বাসস
  ১৭ এপ্রিল ২০২৬, ২০:৩১

সুন্দরবনে কোস্ট গার্ডের ‘অপারেশন ম্যানগ্রোভ শিল্ড’: ২ জেলে উদ্ধার

ছবি : বাসস

বাগেরহাট, ১৭ এপ্রিল, ২০২৬ (বাসস) : সুন্দরবনে পৃথক দু’টি অভিযানে দুর্ধর্ষ ডাকাত বড় জাহাঙ্গীর বাহিনীর হাতে জিম্মি ২ জেলেকে জীবিত উদ্ধার এবং অস্ত্র ও গোলাবারুদসহ কুখ্যাত দয়াল বাহিনীর এক সক্রিয় সদস্যকে আটক করেছে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড।

আজ সন্ধ্যায় কোস্ট গার্ড মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন বাসস’কে এই তথ্য জানান।
তিনি বলেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর প্রত্যক্ষ নির্দেশনায় সুন্দরবন অঞ্চলে সক্রিয় সকল বনদস্যুর বিরুদ্ধে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড কঠোর অবস্থানে রয়েছে। এর অংশ হিসেবে কোস্ট গার্ডের নেতৃত্বে ‘অপারেশন রেস্টোর পিস ইন সুন্দরবন’ এবং ‘অপারেশন ম্যানগ্রোভ শিল্ড’ নামে দু’টি বিশেষ অভিযান পরিচালিত হচ্ছে।

এরই ধারাবাহিকতায় ‘অপারেশন ম্যানগ্রোভ শিল্ড’-এর আওতায় সুন্দরবনের বিভিন্ন স্থানে পৃথক দু’টি সফল অভিযান চালানো হয়। এসব অভিযানে বড় জাহাঙ্গীর বাহিনীর হাতে জিম্মি থাকা একটি মাছ ধরার নৌকাসহ ২ জন জেলেকে জীবিত উদ্ধার করা হয় এবং দয়াল বাহিনীর এক সক্রিয় সদস্যকে অস্ত্র ও গোলাবারুদসহ আটক করা হয়।

তিনি আরও জানান, গত ১৫ এপ্রিল মোংলা থানাধীন জয়মনিঘোল এলাকার শুয়োরমারা খাল সংলগ্ন স্থানে মাছ ধরতে গিয়ে ২ জন জেলে বড় জাহাঙ্গীর বাহিনীর হাতে অপহৃত হন। ডাকাতরা তাদের জিম্মি রেখে মুক্তিপণ আদায়ের উদ্দেশ্যে নির্যাতন চালায়।

পরবর্তীতে গোয়েন্দা নজরদারির মাধ্যমে জিম্মিদের অবস্থান নিশ্চিত করে গতকাল বৃহস্পতিবার বিকাল ৪টায় কোস্ট গার্ড বেইস মোংলা কর্তৃক মুর্তি খাল সংলগ্ন এলাকায় একটি বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়।

অভিযান চলাকালে একটি কাঠের নৌকাসহ ২ জন জেলেকে জীবিত উদ্ধার করা হয়। এসময় কোস্ট গার্ডের উপস্থিতি টের পেয়ে ডাকাতরা জিম্মিদের ফেলে বনের ভেতরে পালিয়ে যায়।

অন্যদিকে, গোপন তথ্যের ভিত্তিতে জানা যায়, কুখ্যাত দয়াল বাহিনী শ্যামনগর থানাধীন হোগলডরা খাল সংলগ্ন এলাকায় অবস্থান করছে। প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে আজ শুক্রবার ভোর ৬টায় কোস্ট গার্ড স্টেশন কৈখালী কর্তৃক সেখানে একটি বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে।

অভিযান চলাকালে কোস্ট গার্ডের উপস্থিতি টের পেয়ে ডাকাতরা পালানোর চেষ্টা করলে আভিযানিক দল ধাওয়া করে ২টি একনলা বন্দুক ও ৯ রাউন্ড তাজা কার্তুজসহ দয়াল বাহিনীর এক সক্রিয় সদস্যকে আটক করে।

আটক ব্যক্তি তরিকুল (৩৫), খুলনা জেলার কয়রা থানার বাসিন্দা। তিনি দীর্ঘদিন ধরে দয়াল বাহিনীর সক্রিয় সদস্য হিসেবে ডাকাতির সঙ্গে জড়িত ছিলেন।

আটক দস্যু, জব্দকৃত অস্ত্র ও গোলাবারুদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ এবং উদ্ধার জেলেদের পরিবারের কাছে হস্তান্তরের কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

কোস্ট গার্ড কর্মকর্তা আরও বলেন, সুন্দরবনকে সম্পূর্ণ দস্যুমুক্ত করতে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান অব্যাহত রাখবে।