বাসস
  ২৪ মার্চ ২০২৬, ১৩:৪০

রংপুরে স্বাধীনতা দিবস উদযাপনে বর্ণাঢ্য কর্মসূচি

জেলায় স্বাধীনতা দিবস উদযাপনে বর্ণাঢ্য কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে। ছবি: বাসস

রংপুর, ২৪ মার্চ, ২০২৬ (বাসস) : প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন নবনির্বাচিত বিএনপি সরকারের আমলে প্রথমবারের মতো আগামী ২৬ মার্চ স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস-২০২৬ উদযাপনে রংপুরে বর্ণাঢ্য কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে।

জেলা প্রশাসন, রংপুর সিটি কর্পোরেশন (আরপিসিসি), বিএনপি ও এর সহযোগী সংগঠন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, সামাজিক-সাংস্কৃতিক এবং পেশাজীবী সংগঠনগুলো ইতোমধ্যে প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে।

সম্পূর্ণ গণতান্ত্রিক পরিবেশে এবারের উদযাপন বিশেষ তাৎপর্য বহন করছে। সর্বস্তরের মানুষ দিনব্যাপী কর্মসূচিতে অংশ নিতে প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

২৬ মার্চ রাত ১২টায় রংপুর পুলিশ লাইন্স মাঠে ৩১ তোপধ্বনির মাধ্যমে দিবসের সূচনা হবে।

সূর্যোদয়ের সঙ্গে সঙ্গে সব সরকারি, আধা-সরকারি, বেসরকারি ও গণপূর্ত ভবন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং অন্যান্য স্থাপনার শীর্ষে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হবে।

একই সময়ে নগরীর কালেক্টরেট সুরভী উদ্যানে ‘শহীদ মুক্তিযোদ্ধা স্মৃতিস্তম্ভে’ পুষ্পস্তবক অর্পণ করা হবে।

প্রথমে বিভাগীয় কমিশনার, রংপুর রেঞ্জ পুলিশের ডিআইজি, রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার, জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার ও জেলা পরিষদ প্রশাসক সেখানে পুষ্পস্তবক অর্পণ করবেন।

পরে বিএনপি ও এর সহযোগী সংগঠন, অন্যান্য রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ, বীর মুক্তিযোদ্ধা, সরকারি দপ্তর ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধান, ব্যবসায়ী সংগঠন, সুশীল সমাজ, পেশাজীবী এবং সাধারণ মানুষ শ্রদ্ধা নিবেদন করবেন।

সকাল ৯টায় শহীদ আবু সাঈদ স্টেডিয়ামে জাতীয় সংগীতের সঙ্গে আনুষ্ঠানিকভাবে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করবেন বিভাগীয় কমিশনার মো. শহিদুল ইসলাম ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

পরে তিনি স্কাউট, গার্লস গাইড এবং বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী ও শিশুদের কুচকাওয়াজ পরিদর্শন করবেন, সালাম গ্রহণ করবেন এবং তাদের প্রদর্শনী উপভোগ করবেন।

বেলা ১১টায় জেলা শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে বীর মুক্তিযোদ্ধা, শহীদ ও আহত মুক্তিযোদ্ধাদের পরিবার-পরিজনদের সংবর্ধনা দেওয়া হবে।

বেলা সাড়ে ১১টায় একই স্থানে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ এনামুল আহসানের সভাপতিত্বে মুক্তিযুদ্ধ ও স্বাধীনতা বিষয়ক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হবে।

জেলা শিশু একাডেমির উদ্যোগে নির্ধারিত সময়ে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিশুদের অংশগ্রহণে মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা আয়োজন করা হবে।

এদিন সিনেমা হলগুলোতে টিকিট ছাড়াই মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক চলচ্চিত্র প্রদর্শন করা হবে। এছাড়া স্কুল শিক্ষার্থীদের জন্য নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানের উন্মুক্ত স্থানে মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক তথ্যচিত্র দেখানোর ব্যবস্থা থাকবে।

শহীদ বীর মুক্তিযোদ্ধাদের আত্মার মাগফিরাত, আহত ও জীবিত মুক্তিযোদ্ধাদের সুস্বাস্থ্য এবং দেশের শান্তি, অগ্রগতি ও উন্নয়নের জন্য মসজিদ, মন্দির, প্যাগোডা, গির্জা ও অন্যান্য উপাসনালয়ে বিশেষ দোয়া ও প্রার্থনা করা হবে।

সব হাসপাতাল, জেল, শিশু পরিবার ও এতিমখানা, পথশিশু পুনর্বাসন কেন্দ্র, শিশু উন্নয়ন কেন্দ্র, শারীরিক প্রতিবন্ধীদের কল্যাণ কেন্দ্র, বয়স্কদের আশ্রয়কেন্দ্র, ভবঘুরে কেন্দ্র এবং শিশু ডে-কেয়ার সেন্টারে উন্নত মানের খাবার পরিবেশন করা হবে।

এছাড়া বাংলাদেশ বেতারের রংপুর কেন্দ্র বিশেষ অনুষ্ঠানমালা সম্প্রচার করবে। স্থানীয় দৈনিক ও অনলাইন সংবাদমাধ্যমগুলো দিবসের গুরুত্ব তুলে ধরে বিশেষ ক্রোড়পত্র প্রকাশ করবে।

বিএনপি ও এর সহযোগী সংগঠনের জেলা ও মহানগর শাখা, বীর মুক্তিযোদ্ধা, বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও সংগঠন, বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়সহ অন্যান্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠানও দিবসটি উপলক্ষে দিনব্যাপী কর্মসূচি গ্রহণ করেছে।