বাসস
  ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২২:২২

নীলফামারীতে সারের সরবরাহ স্বাভাবিক, সময়ের মধ্যে আমন আবাদের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন

ছবি : বাসস

নীলফামারী, ৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ (বাসস) : জেলায় সারের সরবরাহ স্বাভাবিক থাকায় সময়ের মধ্যে আমন আবাদের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন হয়েছে। আজ মঙ্গলবার পর্যন্ত আমন চারা রোপণ হয়েছে ১ লাখ ১৩ হাজার ২০৫ হেক্টর জমিতে।

জেলা কৃষি বিভাগ সূত্র জানায়, এবার ১ লাখ ১৩ হাজার ২২০ হেক্টর জমিতে আমন আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল। এর বিপরীতে মঙ্গলবার পর্যন্ত রোপণ হয়েছে ১ লাখ ১৩ হাজার ২০৫ হেক্টরে। 

এ জেলায় কৃষি জমির পরিমাণ ১ লাখ ২৪ হাজার ৩৯৬ হেক্টর। অবশিষ্ট জমিতে শাকসবজীসহ অন্যান্য মসলা জাতীয় ফসল চাষ হচ্ছে। এ জেলার কৃষক পরিবারের সংখ্যা ৫ লাক ২৮ হাজার ৪ জন।

জেলায় চলতি আমনসহ অন্যান্য ফসলে ব্যবহারের জন্য গত আগস্ট মাসে সারের চাহিদা ছিল ইউরিয়া ৬ হাজার ৩৭৯ মেট্রিকটন, টিএসপি ৫৮৮ মেট্রিকটন, ডিএপি ১ হাজার ৮৬১ মেট্রিকটন, এমওপি ১ হাজার ৯৬৮ মেট্রিকটন। চাহিদার অনুকূলে শতভাগ সরবরাহ পাওয়া গেছে। 

অপরদিকে, সেপ্টেম্বর মাসে ইউরিয়া ৩ হাজার ১৫৬. টিএসপি ২২০, ডিএপি ২০০৮ এমওপি ১ হাজার ৭৭ মেট্রিকটন চাহিদার বিপরীতে শতভাগ বরাদ্দ মিলেছে। এসব বরাদ্দ থেকে কৃষকদের মাঝে বিতরণের পর মঙ্গলবার পর্যন্ত মজুদ রয়েছে ইউরিয়া ১ হাজার ৯১৬, টিএসপি ৮৯, ডিএপি ৭০০, এমওপি ৫৯০ মেট্রিকটন। 

এ জেলায় সারের ডিলার রয়েছে ২০৬ জন। এর মধ্যে সদর উপজেলায় ৪৪, সৈয়দপুরে ৩৪, ডোমারে ৩১, ডিমলায় ৩২, জলঢাকায় ৩৫ এবং কিশোরগঞ্জ উপজেলায় ৩০ জন। এসব ডিলারের মাধ্যমে সার বিতরণ কার্যক্রম স্বাভাবিক রয়েছে।

মঙ্গলবার দুপুরে জেলা সদরের পলাশবাড়ি বাজারের সার ডিলার মেসার্স পোদ্দার ব্রাদার্সে গিয়ে সার বিতরণের স্বাভাবিক কার্যক্রম লক্ষ্য করা গেছে। সেখানে মালিকসহ কর্মচারীরা সার বিতরণের জন্য প্রস্তুত থাকলেও প্রায় ঘণ্টাব্যাপী অবসান করেও সার ক্রয়ের জন্য কোনো কৃষকের দেখা মেলেনি। 

এসময় পোদ্দার ব্রাদার্সের স্বত্বাধিকারী নিশিত কুমার পোদ্দার জানান, সকাল থেকে বেলা পৌনে তিনটা পর্যন্ত তার পয়েন্টে ১০ জন কৃষক সার সংগ্রহ করেছেন। এসময় সকলের যৌক্তিক চাহিদা পূরণ করা হয়েছে।

তিনি জানান, গত আগস্ট মাসে ৫০ কেজি ওজনের টিএসপি ৬৭ বস্তা, ইউরিয়া ১ হাজার ৮২০ বস্তা, পটাশ ২২৩ বস্তা, ড্যাপ ১৮৭ বস্তা এবং সেপ্টেম্বর মাসে টিএসপি ২৩ বস্তা, পটাশ ১২৪ বস্তা, ড্যাপ ২৩৮ বস্তা, ইউরিয়া ৯২০ বস্তা সরবরাহ পেয়েছেন। 

এসবের মধ্যে প্রতি কৃষকের মাঝে ইউরিয়া ২ বস্তা এবং অন্যান্য সার ১ বস্তা করে বিতরণ করছেন। বর্তমানে আমনের জমিতে প্রয়োজন না থাকলেও কৃকদের মাঝে টিএসপির চাহিদা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। অজ্ঞতার কারণে ফসল লাগানোর পরেও কৃষক জমিতে টিএসপি প্রয়োগ করতে চায়।

তিনি বলেন, আমার পয়েন্টে মজুদ স্বভাবিক আছে। কোনো কৃষক সার নিতে এসে ফেরৎ যায়নি এ পর্যন্ত। তবে আগের তুলনায় কৃষির নিবিরতা বেড়েছে কিন্তু বরাদ্দ আগের মতোই আছে। কৃষির নিবিরতা অনুযায়ী সুষম বরাদ্দ এবং ডিলারদের মাঝে বন্টন এখন সময়ের দাবি হয়ে উঠেছে।

জেলা সদরের ইটাখোলা ইউনিয়নের কৃষক রমজান আলী (৫০) এবার আমন আবাদ করেছেন তিন বিঘা জমিতে। তিনি বলেন, সময়ের মধ্যে সার কিনে জমিতে প্রয়োগ করতে পেরেছি। এজন্য কোনো ধরনের হয়রানি হয়নি। তবে চারা লাগানোর ২২ দিনের মাথায় টিএসপি সারের প্রয়োজন ছিল। বাজারে বাংলা টিএসপি পাওয়া যাচ্ছে না। তবে একই সার অন্যান্য কোম্পানির পাওয়া যাচ্ছে।

আমন চারা লাগানোর আগে টিএসপি সার ব্যবহার করেছেন তিনি। এখন ওই জমিতে টিএসপির প্রয়োজন আছে কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে বলেন, না হলেও চলবে, কিন্তু হলে ফসল ভালো হয়।

এ বিষয়ে নীলফামারী কৃষি সম্প্রসারণ দপ্তরের উপ-পরিচালক মোছা. হুমায়রা মন্ডল বাসসকে বলেন, সার সংকটের কথা কারা বলছেন, কেন বলছেন সেটি খুঁজে দেখতে হবে। মাঠ পর্যায়ে দেখলে এর বাস্তব প্রতিফলন নেই। এ জেলায় সারের কোনো সংকট নেই, ডিলার পয়েন্টে বেশি দামে বিক্রির কোনো ঘটনা নেই।

তিনি বলেন, কৃষকদের ভ্রান্ত ধারণা রয়েছে জমিতে বেশি সার দিলে বেশি ফলন হবে। এজন্য আমরা মাঠ পর্যায়ে কাজ করছি। আমরা টিএসপি সার একবারই প্রয়োগ করতে বলি। অনেক কৃষক সেটি বুঝে না। এছাড়া টিএসপি, ড্যাপ এবং ডিএসপি একই সার। বাজারে টিএসপি কম থাকলেও পর্যাপ্ত ড্যাপ এবং ডিএসপি সার রয়েছে। এসব সারের প্রতিটির গুণগত মান একই। কৃষকদের সচেতনতা বাড়াতে উঠান বৈঠক, কৃষক সমাবেশ এবং কৃষক মাঠ স্কুলে আলোচনা অব্যাহত আছে। আমন মৌসুমে সারের পর্যাপ্ত সরবরাহ থাকায় সময়ের মধ্যে লক্ষ্যমাত্রা অর্জন হয়েছে এবং ভালো ফলনের আশা করা যাচ্ছে বলে তিনি জানান।