বাসস
  ২৫ মার্চ ২০২৬, ১৬:১২

হিলি স্থলবন্দরে গণহত্যা দিবসের আলোচনা 

ছবি: বাসস

দিনাজপুর, ২৫ মার্চ, ২০২৬ (বাসস) : দিনাজপুর হাকিমপুর উপজেলার হিলিতে ১৯৭১ সালর ২৫ মার্চ গণহত্যা ও ২৬ মার্চ মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস-যথাযোগ্য মর্যাদায় উদযাপন উপলক্ষে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বুধবার দুপুর দু’টায় দিনাজপুর হাকিমপুর উপজেলা পরিষদ সভাকক্ষে মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে ১৯৭১’র ২৫ মার্চ গণহত্যা ও ২৬ মার্চ স্বাধীনতা দিবসের অঅলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

জেলার হাকিমপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অশোক বিক্রম চাকমার সভাপতিত্ব আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

আলোচনা সভায় মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে ১৯৭১’র ২৫ মার্চ কাল রাত্রি ও ২৬ মার্চ মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস এর রচনা ও চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতার ব্যবস্থা ও প্রতিটি প্রতিষ্ঠান থেকে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট দপ্তরকে দ্বায়িত্ব দেয়া হয়। এছাড়া দ’ুটি জাতীয় দিবস যথাযথ মর্যাদায় পালনের লক্ষে বিভিন্ন কর্মসুচি গ্রহণ করা হয়। সভায় হিলি স্থলবন্দর মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে বিভীষিকাময় রাত্রি সীমান্ত বাসিদের মধ্যে আতঙ্কের স্মৃতি ও গণহত্যার বিষয় নতুন প্রজন্মকে অবহিত করতে সে সময় প্রত্যক্ষদর্শী বীর মুক্তিযোদ্ধা এবং স্বাধীনতাগামী মানুষের সৃতি থেকে এসব আলোচনা নতুন প্রজন্মের তরুণ ও যুবকদের সন্মুখে আলোকপাত করা হয়।

হাকিমপুর উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের কমান্ডার মো. লিয়াকত হোসেন বলেন,দিনাজপুর জেলার হিলি স্থলবন্দর একটি গুরুত্বপূর্ণ স্থান। এই স্থলবন্দর দিয়ে বাংলাদেশ ভারত এবং পার্শ্ববর্তী দেশ পাকিস্তানের লোকজন যাতায়াত করত। সে সময় পাক সেনারা পরিকল্পিতভাবে নিরীহ বাঙ্গালীদের ওপর হিলি সীমান্ত এলাকার গ্রাম গুলোতে ২৫ মার্চ ভয়াবহ রাতে অমানুষিক নির্যাতন চালিয়ে ছিল। তাদের নির্যাতনে অনেকেই মৃত্যুবরণ করেছে, আবার অনেকেই চিরতরে পঙ্গু হয়ে গেছে। ওই সময় নির্যাতনে যারা পঙ্গুত্ব বরণ করেছিল, তারা অনেকেই পরবর্তীতে শহীদ হয়েছেন। সে সময়ের স্মৃতি এখনো হিলি সীমান্তের মানুষ ভুলতে পারেনি।

তিনি বলেন ১৯৭১ এর ২৬ মার্চ বিএনপি’র প্রতিষ্ঠাতা সাবেক রাষ্ট্রপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা জিয়াউর রহমান এদেশে স্বাধীনতার ঘোষণার মধ্য দিয়ে বীর মুক্তিযোদ্ধারা পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে লাঠি-সোটা নিয়ে প্রথমে যুদ্ধ শুরু করে ছিলাম। ১৯৭১-এর ১১ ডিসেম্বর আমরা হিলিতে পাকিস্তানি বাহিনীদের বিতাড়িত করে স্বাধীনতার পতাকা উত্তোলিত করে ছিলাম। এটা আমরা আজ গর্বের শহীদ সকলের নিকট উপস্থাপন করছি। তিনি নতুন প্রজন্মের তরুণ-যুবকদের মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি ধারণ ও লালন করে আগামী দিনে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানান।

সভায় উপজেলা প্রাণীসম্পদ কর্মকর্তা মো. শাফিউল আলম, বীর মুক্তিযোদ্ধ মো. জয়নাল আবেদীন, উপজেলা বিএনপির সভাপতি মো. ফেরদৌস রহমান, হাকিমপুর থানার ওসি মো. জাকির হোসেন, একাডেমিক সুপারভাইজার সাখাওয়াত হোসেন, সহকারী শিক্ষা অফিসার রেজাউল ইসলাম হিলি প্রেসক্লাবের সভাপতি মো. গোলাম রব্বানীসহ সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি, শিক্ষক, সাংবাদিকসহ অনেকেই আলোচনায় অংশ গ্রহণ করেন।

সভায় সভাপতির বক্তব্যে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অশোক বিক্রম চাকমা জাতীয় কর্মসুচির আলোকে দিবস দু’টি পালনের জন্য বিভিন্ন কর্মসুচি পালনের সিদ্ধান্ত ঘোষণা করেন। তিনি স্বাধীনতা দিবসে সংশ্লিষ্ট সকলকে নিজ নিজ দায়িত্ব যথাযথভাবে পালনের আহ্বান জানানো হয়।