বাসস
  ১৮ জানুয়ারি ২০২৬, ১১:৫৪

ফেনীতে ‘আন্ত:ধর্মীয় সম্প্রীতি : বাস্তবতা ও করণীয়’ শীর্ষক আঞ্চলিক সংলাপ অনুষ্ঠিত

‘আন্ত:ধর্মীয় সম্প্রীতি: বাস্তবতা ও করণীয়’ শীর্ষক এক আঞ্চলিক সংলাপ জেলায় অনুষ্ঠিত । ছবি: বাসস

ফেনী, ১৮ জানুয়ারি ২০২৬ (বাসস): ‘আন্ত:ধর্মীয় সম্প্রীতি: বাস্তবতা ও করণীয়’ শীর্ষক এক আঞ্চলিক সংলাপ জেলায় অনুষ্ঠিত হয়েছে। ‘সংঘাত নয়, শান্তি ও সম্প্রীতির বাংলাদেশ গড়ি’ প্রতিপাদ্য নিয়ে দি হাঙ্গার প্রজেক্ট বাংলাদেশ জেলা শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে গতকাল শনিবার এ সংলাপ আয়োজন করে। 

সংলাপ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) ফাতিমা সুলতানা। স্বাগত বক্তব্য দেন হাঙ্গার প্রজেক্টের এআইপি এস প্রকল্পের এরিয়া কো-অর্ডিনেটর রাসেল আহমেদ।

ইসলামিক ফাউন্ডেশনের সহকারী পরিচালক শাহাদাত উল্যাহর সভাপতিত্বে ও আবৃত্তি শিল্পী সৈয়দ আশ্রাফুল হক আরমানের পরিচালনায় সংলাপে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ইসলাম ধর্মের প্রতিনিধি কুঠিরহাট কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের খতিব মওলানা নুরুল করিম, হিন্দুধর্মীয় প্রতিনিধি নারায়ণ চন্দ্র চক্রবর্তী, খ্রিষ্টান ধর্মীয় প্রতিনিধি সুবীর সরকার দিলু, বৌদ্ধ ধর্মীয় প্রতিনিধি স্মৃতি রত্ম ভিক্ষু, পিস অ্যাম্বাসেডর নেটওয়ার্ক-এর জয়েন্ট কো-অর্ডিনেটর নাজনিন আক্তার নিপা ও কামরুল হাসান লিটন। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন পিস ফ্যাসিলিটেটর গ্রুপ (পিএফজি) এর পরশুরাম উপজেলার পিস অ্যাম্বাসেডর জোহরা আক্তার রুমা। ঘোষণাপত্র পাঠ করেন পিএফজি ফেনী সদর উপজেলার সদস্য জান্নাতুল ফেরদৌস মিতা।

অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) ফাতিমা সুলতানা বলেন, ‘বাংলাদেশ অসম্প্রদায়িক দেশ। সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম। পাশাপাশি হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিষ্টান ধর্মসহ সব ধর্মাবলম্বীদের মধ্যে সাম্প্রদায়িক  সম্প্রীতি বজায় রয়েছে। বাংলাদেশে একের পর এক রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট পরিবর্তন হয়েছে। কিন্তু আমাদের সহমর্মিতা ও সৌহার্দ্যের পরিবর্তন হয়নি।’ 

তিনি বলেন, ‘বর্তমান রাজনৈতিক মেরুকরণে এবং বিভিন্ন ধরনের তথ্যপ্রযুক্তির অপব্যবহারের কারণে ছোট ছোট কিছু বিষয় নিয়ে সংঘাত সৃষ্টি হয়। ব্যক্তিগত অপকথা, খারাপ কোনো উদ্দেশ্য, এমনকি অপরাজনীতির বশবর্তী হয়েও মানুষ সংঘাতে লিপ্ত হয়। তবে বৈচিত্র্যপূর্ণ এবং মর্যাদাপূর্ণ বাংলাদেশ গড়তে হলে এসব বন্ধ করতে হবে।’

মওলানা নূরুল করিম বলেন, ‘আমাদের বাংলাদেশে ধর্মী কোনো কোন্দল নেই। বিশেষ করে আমাদের ফেনী। ফেনী বড় মসজিদের পাশে মন্দির, জহিরিয়ার পাশে মন্দির কেউ কারো দ্বারা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে না। অনেকে রাষ্ট্রীয় স্বার্থ হাসিলের জন্য নিজেদের সংঘাতকে ধর্মীয় সংঘাত হিসেবে চালিয়ে দিতে চেষ্টা করেন। তাই আমরা যদি পূর্ণাঙ্গ ধর্মীয় জ্ঞান অর্জন করি তাহলে আমাদের দ্বারা ধর্মীয় বিভেদ সম্ভব নয়।’

নারায়ণ চন্দ্র চক্রবর্তী বলেন, ‘আমরা যদি আমাদের মানসিকতাকে পরিবর্তন করি এবং আমাদের সন্তানদের সুশিক্ষা দিতে পারি তাহলে তাদের মধ্যে নৈতিক দৃঢ়তা সৃষ্টি হবে। পরিবার থেকে সমাজ এবং সমাজ থেকে ধর্মীয় উপসনালয়ের এ বার্তা পৌঁছে দিতে হবে। উচ্চ শিক্ষার মাধ্যমে আমাদের সন্তানদের মধ্যে সম্প্রীতির সংস্কৃতি তৈরি করতে হবে।’ 

সুবীর সরকার দিলু বলেন, ‘আমাদের দেশে মসজিদের পাশে মন্দির রয়েছে এবং চার্চের পাশে মসজিদ রয়েছে। এটা তো সম্প্রীতির লক্ষণ। কিন্তু এ সম্প্রীতি বারবার বিনষ্ট হচ্ছে মনে করছি কেন? আমার ধর্মকে যদি আমি লালন করি, তাহলে আমার দ্বারা ধর্মীয় সম্প্রীতি বিনষ্ট হতে পারে না। কারণ আমরা পরস্পরকে ভালোবাসি। পরস্পরকে ভালোবাসলে সম্প্রীতি বিনষ্ট হয় না।’

স্মৃতি রত্ম ভিক্ষু বলেন, ‘আমরা সবাই এক। আমাদের সবাইকে মিলেমিশে থাকতে হবে। রক্তের বন্ধনের মত আমাদের একসাথে চলতে হবে।’

সংলাপের উন্মুক্ত আলোচনায় অন্যান্যের মধ্যে জেলা হাফেজ পরিষদ সভাপতি হাফেজ জাকির হোসেন মজুমদার, হিন্দু-বৌদ্ধ খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদ সভাপতি শুকদেব নাথ তপন, ব্যবসায়ী ও সমাজকর্মী আ.ন.ম আবদুর রহীম, পুরোহিত বিজয় চক্রবর্তী, অ্যাডভোকেট আবদুল ওয়াদুদ, অ্যাডভোকেট সরোয়ার হোসেন লাভলু এবং সাংবাদিক আরিফুর রহমান অংশ নেন। অনুষ্ঠান বাস্তবায়নে সার্বিক সমন্বয়কের দায়িত্ব পালন করেন প্রকল্পের ফিল্ড কো-অর্ডিনেটর খোদেজা বেগম।