বাসস
  ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২১:৩১

খুলনায় খোলা তেল বন্ধে নো ট্রানজেকশন নীতির আহ্বান

ছবি : বাসস

খুলনা, ৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ (বাসস) : বাজারে খোলা তেল বিক্রি বন্ধ করতে শুধু প্রশাসনিক অভিযান নয়, প্রয়োজন ভোক্তা ও ব্যবসায়ীদের সম্মিলিত প্রতিরোধ। 

ব্যবসায়ীরা খোলা তেল বিক্রি করবেন না, ভোক্তারাও তা কিনবেন না-নো ট্রানজেকশন নীতি কার্যকর করতে পারলেই বাজার থেকে খোলা তেল তুলে দেওয়া সম্ভব বলে মনে করেন কনজুমার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) সভাপতি এ এইচ এম সফিকুজ্জামান। 

তার মতে, অনিরাপদ ড্রামে তেল সংরক্ষণ ও খোলা তেল বিক্রির কারণে ভোক্তার সঙ্গে প্রতারণার পাশাপাশি বাড়ছে জনস্বাস্থ্যের ঝুঁকি।

আজ রোববার সকালে খুলনা সিটি কর্পোরেশনের (কেসিসি) শহীদ আলতাফ মিলনায়তনে খোলা তেল ও অনিরাপদ ড্রামের ব্যবহার বন্ধে আয়োজিত অ্যাডভোকেসি সভায় তিনি এসব কথা বলেন। 

ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন অব বাংলাদেশের সহযোগিতায় ক্যাব খুলনা জেলা কমিটি এ সভার আয়োজন করে।

ক্যাব সভাপতি সফিকুজ্জামান আরও বলেন, প্রচলিত আইন অনুযায়ী ভোজ্যতেল প্যাকেটজাত অবস্থায় বিক্রি এবং ভিটামিন এ সমৃদ্ধকরণ বাধ্যতামূলক। কিন্তু খোলা তেল বিক্রির ক্ষেত্রে এসব বিধান মানা হচ্ছে না। এমনকি খোলা পাম তেলকে সয়াবিন তেল হিসেবে বিক্রি করে অতিরিক্ত মুনাফা করার অভিযোগ রয়েছে।

তিনি বলেন, ঘরে প্যাকেটজাত তেল ব্যবহার করলেও ভোক্তা পুরোপুরি নিরাপদ নন। হোটেল-রেস্তোরাঁসহ বিভিন্ন খাদ্যপণ্যে কোন ধরনের তেল ব্যবহার করা হচ্ছে, তা নিশ্চিত হওয়ার সুযোগ অনেক ক্ষেত্রেই নেই। ফলে খোলা তেলের ব্যবহার বন্ধে ভোক্তা সচেতনতার পাশাপাশি ব্যবসায়ীদেরও দায়িত্বশীল হতে হবে।

ক্যাব সভাপতি বলেন, খোলা তেল বন্ধে সিটি কর্পোরেশন, প্রশাসন, বিএসটিআই, নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ, জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান ও সামাজিক সংগঠনকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। 

তিনি প্রত্যাশা করেন, কয়েক মাসের মধ্যে খুলনা সিটি করপোরেশনকে দেশের প্রথম খোলা তেলমুক্ত সিটি করপোরেশন ঘোষণা করা সম্ভব হবে।

সভায় কেসিসি প্রশাসক মো. নজরুল ইসলাম মঞ্জু বলেন, জনস্বার্থ ও মানুষের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় ভেজাল নিয়ন্ত্রণকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিতে হবে। আইন বাস্তবায়নে সরকারকে আরও কঠোর হতে হবে। ব্যবসায়ীরা জনগণকে জিম্মি করবে বা সরকারকে জিম্মি করবে-এটি আর মেনে নেওয়া সম্ভব নয়।

তিনি বলেন, খোলা তেল ও খোলা খাবার বর্জনে সামাজিক আন্দোলন জোরদার করতে হবে। ব্যবসায়ীদেরও খোলা তেল দিয়ে খাবার তৈরি না করার বিষয়ে উদ্বুদ্ধ করা প্রয়োজন। জনগণকে সচেতন করার পাশাপাশি কেসিসি, জেলা প্রশাসন, ভোক্তা অধিকার, ব্যবসায়ী সমিতি ও চেম্বারকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।

নজরুল ইসলাম মঞ্জু আরও বলেন, আইন হয়েছে, এখন স্থানীয়ভাবে সেটি বাস্তবায়নের জন্য সংশ্লিষ্ট সব সংস্থাকে নিয়ে দ্রুত বৈঠক করে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হবে।

সভায় ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশনের ডা. আলিভা হক পাওয়ার পয়েন্ট উপস্থাপনা করেন। জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর খুলনার উপ-পরিচালক মোহাম্মদ সেলিম, ক্যাব খুলনা জেলা কমিটির সহসভাপতি অ্যাডভোকেট কুদরত-ই-খুদা, সাধারণ সম্পাদক এম. নাজমুল আজম ডেভিডসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রতিনিধিরা এ সময় উপস্থিত ছিলেন।