বাসস
  ২৪ মে ২০২৬, ১৯:২৭

ফেনীতে এক মাঠে ৬৭ জাতের ধানের আবাদ

ছবি: বাসস

মোহাম্মদ শাহাদাত হোসেন

ফেনী, ২৪ মে ২০২৬ (বাসস): জেলার শহরতলির একটি মাঠে ৬৭ জাতের হাইব্রিড ও ইনব্রেড ধানের আবাদ করা হয়েছে| এসব ধানের পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য এ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। 

জেলার সদর উপজেলার পাঁচগাছিয়া ইউনিয়নের উত্তর ও দক্ষিণ কাশেমপুরের প্রায় ২০ একর জমিতে এই পরীক্ষা চলছে| জাতীয় পদকপ্রাপ্ত সহকারী কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা (অব.) মো. আজিজুল হক এ প্রকল্পটি পরিচালনা করছেন| বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট ও বীজ প্রত্যয়ন অধিদপ্তর এ প্রকল্পের তদারকি ও প্রযুক্তি সহায়তা দিচ্ছে।  

মো. আজিজুল হক জানান, ২০২৪ সাল থেকে তিনি কাশেমপুর গ্রামের বিস্তীর্ণ মাঠে নতুন ধানের জাত পরীক্ষা ও বীজ উৎপাদনের প্রকল্প পরিচালনা করে আসছেন| তিনি এই প্রকল্প থেকে উৎপাদিত বীজ সরকার অনুমোদিত ‘ফেনী স্মার্ট কৃষি’ নামে বাজারজাত করে থাকেন।

তিনি জানান, চলতি বোরো মৌসুমে মাঠের ১৬২টি প্লটে হাইব্রিড ৫৪ জাতের ধান আবাদ করছেন| অন্যদিকে বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটের ৩৯ প্লটে পরীক্ষাধীন ১৩টি জাতের ধান আবাদ করেন| ৪ একর জমিতে বীজ উৎপাদনের জন্য ব্রি অনুমোদিত সর্বশেষ জাতসমূহের মধ্যে লবণ এবং জলবায়ু সহনশীল ব্রি-১১৭ জাতের ধান, ৪ একর জমিতে পোকা-মাকড় ও রোগ-বালাই সহনশীল ব্রি-১১৪ জাতের ধান, ৪ একর জমিতে প্রোটিন সমৃদ্ধ ব্রি-১০৮ জাতের ধান, ৩ একর জমিতে জিংক সমৃদ্ধ ব্রি-১০২ জাতের ধান, ১ একর জমিতে ডায়াবেটিক প্রতিরোধী ব্রি-১০৫ জাতের ধান এবং ১ একর জমিতে ক্যান্সার প্রতিরোধী ব্রি-১১৫ (ব্র্যাক রাইস) আবাদ করা হয়| এছাড়া আরো ৩ একর জমিতে হাইব্রিড ধানের বীজ উৎপাদনের জন্য আবাদ করা হয়।

দেশের কৃষি বিজ্ঞানী ও ধান বিজ্ঞানীগণ নিয়মিত এই প্রকল্প তদারকি করেন| উল্লিখিত ২০ একর জমিতে প্রায় ৬০ মেট্রিক টন ধান উৎপাদন হয়| বীজ বপন থেকে কর্তন পর্যন্ত ১৩৫ থেকে ১৫০ দিন সময় প্রয়োজন হয়।

মো. আজিজুল হক জানান, ২০১৯ সালে সরকারি চাকরি থেকে অবসর নেয়ার পরও কৃষি উৎপাদন বাড়াতে ও কৃষি আবাদে উৎসাহ জোগাতে তিনি প্রান্তিক কৃষকদের নানাভাবে উৎসাহ জোগাচ্ছেন| তার এই প্রকল্প দেখতে ফেনী ও আশপাশের এলাকার শতশত কৃষক এই মাঠে ছুটে আসেন| তিনি তাদের হাতে কলমে উন্নত কৃষি প্রযুক্তি ও উদ্ভাবন সম্পর্কে পরামর্শ দিয়ে থাকেন| বিগত আমন মৌসুমে ফেনী স্মার্ট কৃষির উৎপাদিত ব্রি-১১০ জাতের বীজ ধান ১০ কেজি করে ৫শত কৃষকের মধ্যে বিতরণ করেন| যাতে করে কৃষকরা অল্প জমিতে বেশি উৎপাদন করে দেশের খাদ্য চাহিদা পূরণে আগ্রহী হন|

তিনি বলেন, দেশের ৮টি গবেষণা কেন্দ্রে হাইব্রিড ও ইনব্রেড ধানের জাত পরীক্ষা করা হয়| চট্টগ্রাম বিভাগের গবেষণা কেন্দ্রটি ফেনীর কাশেমপুরে।

ফেনী বীজ প্রত্যয়ন অধিদপ্তর-এর কর্মকর্তা মো. মমিনুল ইসলাম বলেন, কাশেমপুরের এই প্রকল্পটিতে তারা নিয়মিত তদারকি ও প্রযুক্তিগত সহায়তা দিয়ে থাকেন। পোকা-মাকড়ের আক্রমণ কিংবা ধান উৎপাদন কেমন হচ্ছে এসব বিষয়ে তারা নিয়মিত নজর রাখেন।