শিরোনাম

পটুয়াখালী, ২০ এপ্রিল, ২০২৬ (বাসস) : হিন্দু পঞ্জিকা অনুযায়ী বৈশাখ মাসের শুক্লপক্ষের তৃতীয়া তিথি জৈন ও হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের কাছে একটি বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ তিথি। এই তিথিতে অক্ষয় পুণ্যলাভের আশায় সনাতন ধর্মাবলম্বীরা নানা আয়োজনের মধ্যে দিয়ে তাদের ধর্মাবতারকে স্মরণ করেন। প্রার্থনা করেন।
এ উপলক্ষে পটুয়াখালীর কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকতে আজ ভোরে সমুদ্রস্নানের আয়োজন করা হয় । সারাদেশ থেকে পুণ্যার্থীরা অক্ষয় পুণ্য লাভের আশায় এ সমুদ্রস্নানে অংশ নেন।
সনাতন ধর্মাবলম্বীদের বিশ্বাস, অক্ষয় তৃতীয়ার দিনেই বিষ্ণুর ষষ্ঠ অবতার পরশুরামের জন্ম হয়েছে। তাই দিনটি পরশুরামের জন্ম জয়ন্তী হিসেবেও পালিত হয়। এছাড়া এই দিনে বেদব্যাস ও গণেশ মহাভারত রচনা শুরু করেন বলেও প্রচলিত রয়েছে। পুরাণ মতে, এদিন রাজা ভগীরথ গঙ্গা দেবীকে মর্ত্যে নিয়ে আসেন।
প্রতিবছরের মতো এবারও দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ভক্তরা গঙ্গাস্নানে অংশ নিতে কুয়াকাটায় সমবেত হন। এ সময় সৈকতজুড়ে সৃষ্টি হয় উৎসবমুখর পরিবেশ। অনেককে স্নান শেষে পরিবারসহ গীতা পাঠ, প্রার্থনা ও ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানে অংশ নিতে দেখা যায়।
পিরোজপুর থেকে আগত গৌর গোবিন্দ দাস ব্রহ্মচারী বলেন, অক্ষয় তৃতীয়ার দিনে গঙ্গাস্নান করলে অক্ষয় পুণ্য লাভ হয়। এই তিথিতে নারায়ণের উপস্থিতি থাকে বলে বিশ্বাস করা হয়। তাই এদিন স্নান করলে জীবনের দুঃখ-কষ্ট ও রোগব্যাধি দূর হয়ে সুখ-সমৃদ্ধি আসে।
কুয়াকাটা শ্রীশ্রী রাধাকৃষ্ণ তীর্থযাত্রী সেবাশ্রমের সাধারণ সম্পাদক শ্রী নিহার রঞ্জন জানান, প্রতি বছরের মতো এবারও যথাযথ মর্যাদায় অক্ষয় তৃতীয়ার অনুষ্ঠান পালন করা হচ্ছে। প্রশাসনের সার্বিক সহযোগিতায় আগত ভক্তদের জন্য প্রয়োজনীয় সব ধরনের সুবিধা নিশ্চিত করা হয়েছে।
আন্তর্জাতিক হরিভাবনামৃত সংঘ ও আশ্রম এ উপলক্ষে আজ সকালে বাউফল উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে অক্ষয় তৃতীয়া ব্রত ও সনাতন ধর্ম সম্মেলনের আয়োজন করে। অন্যান্য কর্মসূচির মধ্যে ছিল আহ্বানী, সমবেত প্রার্থনা, মঙ্গলঘট স্থাপন, শ্রী শ্রী বিষ্ণু পূজা এবং গঙ্গা মায়ের পূজা। এসব আনুষ্ঠানিকতা শেষে সকাল ১০টার দিকে সাগরকন্যা কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকতে গঙ্গাস্নান অনুষ্ঠিত হয়।
ধর্ম সম্মেলনে ইঞ্জিনিয়ার নিহার রঞ্জনের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আন্তর্জাতিক হরিভাবনামৃত সংঘ ও আশ্রমের প্রতিষ্ঠাতা শ্রী শ্রী জয়দেব ঠাকুর। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন তার সহধর্মিণী হরপ্রিয়া দেবী এবং পরমপূজ্যপাদ ঋত্বিক মহারাজ ডা. রাধাস্বামী।
এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের সভাপতি ও বাগেরহাট জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. পরিতোষ রায়, ঝালকাঠির নলছিটি উপজেলার সাবেক চেয়ারম্যান ছিদ্দিকুর রহমানসহ বিভিন্ন অঞ্চলের ভক্তবৃন্দ। অনুষ্ঠানে ভগবৎ আলোচনা করেন ভক্ত গৌর গোবিন্দ দাস, শ্যামল সুন্দর দাস ও গোবিন্দ দেবনাথ। পুরো অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন রতন জ্যোতি দাস ব্রহ্মচারী।