বাসস
  ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১১:০৯
আপডেট : ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১১:১৯

মেহেরপুরে সাইবার সুরক্ষা আইনে ক্যাসিনো চক্রের আসামি গ্রেপ্তার

জেলায় সাইবার সুরক্ষা আইনে ক্যাসিনো চক্রের আসামি গ্রেপ্তার । ছবি: বাসস

মেহেরপুর ২৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ (বাসস) : জেলায় অনলাইন জুয়া ও ক্যাসিনো চক্রের বিরুদ্ধে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযানে গ্রেপ্তার হয়েছেন সাইবার সুরক্ষা আইনে দায়ের করা মামলার প্রথম আসামি মুকুল ইসলাম (৩২)।

তিনি মুজিবনগর উপজেলার কোমরপুর গ্রামের মজিবুর রহমানের ছেলে। দীর্ঘদিন পলাতক থাকার পর সোমবার দিবাগত রাতে জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের অভিযানে তাকে আটক করা হয়।

ডিবি সূত্রে জানা গেছে, সম্প্রতি কার্যকর হওয়া সাইবার সুরক্ষা আইন ২০২৫-এর আওতায় মেহেরপুর জেলায় দায়ের হওয়া প্রথম মামলায় এজাহারভুক্ত ১৯ জনের মধ্যে অন্যতম ছিলেন মুকুল। অভিযোগ রয়েছে, জেলার বিভিন্ন এলাকায় সংগঠিত অনলাইন ক্যাসিনো ও জুয়ার নেটওয়ার্ক বিস্তারে তিনি সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছেন। মোবাইল অ্যাপ ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমকে ব্যবহার করে তরুণদের একটি বড় অংশকে এই অবৈধ কারবারে সম্পৃক্ত করার অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে।

সোমবার রাতে কোমরপুর গ্রামে অভিযান পরিচালনা করেন মেহেরপুর জেলা ডিবি পুলিশের ওসি মুহাদ্দিদ মোর্শেদ চৌধুরী। অভিযানের সময় মুকুলের কাছ থেকে একটি মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়েছে। ওই ফোনের ডিজিটাল ফরেনসিক পরীক্ষা চালিয়ে অনলাইন জুয়া বা অবৈধ লেনদেনের তথ্য-প্রমাণ পাওয়া গেলে তার বিরুদ্ধে নতুন মামলা দায়ের করা হবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

ডিবি’র ওসি মুহাদ্দিদ মোর্শেদ চৌধুরী জানান, সাইবার আইনে দায়ের হওয়া মামলার পলাতক আসামি হিসেবেই তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। জব্দকৃত ডিভাইস পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অনলাইন জুয়া ও সাইবার অপরাধের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আমাদের অভিযান অব্যাহত থাকবে।

তিনি জানান, মেহেরপুরে দীর্ঘদিন ধরেই অনলাইন ক্যাসিনো ও জুয়ার বিস্তার নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে। স্থানীয়ভাবে অনেকেই একে ‘অনলাইন জুয়ার রাজধানী’ বলেও আখ্যা দিয়েছেন। ইতোমধ্যে বিভিন্ন সময়ে বেশ কয়েকজনকে আটক করা হলেও মূল নেটওয়ার্ক ভাঙতে ধারাবাহিক অভিযান চালানো হচ্ছে। প্রযুক্তি নির্ভর অপরাধ দমনে এখন আরও কঠোর অবস্থানে রয়েছে প্রশাসন। সাইবার সুরক্ষা আইন কার্যকরের পর এটি জেলার প্রথম মামলা হওয়ায় বিষয়টি বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে। গ্রেপ্তার মুকুল ইসলামকে আজ মঙ্গলবার আদালতে সোপর্দ করার প্রস্তুতি চলছে।

এ ঘটনায় জেলার সাধারণ মানুষের মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা। তাদের প্রত্যাশা, ধারাবাহিক অভিযানের মাধ্যমে অনলাইন জুয়ার বিস্তার রোধ করে যুবসমাজকে এই অপরাধচক্রের কবল থেকে মুক্ত রাখা সম্ভব হবে।