পুনঃখনন সম্পন্ন করে কৃষকদের সেচ ব্যবস্থায় উন্মুক্ত করায় কৃষি কাজের উন্নয়নে অগ্রগতি হচ্ছে। 

গতকাল বুধবার বিরল উপজেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো. জিয়াউর রহমান এই তথ্য বাসস’কে নিশ্চিত করেন। 

তিনি বলেন, জেলার বিরল উপজেলায় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের অর্থায়নে অতি দরিদ্রদের জন্য কর্মসংস্থান কর্মসূিচর আওতায় দীর্ঘ দিনের পরিত্যক্ত নোনাখাড়ি খাল পুনঃখনন প্রকল্প খুব দ্রততম সময়ের মধ্যে খনন কাজ সঠিকভাবে সম্পন্ন হওয়ার কারণে ওই এলাকায় ফসলের মাঠে পানির নিশ্চয়তা ও গ্রামীণ অবকাঠামোর উন্নয়ন এখন দৃশ্যমান হতে শুরু করেছে। ফলে অবহেলিত এই জনপদের কৃষকদের মাঝে বইছে স্বস্তির বাতাস। সেই সাথে স্থানীয় কৃষি ও যোগাযোগ ব্যবস্থায় বড় পরিবর্তনের আশায় উচ্ছ্বসিত হয়ে পড়েছেন স্থানীয় কৃষক এবং এলাকাবাসী।

জেলার বিরল উপজেলা নোনাখাড়ি খাল খনন প্রকল্পের কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে রয়েছে। নির্ধারিত সময়ে মধ্যে মানসম্মত খাল খনন উপহার দিতে নিয়মিত তদারকি করে চলছেন স্থানীয় উপজেলা প্রশাসন। বিরল উপজেলার ৬নং ভান্ডারা ইউনিয়নের পাকুড়া স্থলবন্দর হতে জেলার উত্তরে বোচাগঞ্জ সীমানা পর্যন্ত বিস্তৃত এই নোনাখাড়ি খালটি দীর্ঘদিন সংস্কারের অভাবে পরিত্যক্ত খালে পরিণত হয়ে ছিল। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের বাস্তবায়নে অতি দরিদ্রদের জন্য কর্মসংস্থান কর্মসূচির আওতায় এই খাল পুনঃখননের উদ্যোগ নেওয়া হয়। স্থানীয় সংসদ সদস্য আলহাজ সাদিক রিয়াজ চৌধুরী পিনাক গত ৩ মে এই নোনাখাড়ি খালটি পুনঃখনন কাজের শুভ উদ্বোধন করেন।

ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের ২৩ লক্ষ ৩৯ হাজার ২৬৬ টাকা বরাদ্দের এই প্রকল্পে নোনাখাড়ি খাল খননসহ পানি নিষ্কাশনের জন্য তৈরি করা হয়েছে যুগোপযোগী ড্রেন ও কালভার্ট। খালের স্থায়িত্ব বাড়াতে উভয় পাড়ে লাগানো হচ্ছে গাছের চারা, টেইসই ও মজবুত গাছ।

খাল খনন কাজে কাজে সন্তুষ্টি প্রকাশ করে স্থানীয় উচ্ছ্বসিত কৃষক ও এলাকাবাসীর মধ্যে অনেকে জানান, এবার শুষ্ক মৌসুমে এই খাল থেকে সেচের পানি পাওয়া যাবে। আর বর্ষায় দূর হবে জনদুর্ভোগ ও এলাকার জলাবদ্ধতা। এই খাল খনন হওয়াতে আমাদের খুব উপকার হয়েছে বলে স্থানীয় জনগণ প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন। আগে শুষ্ক মৌসুমে পানি পাওয়া যেতো না, কৃষি কাজে ফসল ফলাতে ও আবাদ করতে খুব কষ্ট হতো। এখন ড্রেন আর কালভার্ট নির্মাণ হওয়ায় যাতায়াত এবং চাষাবাদ দু’টোই সহজ হবে বলে আশা করা যাচ্ছে।

এ ব্যপারে বিরল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রেজাউল ইসলাম বাসস’কে জানান, আমরা নির্ধারিত সময়ের মধ্যে মানসম্মত খাল খনন কাজ জনগণকে উপহার দিতে নিয়মিত তদারকি করছি। তবে কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে রয়েছে। আমরা আশা করছি স্থানীয় মানুষ এর শতভাগ সুফল ভোগ করতে পারবেন।

স্থানীয় সংসদ সদস্য আলহাজ সাদিক রিয়াজ চৌধুরী পিনাক জানান, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের গৃহীত এই বিশেষ খাল খনন প্রকল্প কর্মসূচির মূল লক্ষ্যই হচ্ছে গ্রামীণ জনপদের উন্নয়ন ও অতি দরিদ্রদের কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা। সেই সাথে আধুনিক কুষি কাজে অধিক ফসল উৎপাদনে কৃষকদের সহযোগিতা করা। এই প্রকল্পে খাল খনন, ড্রেন ও কালভার্ট নির্মাণসহ পরিবেশ রক্ষায় খননকৃত খালের উভয় পাশে বৃক্ষ রোপণ ও ঘাস লাগানো হয়েছে। বৃক্ষরোপণের ফলে খালের উভয় পাশে পাড় ভেঙ্গে যাওয়ার সম্ভাবনা খুব কম থাকবে। ফলে টেকসই ও মজবুত পদ্ধতিতে খালের পানি সরবরাহ সঠিক থাকবে এবং সেচ কাজে কৃষকরা সহজে পানি ব্যবহার করতে পারবেন বলে তিনি আশা করছেন।

সরকারিভাবে খাল খনন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দিনাজপুর জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা মো. আব্দুল করিম এবং এলাকার সচেতন মহল মনে করেন, গ্রামীণ অর্থনীতির চাকা সচল রাখতে এ ধরণের খাল খনন উপকৃত হবে। জলবায়ুর ক্ষতিকর প্রভাব মোকাবিলায় এ ধরনের পরিত্যক্ত খাল খনন প্রকল্প বাস্তবায়নে কৃষি কাজে সেচ ব্যবস্থায় টেকসই ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা যায়।