বাসস
  ৩০ জুন ২০২৬, ১২:৩৫

বর্ষার আগমনে মাদারীপুরে নৌকা তৈরিতে ব্যস্ত কারিগররা

মাদারীপুরের বিভিন্ন এলাকায় নৌকা তৈরিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন কারিগররা। ছবি: বাসস

মাদারীপুর, ৩০ জুন, ২০২৬ (বাসস) : বর্ষা মৌসুমকে সামনে রেখে মাদারীপুরের বিভিন্ন এলাকায় নৌকা তৈরিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন কারিগররা। জেলার সদর উপজেলার খোয়াজপুর ইউনিয়নের গোবিন্দপুর ও চরগোবিন্দপুর কাঠপট্টিতে এখন সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত চলছে কাঠ কাটা, ঘষামাজা ও নৌকা নির্মাণের কাজ।

জেলার কালকিনি, ডাসার ও শিবচরের বিভিন্ন নিম্নাঞ্চল প্রতিবছর বর্ষায় প্লাবিত হওয়ায় এসব এলাকার মানুষের যাতায়াতে এখনও নৌকার প্রয়োজন রয়েছে। এ কারণে বর্ষা শুরুর আগেই নতুন নৌকা তৈরির পাশাপাশি বিক্রির প্রস্তুতিও নিচ্ছেন কারিগররা।

গোবিন্দপুরের নৌকা নির্মাতা বাদল হোসেন বাসস’কে জানান, বছরের অধিকাংশ সময় তিনি আসবাবপত্র ও ঘরবাড়ির কাঠের কাজ করলেও বর্ষা এলেই নৌকা তৈরিতে ব্যস্ত হয়ে পড়েন। তিনি বলেন, একজন কারিগর দিনে একটি নৌকা তৈরি করতে পারেন। বর্তমানে ৮ থেকে ১০ হাত দৈর্ঘ্যের একটি নৌকা ৬ থেকে ৭ হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে। পানি বাড়লে বিক্রি আরও বাড়বে বলে আশা করছেন তিনি।

২৩ বছরের অভিজ্ঞ কারিগর ইয়াকুব মোল্লা বাসস’কে বলেন, বর্ষা মৌসুমে নৌকা তৈরি করে অন্যান্য কাজের তুলনায় কিছুটা বেশি আয় করা যায়। তাই এ সময় নৌকা নির্মাণ তাদের জন্য বাড়তি আয়ের সুযোগ সৃষ্টি করে।

স্থানীয় বাসিন্দা গিয়াসউদ্দিন বলেন, সড়ক যোগাযোগ উন্নত হওয়ায় নৌকার ব্যবহার কমলেও বর্ষাকালে অনেক এলাকায় এখনও এটি প্রয়োজনীয় বাহন। সারিবদ্ধভাবে সাজানো নতুন নৌকাও স্থানীয়দের কাছে আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে ওঠে।

কাঠ ব্যবসায়ী মোস্তফা হাওলাদার বলেন, পর্যাপ্ত বৃষ্টিপাত না হলে এবং দীর্ঘস্থায়ী জলাবদ্ধতা সৃষ্টি না হলে নৌকা বিক্রি নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হতে পারে, যা কারিগরদের জন্য লোকসানের কারণ হতে পারে।

খোয়াজপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী রোমান সরদার বলেন, এক সময় বর্ষাকালে নৌকাই ছিল মানুষের প্রধান যাতায়াতের মাধ্যম। বর্তমানে যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নে এর ব্যবহার কমলেও গ্রামীণ জনজীবনে নৌকার ঐতিহ্য এখনো বহমান।

মাদারীপুর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ওয়াদিয়া শাবাব বলেন, নৌকা শুধু যাতায়াতের বাহন নয়, এটি বাংলার ঐতিহ্যেরও গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এই ঐতিহ্য সংরক্ষণে নৌকা নির্মাণ শিল্পের কারিগরদের প্রশিক্ষণ ও প্রণোদনার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা প্রয়োজন।

সময়ের পরিবর্তনে নৌকার ব্যবহার কমলেও বর্ষা মৌসুমে জেলার নিম্নাঞ্চলের মানুষের কাছে এটি এখনও প্রয়োজনীয় বাহন হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। একই সঙ্গে ঐতিহ্যবাহী এই শিল্পকে টিকিয়ে রাখতে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন স্থানীয় কারিগররা।