বাসস
  ০২ জুন ২০২৬, ১৬:০৫

মুন্সীগঞ্জে ৩ হাজার ৩৬৪ হেক্টর জমিতে পাট চাষ 

ছবি : বাসস

মুন্সীগঞ্জ, ২ জুন ২০২৬ (বাসস) : চলতি পাট আবাদ মৌসুমে জেলায় ৩ হাজার ৩৬৪ হেক্টর জমিতে পাট আবাদ হয়েছে। গত মৌসুমের  চেয়ে এবার পাট আবাদি জমির পরিমাণ ৫১ হেক্টর বেশি। পাটের ন্যায্যমূল্য পাওয়ায় কৃষকেরা পাট চাষে আগ্রহী হচ্ছেন।

মুন্সীগঞ্জ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, চলতি পাট আবাদ মৌসুমে জেলায় পাট আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল ৩ হাজার ৩১৩ হেক্টর জমি। পাটের বাজার মূল্য ভালো থাকায় এ মৌসুমে জেলায় ৩ হাজার ৩৬৪ হেক্টর জমিতে পাট আবাদ হয়েছে । এর মধ্যে মুন্সীগঞ্জ সদরে ৫৬১ হেক্টর , টংগিবাড়ীতে ৭৭৪ হেক্টর , শ্রীনগরে ২৩০ হেক্টর , সিরাজদিখানে ১ হাজার ১২৭ হেক্টর, লৌহজংয়ে ৫২০ হেক্টর এবং গজারিয়ায় ১৫২ হেক্টর জমিতে পাট আবাদ হয়েছে। গত মৌসুমে জেলায় পাট আবাদ হয়েছে ৩ হাজার ৩১৩ হেক্টর জমিতে। এ মৌসুমে উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৩৪ হাজার ৩০৫ বেল।

সদর উপজেলার বাংলাবাজার এলাকার পাট চাষি আলম মোল্লা বাসকে বলেন, ১০ গন্ডা জমিতে পাট আবাদ করেছি। বাজারে পাটের চাহিদা থাকায় এবং মূল্য ভালো থাকায় পাট চাষ লাভজনক হয়ে উঠেছে। তিনি জানান, পাট চাষে সবচেয়ে বেশি অসুবিধায় পড়তে হয় পাট জাঁক (পাটের আঁশ ছাড়ানোর জন্য পানিতে ভিজিয়ে রেখে পাট গাছ পচানোর প্রক্রিয়া) দিতে। জমিতে পানি না থাকায় কুচুরি পানা দিয়ে ঢেকে রাখতে হয়। এতে খরচ বেশি পরে। 

পাটচাষি কামাল ব্যাপারী বলেন, আগে পাট নেওয়ার জন্য লোক পাওয়া যেতো না। এখন পাটখড়ির চাহিদাও অনেক বেশি। পাট খড়ির ৩ ভাগের ২ ভাগ শ্রমিককে দিয়ে পাট নিতে হয়। গত বছর পাটের মূল্য ছিল মণ প্রতি ৩ হাজার টাকা। এর আগে পাটের মূল্যই ছিল না । বাজারেও চাহিদা ছিল না। 

মুন্সীগঞ্জ জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক কৃষিবিদ ড. মো. হাবিবুর রহমান বাসসকে বলেন, পাটের বাজার মূল্য বেশি থাকায় কৃষক পাট চাষে আগ্রহী হচ্ছে। উন্নত জাতের পাট ‘জেআরও ৫২৪’ চাষে কৃষকদের উদ্বুদ্ধ করা হচ্ছে। 

তিনি বলেন, এই পাট গাছের শাখা-প্রশাখা কম থাকায় পাটের আঁশ উন্নতমানের হয়। পাট গাছ থেকে আঁশ ছাড়াতে আঁেশর কোন ক্ষতি হয় না। গুণগত মান ভালো থাকে। কৃষকদের পাট চাষে উদ্বুদ্ধ করতে জেলায় ৬০০ জন পাট চাষি প্রত্যেককে প্রণোদনা হিসেবে ১ কেজি বীজ ও ৫ কেজি করে এমওপি এবং ডিএপি সার প্রদান করা হয়েছে।