বাসস
  ১৫ এপ্রিল ২০২৬, ১৩:৪৯
আপডেট : ১৫ এপ্রিল ২০২৬, ১৩:৫৭

গোপালগঞ্জে উচ্ছে চাষে আগ্রহ বাড়ছে কৃষকদের

চলতি বছর জেলায় ১৪৮ হেক্টর জমিতে উচ্ছের আবাদ হয়েছে। ছবি: বাসস

{লিয়াকত হোসেন লিংকন}

গোপালগঞ্জ, ১৫ এপ্রিল, ২০২৬ (বাসস) : উৎপাদন খরচের তুলনায় লাভ বেশি হওয়ায় গোপালগঞ্জে উচ্ছে চাষে আগ্রহ বাড়ছে কৃষকদের। উচ্ছে চাষ করে ভালো দাম পাওয়ায় কৃষকেদের মুখে হাসি ফুটেছে। 

কৃষি বিভাগ জানিয়েছে চলতি বছর জেলায় ১৪৮ হেক্টর জমিতে উচ্ছের আবাদ হয়েছে, যা গত বছর ছিল ১২৮ হেক্টর।

তাদের দাবি, স্বল্প সময়ে দীর্ঘ মেয়াদী ফসল উচ্ছে চাষ লাভজনক হওয়ায় কৃষকরা ঝুঁকছেন এ সবজি চাষে। মৌসুমের এখনও এক দেড় মাস বাকি রয়েছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে বৈশাখ মাসের শেষ পর্যন্ত উচ্ছে সংগ্রহ ও বিক্রি করতে পারবেন বলে জানিয়েছেন কৃষকরা।

গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার রঘুনাথপুর, সিলনা ও বারখাদিয়া এবং কাশিয়ানী উপজেলার সিংগা, হাতিয়াড়ায়, রাহুথড়ে ব্যাপকহারে উচ্ছে চাষ হয়েছে। ফলনও বেশ ভালো হয়েছে। এখানকার উৎপাদিত উচ্ছে জেলার চাহিদা মিটিয়ে রাজধানী ঢাকাসহ, খুলনা, মাগুরা, ঝিনাইদহ, ফরিদপুরে যাচ্ছে।

গোপালগঞ্জের সদর উপজেলার বারখাদিয়া গ্রামে গিয়ে দেখা গেছে, গ্রামজুড়ে উচ্ছের আবাদ। সবুজ পাতা আর হলদে ফুলের আড়ালে লুকিয়ে রয়েছে উচ্ছে আর উচ্ছে। ক্ষেত থেকে উচ্ছে সংগ্রহ করতে ব্যস্ত সময় পার করছেন চাষিরা।

কৃষকরা জানান, একবার গাছ লাগালে চার মাস উচ্ছে সংগ্রহ করা যায়। ভালো ফলন হলে প্রতি সপ্তাহে বিঘাপ্রতি প্রায় ৩০ মণ উচ্ছে তোলা যায়। বাজারে প্রতি মণ উচ্ছে ২ হাজার থেকে ২২শ’ টাকা দরে পাইকারী বিক্রি করছেন। মাসে এক বিঘা জমিতে লাখ টাকার উচ্ছে বিক্রি সম্ভব। ফলে উচ্ছে চাষে লাভবান হচ্ছেন কৃষকরা।

গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার বৌলতলী ইউনিয়নের বারখাদিয়া গ্রামের কৃষক দুলাল হীরা বাসস’কে জানান, তিনি এবছর এক বিঘা জমিতে উচ্ছে চাষ করেছেন। এতে তার ৪০ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। এ পর্যন্ত ৮০ হাজার টাকার উচ্ছে বিক্রি করেছেন তিনি। এখনও ক্ষেতে উচ্ছে রয়েছে এবং গাছে নতুন করে ফুল এসেছে। আরও প্রায় লক্ষাধিক টাকার উচ্ছে বিক্রি করতে পারবেন বলে আশাবাদী তিনি।

একই গ্রামের কৃষক রঞ্জিত ভক্ত বাসস’কে জানান, ৩০ শতক জমিতে উচ্ছে চাষ করেছেন তিনি। সব মিলিয়ে তার খরচ হয়েছে ২২ হাজার টাকা। পাইকারদের কাছে প্রতি কেজি উচ্ছে ৩৫ থেকে ৪০ টাকা কেজি দরে বিক্রি করছেন। এখন পর্যন্ত ৪৫ হাজার টাকা বিক্রি করেছেন। আরও ৫০ থেকে ৬০ হাজার টাকার উচ্ছে বিক্রি করতে পারবেন বলে তিনি আশাবাদী।

বারখাদিয়া বাজারের আড়তদার সমীর মজুমদার জানান, এখান থেকে প্রতিদিন ১০ থেকে ১৫ পিকআপ উচ্ছে রাজধানী ঢাকাসহ খুলনা, মাগুরা, ঝিনাইদহ, ফরিদপুরে পাঠানো হয়। এছাড়া পাইকাররা এসে এখান থেকে উচ্ছে কিনে নিয়ে যাচ্ছেন।

বৌলতলী ইউনিয়ন উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা রতন কুমার অধিকারী বাসস’কে জানান, বৌলতলী ইউনিয়নের প্রায় ২শতাধিক কৃষক উচ্ছে চাষের সঙ্গে জড়িত। কম খরচে অল্প পরিশ্রমে অধিক লাভ হওয়ায় কৃষকরা খুশি। বারখাদিয়া গ্রামের কৃষকরা দিন দিন উচ্ছে চাষে ঝুঁকছেন। আমরাও কৃষকদের উচ্ছে চাষে পরামর্শ দিয়ে আসছি।

গোপালগঞ্জ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক ড. মো. মামুনুর রহমান বাসস’কে বলেন, ‘কম খরচে বেশি লাভ হওয়ার কারণে কৃষকরা উচ্ছে চাষে ঝুঁকছেন। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তারা সব সময় কৃষকদের পরামর্শ ও সহযোগিতা দিয়ে যাচ্ছেন।’