বাসস
  ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২১:৩৬

প্রাতিষ্ঠানিক রূপ পেতে যাচ্ছে কুড়িগ্রাম কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়

কুড়িগ্রাম, ৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ (বাসস) : প্রতিষ্ঠার প্রায় পাঁচ বছর পর প্রাতিষ্ঠানিক রূপ পেতে এগিয়ে যাচ্ছে কুড়িগ্রাম কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়।

২০২১ সালের ২২ ডিসেম্বর যাত্রা শুরু করলেও নানা চড়াই-উৎরাই পেরিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়টির একাডেমিক কার্যক্রম শুরু হয় ২০২৪ সালে। বর্তমানে তিনটি ব্যাচে মোট ২৪০ জন শিক্ষার্থী নিয়ে চলছে এর পাঠদান।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে কৃষি ও মৎস্য—এই দুটি অনুষদের কার্যক্রম চালু রয়েছে। শিক্ষার্থীদের উচ্চশিক্ষার সুযোগ সম্প্রসারণে নতুন অনুষদ চালুর প্রক্রিয়া চলমান।

এ ছাড়া দুটি গবেষণা ইনস্টিটিউটের কার্যক্রমও দ্রুত শুরু করার প্রস্তুতি চলছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্বিক অগ্রগতি নিয়ে উপাচার্য অধ্যাপক মুহাম্মদ রাশেদুল ইসলাম বাসসকে বলেন, প্রতিষ্ঠার পর ২০২৪ সাল পর্যন্ত তৎকালীন প্রশাসন একাডেমিক কার্যক্রম শুরু করতে পারেনি। আমি দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রাতিষ্ঠানিক গতি ফেরাতে ৪০ জন করে দুটি অনুষদে মোট ৮০ জন শিক্ষার্থী নিয়ে প্রথম ব্যাচের শিক্ষা কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে।

শিক্ষার্থীদের আবাসন সংকটের কথা বিবেচনা করে একটি ছাত্রনিবাস ও একটি ছাত্রীনিবাস ভাড়া নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি হাতে-কলমে শিক্ষা নিশ্চিত করতে বিশ্ববিদ্যালয় ও সংশ্লিষ্ট অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের সমঝোতা স্বাক্ষর হয়েছে।

কুড়িগ্রামের ভৌগোলিক বৈশিষ্ট্যের বিষয়টি উল্লেখ করে উপাচার্য আরও বলেন, এ অঞ্চলের একটি বড় অংশ চরাঞ্চল, যা কৃষির জন্য অত্যন্ত সম্ভাবনাময়। তাই শিক্ষার্থীদের মাঠপর্যায়ে নিয়ে গিয়ে কৃষির বিভিন্ন বিষয়ে ব্যবহারিক শিক্ষা দেওয়া হচ্ছে। এতে শ্রেণিকক্ষের বাইরে বাস্তব কৃষি সম্পর্কে ধারণা অর্জনের সুযোগ পাচ্ছেন তারা।

তৃতীয় ব্যাচের জন্য একাডেমিক ও ল্যাব সুবিধা বাড়াতে ইউজিসির কাছে আবেদন করা হয়েছিল। ইতোমধ্যে ইউজিসির প্রতিনিধিদল পরিদর্শন করে আরও দুটি ভবন ভাড়া নেওয়ার সম্ভাব্যতা যাচাই করেছে।

বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকসহ অস্থায়ীভাবে ৩০ জন এবং আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে ১৮ জন কর্মী নিয়োজিত রয়েছেন। খুব দ্রুত স্থায়ী জনবল নিয়োগের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলেও জানান উপাচার্য। ইতোমধ্যে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি দৈনিক সংবাদপত্রে প্রকাশিত হয়েছে।

ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, উত্তরাঞ্চলে কৃষি হাব গড়ে তোলার যে পরিকল্পনা রয়েছে, সেখানে দক্ষ জনবল তৈরিতে এই বিশ্ববিদ্যালয় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। সেই লক্ষ্যেই আমরা ব্যবহারিক শিক্ষার ওপর সর্বাধিক গুরুত্ব দিচ্ছি।

এদিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ও একাডেমিক কার্যক্রম আরও বেগবান করতে উপ-উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রখ্যাত কীটতত্ত্ববিদ ড. নুর মহল আক্তার বানু। সব মিলিয়ে শিক্ষা, আবাসন ও অবকাঠামোগত প্রসারের মাধ্যমে কুড়িগ্রাম কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় এখন একটি পূর্ণাঙ্গ বিদ্যাপীঠ হওয়ার পথে।