শিরোনাম

ঢাকা, ৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ (বাসস) : দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা শক্তিশালী করতে সরকার নানা ধরনের উদ্যোগ নিচ্ছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর।
তিনি বলেন, সরকার জ্বালানি নিরাপত্তা শক্তিশালী করতে বিভিন্ন উদ্যোগে নিচ্ছেন। এরই অংশ হিসেবে মাতারবাড়ীতে স্থলভিত্তিক রিগ্যাসিফিকেশন ইউনিট স্থাপন এবং সমুদ্রের গ্যাস ব্লকে অনুসন্ধান করা হচ্ছে।
মঙ্গলবার রাজধানীর ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘বাংলাদেশের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের বর্তমান পরিস্থিতি এবং ভবিষ্যৎ করণীয়’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন।
সেমিনারটির আয়োজন করে ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের সেন্টার ফরএনার্জি অ্যান্ড লজিস্টিকস (সিইএল)।
সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ইনস্টিটিউট ফর এনার্জি ইকোনমিকস অ্যান্ড ফিন্যান্সিয়াল অ্যানালাইসিসের বাংলাদেশ বিষয়ক প্রধান জ্বালানি বিশ্লেষক শফিকুল আলম। তিনি বলেন, আমদানি নির্ভর ও ডলারে মূল্য নির্ধারিত জীবাশ্ম জ্বালানি বর্তমানে দেশের জ্বালানিখাতের অন্যতম প্রধান চ্যালেঞ্জ।
তিনি জানান, দেশে বিদ্যুতের সর্বোচ্চ চাহিদা ১৯ হাজার ২৭ মেগাওয়াটে পৌঁছেছে।
দ্বিতীয় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন কনটেইনার কোম্পানি অব বাংলাদেশ লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আহামেদুল করিম চৌধুরী। তিনি জ্বালানি নিরাপত্তাকে একটি লজিস্টিকস চ্যালেঞ্জ হিসেবে তুলে ধরেন এবং উৎপাদক থেকে ভোক্তার কাছে জ্বালানি পৌঁছে দেওয়ার পুরো ব্যবস্থাপনা নিয়ে আলোচনা করেন।
তিনি এলএনজি ও পেট্রোলিয়াম সরবরাহ ব্যবস্থার বিভিন্ন দিক এবং এ খাতের অবকাঠামোগত প্রস্তুতি নিয়ে আলোচনা করেন। পাশাপাশি তিনি জ্বালানি খাতের সক্ষমতা নিশ্চিতে বৈচিত্র্য, বিকল্প ব্যবস্থা, মজুত সক্ষমতা, সংযোগ, তথ্যপ্রবাহ এবং সমন্বয়ের গুরুত্ব তুলে ধরেন।
পরে ছয় জন আলোচকের অংশগ্রহণে একটি প্যানেল আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।
বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক এবং সিইএলের অ্যাডভাইজরি কাউন্সিলের সদস্য অধ্যাপক ড. আব্দুল হাসিব চৌধুরী বাংলাদেশের দীর্ঘমেয়াদি জ্বালানি পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা করেন।
এমজেএল বাংলাদেশ লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক, ইস্ট কোস্ট গ্রুপের চেয়ারম্যান এবং সিইএলের অ্যাডভাইজরি কাউন্সিলের সদস্য আজম জে চৌধুরী বর্তমান সংকট মোকাবিলা এবং সংশ্লিষ্ট খাতগুলোর দ্রুত সংস্কার বিষয়ে কথা বলেন।
ওফানিক্স অ্যানালিটিকসের অ্যাক্টিং চিফ টেকনোলজি অফিসার এবং সিইএল ফেলো ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব অনলাইনে যুক্ত হয়ে দেশের বিদ্যুৎ ঘাটতি এবং সমন্বিত জ্বালানি পরিকল্পনার অভাব নিয়ে বক্তব্য দেন।
ইউনাইটেড ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির সেন্টার ফর এনার্জি রিসার্চের ডিরেক্টর শাহরিয়ার আহমেদ চৌধুরী নবায়নযোগ্য জ্বালানির সম্ভাবনা ও চ্যালেঞ্জ নিয়ে আলোচনা করেন।
ব্র্যাক বিজনেস স্কুলের প্রফেসর এবং সিইএল ফেলো ড. সেবাস্টিয়ান গ্রোহদেশের প্রায় ৬০ লাখ বৈদ্যুতিক তিন চাকার যানবাহনকে কীভাবে সম্ভাবনাময় বিদ্যুৎ সম্পদ হিসেবে গড় তোলা যায় সে বিষয়ে বক্তব্য দেন।