শিরোনাম

গাজীপুর, ২ এপ্রিল, ২০২৬ (বাসস) : অভিযোগ ও মামলার সঠিক তদন্ত নিশ্চিত করতে গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের (জিএমপি) সদস্যদের বিশেষ প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হবে বলে জানিয়েছেন জিএমপি কমিশনার ইসরাইল হাওলাদার। তিনি বলেন, তদন্তের মানোন্নয়ন ছাড়া অপরাধ দমন ও বিচার প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করা সম্ভব নয়।
বৃহস্পতিবার সকালে জিএমপি সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত ঈদ পুনর্মিলনী ও সাংবাদিকদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন। সভায় নগরীর আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, অপরাধ দমন, তদন্ত কার্যক্রম এবং পুলিশের সীমাবদ্ধতা নিয়ে আলোচনা হয়।
সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে জিএমপি কমিশনার বলেন, অনেক ক্ষেত্রে মামলার তদন্তে তথ্যগত ঘাটতি থাকায় আদালতে সঠিক আলামত উপস্থাপন করা সম্ভব হয় না। এর ফলে বিচারিক কার্যক্রম দীর্ঘায়িত হয় এবং অপরাধীরা আইনের ফাঁকফোকর দিয়ে বেরিয়ে যাওয়ার সুযোগ পায়। এই দক্ষতা বৃদ্ধিতে প্রশিক্ষণকে তিনি অপরিহার্য বলে উল্লেখ করেন।
তিনি আরও বলেন, একজন তদন্তকারী কর্মকর্তার জন্য অপরাধের ধরন, ঘটনার সময় ও স্থান, আলামত সংগ্রহ এবং পূর্ববর্তী অপরাধের সঙ্গে কোনো যোগসূত্র আছে কি-না, তা বিশ্লেষণ করা অত্যন্ত জরুরি। এসব বিষয়ে সঠিক মূল্যায়ন করতে না পারলে তদন্ত দুর্বল হয়ে পড়ে।
আধুনিক অপরাধ দমনে শুধু প্রচলিত পদ্ধতি যথেষ্ট নয় উল্লেখ করে জিএমপি কমিশনার বলেন, প্রযুক্তির ব্যবহার, গোয়েন্দা তৎপরতা এবং তথ্য বিশ্লেষণের মাধ্যমে অপরাধী ও তাদের সহযোগীদের চিহ্নিত করতে হবে। সেই সঙ্গে অপরাধের নেপথ্যে থাকা উদ্দেশ্য খুঁজে বের করাও তদন্তের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
সভায় জিএমপি’র সীমাবদ্ধতা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, জনসংখ্যার তুলনায় পুলিশ সদস্যের সংখ্যা এখনও অপ্রতুল। এছাড়া যানবাহনের সংকট থাকায় টহল ও দ্রুত সাড়া দেয়ার ক্ষেত্রে অনেক সময় বাধার সৃষ্টি হয়। তবে এসব সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও পুলিশ সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্চে।
তিনি বলেন, জিএমপি নগরবাসীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। ‘আমাদের লক্ষ্য একটাই, নগরবাসী যেন দ্রুত ও কার্যকর পুলিশি সেবা পায়।’
সড়ক ব্যবস্থাপনা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে কমিশনার বলেন, গাজীপুর মেট্রোপলিটন এলাকায় নির্দিষ্ট বাস ও ট্রাক স্ট্যান্ড না থাকায় মহাসড়কের পাশে যত্রতত্র পার্কিং করা হচ্ছে। এর ফলে যানজট ও দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়ছে। তিনি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেয়ার আহ্বান জানান।
গণমাধ্যম কর্মীদের উদ্দেশে কমিশনার বলেন, সঠিক তথ্য প্রচার এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে সাংবাদিকদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি অপরাধ বিষয়ক সংবাদ প্রকাশে দায়িত্বশীলতা বজায় রাখার আহ্বান জানান এবং পুলিশের কার্যক্রমে সহযোগিতা কামনা করেন।
সভায় আরো উপস্থিত ছিলেন, অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম এন্ড অপারেশন) মোহাম্মদ তাহেরুল হক চৌহান, উপ পুলিশ কমিশনার (সদর ও অর্থ) মো. জাহিদ হোসেন ভূঞা, পি পি এম, উপ পুলিশ কমিশনার
(অপরাধ, দক্ষিণ বিভাগ) মোহাম্মদ মহিউদ্দিন আহমেদ, সহকারী পুলিশ কমিশনার (স্টাফ অফিসার টু পুলিশ কমিশনার) চৌধুরী মো. তানভীর।
এছাড়াও গাজীপুর প্রেসক্লাবের তত্ত্বাবধায়ক মণ্ডলীর সিনিয়র সদস্য ও দৈনিক দিনকালের সাংবাদিক মো. দেলোয়ার হোসেন, মুহাম্মদ হেদায়েত উল্লাহ, মো. রেজাউল বারী বাবুল, আমিনুল ইসলাম, মো. নাসির উদ্দিন, মো. শরিফুল ইসলাম শামিম, মো. খাইরুল ইসলাম, শাহ শামছুল হক রিপন, মো. ইজাজ আহমেদ মিলনসহ ইলেকট্রনিক ও প্রিন্ট মিডিয়ার অন্যান্য সাংবাদিকরা।